20/08/2026
১৯৯৬ বিশ্বকাপের আগে সনথ জয়সুরিয়াকে কেউই তখনকার বড় সুপারস্টার হিসেবে দেখছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটা ইনিংস তার পুরো ক্যারিয়ারের ছবি বদলে দিয়েছিলো। ওই ম্যাচে জয়সুরিয়া ১১টা চার আর ১১টা ছয়ের সাথে মাত্র ৬৫ বলে ১৩৪ রান করেছিলেন, তার ব্যাটিং মারাত্মক অ্যাগ্রেসিভ ছিল —পাকিস্তানের ওয়ার্ল্ড-ক্লাস বোলারদের বিরুদ্ধে তিনি চার ছয়ের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ৪৮ বলে সেঞ্চুরি কমপ্লিট করেছিলেন, যেটা তখন ওডিআই ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল। এই ইনিংসের পর সবাই বুঝতে পারে, জয়সুরিয়া শুধু একজন সাধারণ ব্যাটসম্যান না—তিনি পুরো আলাদা রকমের একজন আক্রমণাত্মক ওপেনার। পরে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে তার অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে চ্যাম্পিয়ন হতে অনেক বড় রোল প্লে করেছিল। এই টুর্নামেন্টের পর জয়সুরিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড সুপারস্টার হয়ে যান, আর ওডিআই ক্রিকেটে ওপেনিং ব্যাটিংয়ের স্টাইলও পুরো পাল্টে দেন।
20/08/2026
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গাব্বা টেস্ট ম্যাচটা রিশভ পন্তের ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছিলো। অস্ট্রেলিয়ার এই মাঠটা তখন তাদের জন্য একটা দুর্গের মতো ছিল। প্রায় ৩২ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া গাব্বাতে কোনো টেস্ট ম্যাচ হারেনি। তার ওপর ভারতের সামনে ছিল ৩২৮ রানের বিশাল একটা টার্গেট। ভারত যখন চেজ করছিল, তখন ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়ার দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু তখন ক্রিজে দাড়িয়ে ছিলেন রিশভ পান্ত। তিনি কোনো রকম প্রেসারকে মাথায় না নিয়ে অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিং করতে থাকেন। পান্ত মাত্র ১৩৮ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত একটা অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত পন্তের ওই ইনিংসের ওপর ভরসা করে ভারত ৩ উইকেটে গাব্বা টেস্ট জিতেছিল। ভারত অস্ট্রেলিয়ার ৩২ বছরের গাব্বা আনবীটেন স্ট্রিক শেষ করে দিয়েছিল। রিশভ পন্ত নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি শুধু একজন ট্যালেন্টেড ইয়ং উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান না, তিনি প্রেসারের মধ্যেও ম্যাচ জিতিয়ে আনতে পারেন। এরপর থেকেই টেস্ট ক্রিকেটে রিষভ পন্ত ভারতের নামি একজন প্লেয়ার হয়ে ওঠেন। পরে তিনি আরও বেশ কিছু ম্যাচ-উইনিং পারফরমেন্স দিয়েছেন।
20/08/2026
২০০৯ সালে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ওয়ার্নারের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় ছিল, তিনি তখনও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোনো ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচ খেলেননি। কিন্তু তার অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া তাকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ দিয়েছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওপেনিং করতে নেমে ওয়ার্নার শুরু থেকেই কোনো প্রেসারের ছাপ দেখাতে দেননি। বরং সাউথ আফ্রিকার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে তিনি পুরো অ্যাগ্রেসিভ মুডে ব্যাটিং করতে শুরু করেন। মাত্র ৪৩ বলে ৮৯ রান করেছিলেন। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৭টা চার আর ৬টা ছয়, স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০-র উপরে। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার এরকম ফিয়ারলেস ব্যাটিং দেখে সবাই বুঝে গেছিল যে অস্ট্রেলিয়া নতুন একজন এক্সপ্লোসিভ ওপেনার পেয়ে গেছে। এই ৮৯ রানের ইনিংসের পর ডেভিড ওয়ার্নার রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। এরপর তিনি শুধু টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট না, অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই আর টেস্ট টিমেরও ওপেনার হয়ে ওঠেন।
20/08/2026
কেভিন পিটারসেনের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্টগুলোর মধ্যে একটা ছিল ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজ সিরিজ। এই সিরিজে তার টেস্ট ডেবিউ হয়েছিল, আর প্রথম ম্যাচেই পিটারসেন এমন ব্যাটিং করেছিলেন যা তাকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে একজন নতুন সুপারস্টার হিসেবে এস্টাবলিশ করে দেয়। ২০০৫ এর অ্যাশেজ ছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় রাইভালরিগুলোর একটা। ইংল্যান্ড তখন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজ জিততে মরিয়া। এরকম একটা হাই-প্রেশার সিরিজে টেস্ট ডেবিউ করা কোনো তরুণ ব্যাটসম্যানের জন্য খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু পিটারসেন প্রেসারকে একদম মাথায় তুলে নেননি। লর্ডসে প্রথম টেস্টে পিটারসেন প্রথম ইনিংসে ৫৭ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান। কিন্তু সিরিজের সবচেয়ে মেমোরেবল মোমেন্ট আসে দ্য ওভালে পঞ্চম টেস্টে। ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয়ের জন্য ওই টেস্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রেসারের মধ্যে পিটারসেন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৮ রান করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচটা ড্র করতে সাহায্য করেছিলেন। এই অ্যাশেজের পর কেভিন পিটারসেন আর শুধু একজন নিউকামার ছিলেন না। তিনি হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের একজন নামি মুখ, এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট, ওডিআই আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন বড় ম্যাচ-উইনার হিসেবে নিজেকে এস্টাবলিশ করেন।
20/08/2026
শচীন আর সৌরভকে একসঙ্গে বোলিং করা প্রতিপক্ষের জন্য এত কঠিন ছিল কারণ দুজনের ব্যাটিং স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। শচীন ছিলেন এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি পেস, সুইং, সিম এবং স্পিন—প্রায় সব ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে নিজের শট খেলতে পারতেন। তার স্ট্রেইট ড্রাইভ, কভার ড্রাইভ, ফ্লিক, কাট এবং পুল ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যদিকে সৌরভ গাঙ্গুলীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল off-side। তার কভার ড্রাইভ আর স্কোয়ার কাট ছিল এতটাই বিখ্যাত যে সামান্য সুযোগ পেলেই তিনি বাউন্ডারি বের করে দিতেন। ফলে একজনকে আটকানোর জন্য বোলার যদি লাইন বদলাতেন, অন্যজন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিতেন। তার সঙ্গে ছিল ডান-হাতি এবং বাঁম-হাতি কম্বিনেশন। ফলে বোলারকে বারবার নিজের লাইন, লেংথ এবং ফিল্ড পরিবর্তন করতে হতো। এই কারণেই শচীন-সৌরভ শুধু দুইজন গ্রেট ব্যাটসম্যান ছিলেন না—তারা একসঙ্গে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের জন্য একটা বড় মাথাব্যাথা হয়ে উঠেছিলেন।
19/08/2026
সৌরভ গাঙ্গুলীর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্ট, যেটা তার ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট ম্যাচ ছিল। প্রথম ম্যাচেই গাঙ্গুলী এমন একটা ইনিংস খেলেছিলেন যা তার পুরো ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছিল। লর্ডসে ডেবিউ করা এমনিতেই খুব চাপের বিষয়। সেটা একদম মাথায় না নিয়ে গাঙ্গুলী দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করতে থাকেন। প্রথম ইনিংসেই তিনি সেঞ্চুরি মেরে দেন, ১৩১ রান করেছিলেন । লর্ডসের মতো বড় ভেন্যুতে টেস্ট ডেবিউতে সেঞ্চুরি করা আজও একটা বিশাল অ্যাচিভমেন্ট। এই ইনিংসের মাধ্যমে গাঙ্গুলী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি শুধু ট্যালেন্টের ওপর নির্ভর করে থাকা একজন ক্রিকেটার না। তার মধ্যে কনফিডেন্স, ডিটারমিনেশন আর বড় স্টেজে পারফর্ম করার ক্ষমতা, সবকিছুই ছিল। এই ম্যাচের পর থেকেই গাঙ্গুলীর ক্যারিয়ারে একটা নতুন চ্যাপ্টার শুরু হয়। কিছু বছরের মধ্যেই তিনি ভারতের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন এবং পরে ভারতের অধিনায়কও হন।
19/08/2026
শিবনারায়ণ চন্দরপলের ক্যারিয়ারের শুরুটা খারাপ ছিল না, কিন্তু একটা জিনিস নিয়ে তার উপর প্রচুর প্রেসার ছিল—টেস্ট সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার পর তিনি নিয়মিত রান করছিলেন, কিন্তু ১৮টা টেস্টে ১২টা হাফ-সেঞ্চুরি করার পরেও কোনোভাবেই সেঞ্চুরি করতে পারছিলেন না। অবশেষে ১৯৯৭ সালে ভারতের বিরুদ্ধে বার্বাডোজ টেস্টে এলো সেই অসাধারণ মুহূর্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ১৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে, তখন চন্দরপল ক্রিজে ছিলেন। পিচে পেস আর বাউন্স ছিল, ইন্ডিয়ার বোলাররাও খুব ভালো বোলিং করছিলেন। কিন্তু চন্দরপল প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ব্যাটিং করে ১৩৭ রান করে নট আউট ছিলেন। এটা ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, তিনি একদম ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনে নিজের উইকেট বাঁচিয়ে টিমকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে গেছিলেন।
19/08/2026
২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ODI ম্যাচে জশ বাটলার মাত্র ৭৭ বলে ১২৯ রান করেছিলেন, আর এই ইনিংসের পর থেকেই ইংল্যান্ডের হোয়াইট-বল ক্রিকেটে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ম্যাচটা ছিল নটিংহ্যামে, আর ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করেছিল। শুরুতেই ইংল্যান্ড ভালো ব্যাটিং করলেও ইনিংসের শেষ দিকে এসে বাটলার পুরো ম্যাচের ছবি বদলে দেন। ক্রিজে এসে তিনি কোনো রকম ভয় না পেয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর আক্রমণ করতে শুরু করেন। মাত্র ৭৭ বলে ১২৯ রান—এই ইনিংসে ছিল ১৩টা চার আর ৫টা ছয়। বাটলারের ব্যাটিং এত অ্যাগ্রেসিভ ছিল যে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর প্রেসার তৈরি হয়ে যায়। এই ম্যাচের পর বাটলার ইংল্যান্ডের হোয়াইট-বল টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার হয়ে ওঠেন।
19/08/2026
১৯৯৬ সালে শাহিদ আফ্রিদি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছিলেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। কিন্তু তখন কেউ ভাবতেই পারেনি যে এই ইয়ং পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান একদিন ক্রিকেটের অন্যতম বড় পাওয়ার-হিটার হয়ে উঠবেন। তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এমন একটা ইনিংস এসেছিল, যেটা সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলো। কেনিয়াতে খেলা সেই ম্যাচে পাকিস্তান ব্যাটিং করতে নেমে যখন আফ্রিদি ক্রিজে আসেন, তখন কেউ বুঝতে পারেনি যে সামনে কী হতে চলেছে। আফ্রিদি প্রথম থেকেই অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিং শুরু করেন। শ্রীলঙ্কার বোলারদের কোনোরকম সম্মান না দেখিয়ে তিনি একটার পর একটা বাউন্ডারি মারতে থাকেন। মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ১০২ রান। ৬টা চার আর ১১টা ছয় মেরেছিলেন। তার ব্যাটিং এতটাই অ্যাগ্রেসিভ ছিল যে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি ক্রিকেট বিশ্বের অ্যাটেনশন নিজের দিকে টেনে নেন। এই ইনিংসের পর আফ্রিদির নাম শুধু পাকিস্তানে নয়, পুরো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছড়িয়ে পড়ে।