কণ্ঠের ক্যানভাস:
(আবৃত্তি কুঞ্জ)
দিনলিপির ধূসর পাতায় যখন জমেছে ধুলো,
অভ্যস্ত কোলাহলে হারিয়ে গেছে শব্দগুলো—
তখন এক চিলতে রোদ্দুর হয়ে এলো এই আঙিনা,
যেখানে সুরের ভাঁজে লুকানো থাকে চেনা-অচেনা।
এই তো আমাদের আশ্রয়, আমাদের প্রাণের মঞ্চ,
শব্দের কারুকাজে সাজানো— 'আবৃত্তি কুঞ্জ'।
আমরা যারা সংসারী মায়ার ঘেরাটোপে বন্দি,
সময়ের সাথে লড়ি রোজ অদ্ভুত এক ফন্দি;
ভুলে গেছি স্পষ্ট উচ্চারণে বুক ভরে শ্বাস নিতে,
ভুলে গেছি বুক চিরে আসা শব্দের জোয়ারে ভাসতে।
এখানে এলে শৈশব ফেরে, ফেরে হারানো সে গান,
অক্ষরে অক্ষরে খুঁজে পাই নতুন এক আত্মসম্মান।
কখনো রবীন্দ্রনাথের গাম্ভীর্য, কখনো নজরুলের বিদ্রোহ,
কণ্ঠের জাদুতে ভাঙে যান্ত্রিক জীবনের যত মোহ।
এখানে শেখানো হয় কেবল ছন্দ আর যতি নয়,
শেখানো হয় কীভাবে মৌনতা ভেঙে জয় করতে হয় ভয়।
শব্দেরা ডানা মেলে এখানে, প্রাণ পায় মৃত কথা,
আবৃত্তি কুঞ্জে ধুয়ে যায় সব মনের নিরবতা।
আমরা তো কেবল আবৃত্তিকার নই, আমরা তো দ্রষ্টা—
কবিতার আয়নায় খুঁজি জীবনের হারানো সব নকশা।
শুদ্ধ উচ্চারণে যখন কেঁপে ওঠে এই চরাচর,
তখন বুঝে নিই— শিল্পই আমাদের আসল ঘর।
Abriti Kunja
"হৃদয় থেকে কণ্ঠে আসুক কবিতার কারুকাজ— আবৃত্তি কুঞ্জেই শুরু হোক শিল্পের নতুন সাজ।"
শব্দের স্পন্দন
(আবৃত্তি কুঞ্জ):
যেখানে জড়তা টুটে যায় অনায়াসে,
অক্ষর ফুটে ওঠে প্রাণের সুবাসে;
যেখানে কণ্ঠ পায় মুক্তির স্বাদ,
মৌনতা ভেঙে দেয় সব অবসাদ—
সেই তো আমাদের প্রাণের মঞ্চ,
ছন্দ-সুরভিত 'আবৃত্তি কুঞ্জ'।
এখানে বর্ণরা হয় না কেবল কালো দাগ,
তারা পায় সুরের আবেগ আর গভীর রাগ।
শুদ্ধ উচ্চারণের দীক্ষায় ধুয়ে যায় ভুল,
প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন এক একটি বকুল।
আমরা শিখি কীভাবে বুক চিরে আসে সুর,
কীভাবে শব্দেরা পাড়ি দেয় সীমান্ত সুদূর।
কখনো দ্রোহের আগুন, কখনো প্রেমের গান,
কবিতার ছোঁয়ায় পাই শুদ্ধির সন্ধান।
কণ্ঠের জাদুতে যেখানে আঁকা হয় ছবি,
প্রতিটি কণ্ঠে ঘুমিয়ে থাকা এক একজন কবি।
সবুজ এই আঙ্গিনায় শিল্পের এক নব উন্মেষ,
আবৃত্তি কুঞ্জে চলুক চিরকাল ছন্দের এই রেশ।
আবৃত্তি কুঞ্জ
শব্দেরা যেখানে ডানা মেলে ওড়ে,
ছন্দের মায়ায় মনটা ভরে।
অক্ষরে অক্ষরে প্রাণ জেগে ওঠে যেথা,
আবৃত্তি কুঞ্জ— এক সুরের বনলতা।
কণ্ঠের কারুকাজে ভাঙে জড়তা,
বলার ধরনে ফিরে আসে সজীবতা।
এখানে শেখানো হয় শুদ্ধ উচ্চারণ,
কবিতার ছোঁয়ায় সাজানো প্রতিটি ক্ষণ।
গল্পের ভাঁজে কিংবা কবিতার লাইনে,
আবেগরা ধরা দেয় নতুন এক আয়নায়।
বুক ভরা সাহস আর স্পষ্ট সুরে,
শিল্পের জয়গান আজ এ কুঞ্জ জুড়ে।
শব্দের বাগান:
আবৃত্তি কুঞ্জ
যেখানে জমানো শ্যাওলা সরাবে শব্দের তীব্র বান,
যেখানে কণ্ঠের ভাঁজে লুকিয়ে এক অমর প্রাণ।
যেখানে অক্ষরে অক্ষরে দোলা দেয় সুরের লতা,
সেই তো আমাদের প্রাণের আঙ্গিনা— 'আবৃত্তি কুঞ্জ'-এর কথা।
এখানে জড়তা টুটুক, উচ্চারণে আসুক শুদ্ধ নদী,
কণ্ঠের জাদুতে জয় করি আমরা এই পৃথিবী যদি।
শামসুরের সেই তেজ, কিংবা রবীন্দ্রনাথের সেই মায়া,
কবিতার ছন্দে জীবন খুঁজে পায় এক গভীর কায়া।
আমরা কেবল বর্ণ পড়ি না, আমরা পড়ি মানুষের মন,
আবৃত্তির এই তীর্থে কাটে আমাদের শ্রেষ্ঠ ক্ষণ।
কখনো মেঘের ডাক, কখনো ঝরনার কলতান,
আবৃত্তি কুঞ্জেই শুরু হয় এক নতুন জীবনের গান।
বুকের গভীরে জমানো যত না বলা অভিমান,
কবিতার চরণে তারা খুঁজে পায় মুক্তির সন্ধান।
চলো আজ সুরের খেয়া ভাসাই, হই ছন্দের পুঞ্জ,
আমাদের গর্ব, আমাদের ঠিকানা— 'আবৃত্তি কুঞ্জ'।
Admissions are now open👉
21/02/2026
অধ্যক্ষের কলম থেকে:
নমস্কার, আমি ‘আবৃত্তি কুঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ। শৈশব থেকেই শব্দের কারুকাজ আর কবিতার ছন্দের প্রতি এক গভীর টান অনুভব করতাম। সেই অনুরাগ থেকেই জন্ম নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান—যেখানে কবিতা কেবল পাঠ করা হয় না, বরং তাকে হৃদয়ে অনুভব করতে শেখানো হয়।
আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এমন একটি আঙিনা তৈরি করা, যেখানে শুদ্ধ উচ্চারণ, সঠিক বাচনভঙ্গি এবং কণ্ঠের সুষম ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি মমতা জাগিয়ে তোলা যায়। ‘আবৃত্তি কুঞ্জ’ শুধু একটি স্কুল নয়, এটি একটি সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র। এখানে আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বকীয়তাকে গুরুত্ব দিই এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিরলস কাজ করে যাই।
আমার বিশ্বাস, আবৃত্তি মানুষের মনকে মার্জিত করে এবং ব্যক্তিত্বে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। অধ্যক্ষ হিসেবে আমার লক্ষ্য হলো, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শব্দের গভীরে লুকিয়ে থাকা আবেগগুলোকে খুঁজে পায় এবং সাবলীলভাবে তা শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পারে। কবিতার এই মিছিলে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
21/02/2026
একটা বছরের শেষে আবারও একটা নতুন বছরের সূচনা, সেই সূচনা লগ্নে একটা স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি। যে স্বপ্নেরা ডানা মেলতে চাইছে এক নতুন দিগন্তের অপেক্ষায়, এই নতুন বছর 1st জানুয়ারি থেকে ২০২৬-এ শুরু করেছি আমার নিজস্ব পাঠশালা "আবৃতি কুঞ্জ"। এই পাঠশালাটি আমার একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বপ্ন, যা আমি অনেক বছর ধরে লালন করে আসছি। তার জন্য আপনাদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য, আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যেন এগিয়ে যেতে পারে।
Happy New year 2026🎉🎉🎉
#আবৃত্তিকুঞ্জ.......
কেতিকা, বিবেকানন্দ পল্লী, পুরুলিয়া।
সনু গ্রুপের বিপরীত।
Teacher:- Pragati Das.
Qualification:- M.A B.ed in English.
Experience:- Years of teaching/performing experience in recitation.
Specialized:- Diploma in recitation.
Affiliated by- Sarba bharatiya Sangeet o Sanskriti Parishad.
Contact number:-- 9775218562
21/02/2026
21/02/2026
আবৃত্তি কেবল সুন্দর করে কথা বলা নয়, এটি ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করার একটি শিল্প। শিশুদের বা বড়দের—সবার জন্যই আবৃত্তি চর্চা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কেন আবৃত্তি শেখা উচিত, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:-
১.সুন্দর ও শুদ্ধ উচ্চারণ:
আবৃত্তি শিখলে শব্দের সঠিক উচ্চারণ এবং ধ্বনিবিজ্ঞান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। এটি আঞ্চলিকতা দোষ কাটাতে এবং কথা বলার জড়তা দূর করতে সাহায্য করে।
২.আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি:
অনেকেরই জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় (Stage Fright) কাজ করে। নিয়মিত আবৃত্তি চর্চা করলে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।
৩.প্রমিত ভাষার ব্যবহার:
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রমিত বা শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। আবৃত্তি চর্চা আমাদের ভাষার মর্যাদা বুঝতে এবং প্রমিত বাংলায় সাবলীলভাবে কথা বলতে শেখায়।
৪.মানসিক ও আবেগীয় বিকাশ:
কবিতার ভাব বুঝতে হলে গভীর অনুভূতির প্রয়োজন হয়। আবৃত্তি চর্চার মাধ্যমে মানুষের সহানুভূতি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।
৫.স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি:
কবিতা মুখস্থ করা এবং তার ছন্দ মনে রাখা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ একটি ব্যায়াম। এটি স্মৃতিশক্তি ধারালো করে এবং কোনো কাজে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
৬.উপস্থাপনা শৈলী (Presentation Skills):
ভবিষ্যতে যেকোনো পেশায়—সেটা কর্পোরেট হোক বা শিক্ষকতা—নিজেকে উপস্থাপনের দক্ষতা খুব জরুরি। আবৃত্তি জানলে কণ্ঠস্বরের ওঠানামা (Modulation) এবং বাচনভঙ্গি উন্নত হয়, যা অন্যদের আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে।
৭.শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ:
আবৃত্তি চর্চা করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, যা শারীরিক স্থিরতা এবং মানসিক প্রশান্তি (Stress relief) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৮.সাহিত্যের সাথে সংযোগ:
আবৃত্তির সূত্র ধরেই মানুষ জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের মতো কবিদের দর্শনের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়, যা একজন মানুষের জীবনবোধকে গভীর করে।
৯.বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা অঙ্গভঙ্গি:
আবৃত্তি শুধু কণ্ঠের নয়, চোখের চাহনি এবং সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষকে আরও 'এক্সপ্রেসিভ' করে তোলে।
১০.সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা:
শুদ্ধ ও মার্জিত বাচনভঙ্গি একজন মানুষকে যেকোনো আড্ডায় বা সভায় আলাদাভাবে পরিচিতি দেয়। এটি এক ধরনের ‘সফট স্কিল’ যা মানুষের ব্যক্তিত্বকে অন্যদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।
১১.সহজাত ছন্দবোধ: আবৃত্তি চর্চা করলে মানুষের ভেতরে ছন্দের একটি সহজাত বোধ তৈরি হয়, যা তাকে কেবল কথা বলায় নয়, বরং জীবনযাপনেও আরও সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক করে তোলে।
১২.একাকীত্ব দূরীকরণ:
ভালো একটি কবিতা আবৃত্তি করা বা মনে মনে আওড়ানো অনেক সময় একাকীত্বে বা মানসিক চাপে দারুণ সঙ্গী হিসেবে কাজ করে।
• আবৃত্তি হলো ঘুমন্ত কবিতাকে জাগিয়ে তোলার শিল্প।
• আবৃত্তি ব্যক্তিত্ব বিকাশের এক শৈল্পিক মাধ্যম।
• আবৃত্তি চর্চা কেবল মঞ্চের জন্য নয়, এটি একজন মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
• আবৃত্তি হলো শব্দকে প্রাণ দেওয়া। একটি ঘুমন্ত কবিতাকে যখন কেউ সঠিক ছন্দে এবং আবেগে পাঠ করে, তখন সেটি নতুন করে জন্ম নেয়।
সংক্ষেপে: আবৃত্তি মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে এবং তার ভেতরে একটি শৈল্পিক রুচি তৈরি করে। এটি কেবল একটি শখ নয়, বরং নিজেকে আরও মার্জিতভাবে গড়ে তোলার একটি মাধ্যম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Ketika, Vivekananda Pally, (Sonu Group Opposite Lane)
Purulia
723101