12/08/2026
ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৭ এ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। ১৬ ইনিংসে ৩.৮৪ ইকোনমি নিয়ে তিনি ৪৬টি উইকেট নিয়েছেন। তার খুব কাছেই আছেন নিউজিল্যান্ডের জশ টাং যিনি ১৮ ইনিংসে ৪.০৭ ইকোনমিতে ৪৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। এই দুই পেসারের লড়াই WTC-কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
ভারতের মহম্মদ সিরাজ ১৭ ইনিংসে ৩.৭০ ইকোনমিতে ৩৯ উইকেট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে আছেন এবং তিনি সেরা ভারতীয় পেসার। ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসও ২০ ইনিংসে ৩৯ উইকেট এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের শামার জোসেফ ১৪ ইনিংসে ৩৫ উইকেট নিয়েছেন। সিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সেরা ইকোনমি ভারতের বোলিং আক্রমণকে অনেক শক্তি দিচ্ছে।
12/08/2026
মায়ের সঙ্গে অভিষেক শর্মা, ছবিটি লাভ রিয়েক্ট না দিয়ে যেতেই পারেন না ❤
12/08/2026
ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের জায়গা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। শ্রীলঙ্কা সিরিজের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিসিসিআই তার উপর আস্থা রাখছে। গম্ভীরের কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছে বোর্ড। তাই একটি সিরিজের ফল দিয়ে তার কোচিং ক্যারিয়ার বিচার করা হবে না।
অন্যদিকে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দুরন্ত বোলিং করে নজর কেড়েছেন অংসুমান হুডা। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও আক্রমণাত্মক লাইন দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই পারফরম্যান্সের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে অংসুমানের নাম আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।
12/08/2026
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া তাদের সেরা বোলিং শক্তি নিয়েই মাঠে নামছে। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের এই ত্রয়ী বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে পারে। অভিজ্ঞতা ও গতির মিশেলে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া। স্টার্কের সুইং আর কামিন্সের নেতৃত্ব দলকে বড় ভরসা দিচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রিকেটের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে গোয়াতে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন আশিষ নেহরা, শিখর ধাওয়ান ও ক্রুনাল পান্ডিয়া। সমুদ্রের পাড়ে তিন বন্ধুকে একসাথে দেখে ভক্তরাও খুশি। মাঠের বাইরে তাদের এই বন্ধুত্ব ও হাসি ক্রিকেটকে আরও সুন্দর করে তোলে। গোয়ার মনোরম পরিবেশে তারা একসাথে ছুটির আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করছেন।
12/08/2026
বাংলাদেশের সাথে সিরিজের সম্ভাবনা না থাকায় ভারতীয় দল এখন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন সুন্দর পরিবারের সাথে তামিলনাড়ুর বিখ্যাত অরুণাচলেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। মায়ের সাথে তিরুবন্নামালাইতে গিয়ে তিনি আশীর্বাদ নিয়েছেন এবং সবার সাথে ছবিও তুলেছেন।
12/08/2026
তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ফর্মে রয়েছেন নারায়ণ জগদীশন। তিনি মাত্র ৩৯ বলে ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন যেখানে ৫টি চার এবং ৬টি ছয় ছিল। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে বড় স্কোর পেতে সাহায্য করেছে এবং ম্যাচের রং একাই বদলে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জগদীশনের এই ধারাবাহিকতা তাকে নজরে রাখার মতো ব্যাটার করে তুলেছে।
অন্যদিকে ওডিআই ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান। তিনি ওডিআই ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অল্প বয়সেই এই কৃতিত্ব তাকে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের অন্যতম ভরসা হিসেবে প্রমাণ করেছে। জাদরানের ধারাবাহিকতা ও টেকনিক আগামী দিনে তাকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
12/08/2026
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই ম্যাচে আফগানিস্তানের সেদিকুল্লাহ অটল দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তিনি ১২০ বলে ১৪৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন যেখানে ১৭টি চার ও ৪টি ছয় ছিল। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে আফগানিস্তান ৫০ ওভারে আয়ারল্যান্ডকে ৩৪৪ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েছে। সেদিকুল্লাহর এই ইনিংস তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
এই ম্যাচে সেদিকুল্লাহ ও ইব্রাহিম জাদরান একসঙ্গে ২৩১ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন। দুজনের বোঝাপড়া ও ধারাবাহিক ব্যাটিং আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ডকে অনেক বড় জায়গায় নিয়ে গেছে। এই জুটি দলকে শক্ত ভিত দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রাখে। তাদের এই পারফরম্যান্স আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার আলো দেখাচ্ছে।
12/08/2026
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। তিনি ১১৮ বলে ১০৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছেন যেখানে ১টি চার এবং ১টি ছয় ছিল। তার এই ইনিংস আফগানিস্তানের ব্যাটিংকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে এবং দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইব্রাহিমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আফগানিস্তানের অন্যতম ভরসা করে তুলেছে।
অন্যদিকে প্রায় তিন বছর পর শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার নিরোশন ডিকওয়েলা। গল টেস্টের স্কোয়াডে তাকে দেখে সমর্থকরা খুশি। ডিকওয়েলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারকে শক্তি দেবে। ঘরের মাঠে ফিরে এসে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চাইবেন।
12/08/2026
ছবিতে ব্যক্তিরা হলেন: বাম থেকে ডানে অ্যান্ডি রবার্টস, কলিন ক্রফ্ট, মাইকেল হোল্ডিং এবং জোয়েল গার্নার। ছবিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট-বোলিং কোয়ার্টেটকে চিত্রিত করা হয়েছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোলিং আক্রমণগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত।
আধিপত্যের যুগ: ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করেছিল । এই কোয়ার্টেট ১১টি টেস্ট ম্যাচে একসাথে খেলেছিল, যে সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অপরাজিত ছিল। ক্রিকেট এবং ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির উপর তাদের প্রভাব ফায়ার ইন ব্যাবিলন ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।
12/08/2026
একটা সময় ভারতের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে দেশ ভাসছে। সেই ভিড়ের মাঝেই কপালে তিলক লাগানো এক সাধারণ মানুষকে দেখে সবার নজর পড়ে। কেউ জানত না এই মানুষটার গল্প কতটা কঠিন আর অনুপ্রেরণামূলক। তার নাম রাঘবেন্দ্র দ্বিবেদী, সবার কাছে রঘু।
কর্ণাটকের একটি ছোট শহরে জন্ম রঘুর। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ছিল তার প্রাণ। তার একটাই স্বপ্ন ছিল, একদিন ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই সে দিনরাত অনুশীলন করত।
কিন্তু হঠাৎ একদিন প্র্যাকটিস করতে গিয়ে তার হাতে ভয়ঙ্কর চোট লাগে। চোটটা এতটাই গুরুতর ছিল যে ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, সে আর কোনোদিন ক্রিকেট খেলতে পারবে না। এক মুহূর্তে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়।
তবুও রঘু ভেঙে পড়েনি। ক্রিকেট ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না, এটা সে বুঝে গিয়েছিল। তাই খেলতে না পারলেও, সে ঠিক করল ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকবে। সেখান থেকেই সে থ্রোডাউন করা শুরু করে এবং ধীরে ধীরে এই কাজেই দক্ষ হয়ে ওঠে।
এরপর নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে পকেটে মাত্র একুশ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। অনেক রাত সে বাসস্ট্যান্ডে কাটিয়েছে, কখনও মন্দিরে থেকেছে। এমনকি এক সময় কবরস্থানেও আশ্রয় নিয়েছিল, যেখানে সে টানা কয়েক বছর কাটায়।
এই কঠিন সময়েও সে থামেনি। হুবলিতে ধীরে ধীরে সে ক্রিকেটারদের প্র্যাকটিসে সাহায্য করতে শুরু করে। নিজের থ্রোডাউন স্কিল দিয়ে ব্যাটসম্যানদের অনুশীলনে সাহায্য করত। তার নিষ্ঠা আর পরিশ্রম দেখে অনেকেই তাকে চিনতে শুরু করে।
এক বন্ধুর পরামর্শে সে বেঙ্গালুরুতে যায়। সেখানেই তার জীবনের বড় পরিবর্তন আসে। তার কাজ নজরে পড়ে তিলক নাইডুর, যিনি তাকে জাভাগল শ্রীনাথের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এই সুযোগটাই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রীনাথ তাকে কর্ণাটক রঞ্জি দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেন। এরপর সে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করে। নিজের পরিশ্রমের জোরে সে বিসিসিআই লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্সও সম্পন্ন করে।
তারপর আসে জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। শচীন তেন্ডুলকার তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করেন। সেই থেকেই রঘু টিম ইন্ডিয়ার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
আজ বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মতো তারকারাও স্বীকার করে, রঘুর সঙ্গে প্র্যাকটিস করলে ম্যাচে খেলা অনেক সহজ মনে হয়। তার থ্রোডাউন স্কিল এতটাই নিখুঁত যে সেটাই ব্যাটসম্যানদের আরও শক্তিশালী করে তোলে।
যে ছেলেটা একদিন কবরস্থানে রাত কাটিয়েছে, যার স্বপ্ন একদিন ভেঙে গিয়েছিল, সেই আজ দেশের সেরা ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করছে।
রঘুর গল্প আমাদের শেখায়, জীবন কখনও আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু যদি আমরা হাল না ছাড়ি, তাহলে সেই ভাঙা স্বপ্ন থেকেই নতুন একটা পথ তৈরি হয়। আর সেই পথই একদিন আমাদের সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দেয়।
✍️: বিভাষ মল্লিক