07/08/2026
সিলেটে জমি বিক্রির নামে জানাল সি'ন্ডি'কে'টের ভ'য়া'ব'হ প্র'তারণা : দিশেহারা শত শত মানুষ
সিলেটে জমি বিক্রির নাম করে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়ংকর প্রতারণা চক্রের খবর পাওয়া গেছে। এই চক্রের মূল হোতা জানাল আহমেদ ও তার সহযোগীদের হাতে প্রতারিত হয়ে এখন নিঃস্ব অনেক পরিবার। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না মেলায় ভুক্তভোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জানাল আহম্মেদ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৫নং ওয়ার্ডের মেজরটিলার সৈয়দপুর গ্রামের মোঃ আব্দুন নূর এর ছেলে। সে তাহার সহযোগী রুহেল, সেলিম, খোকন ও লুকু গংদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছে। জানাল ও তার সহযোগীরা একটি নির্দিষ্ট জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চুক্তি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। টাকা নেওয়ার পর তারা জমির দখল বুঝিয়ে দেয় না এবং সাফ-কবলা রেজিস্ট্রি করে দিতে বছরের পর বছর টালবাহানা করে যাচ্ছে।
এমনই এক ভুক্তভোগী মনসুর আলম চৌধুরী জানান, তিনি একটি জমির জন্য ৬ লক্ষ টাকা দাম ধার্য করে বিভিন্ন সময়ে জানালকে ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর জানাল জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে যাচ্ছে।
পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যে জমি তাদের দাবী করে বিক্রি করছে উক্ত জমির সরকারি ভূমি। এ ঘটনায় আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি। অভিযোগকারী মনসুর আলম যখন টাকা ফেরতের চাপ প্রয়োগ করেন, তখন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং এলাকা ছাড়া করার ভয় দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুহেল, সেলিম, জানাল, খোকন ও লুকু- এই পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জমি জালিয়াতি ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী হিসেবে জানাল ও তার বাহিনী জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের ওপর গুলি বর্ষণের সাথেও জড়িত ছিল।
ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, দুদক এবং ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমনকি শাহপরান (রহ.) থানা থেকে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও জানাল ও তার সহযোগীরা থানায় উপস্থিত হয়নি। পুলিশের খাতায় একাধিক স্মারক নম্বর (যেমন: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স স্মারক নং- ৪৪-০১-০০০-২০৩-০৭-০১৫-২০২৪-৪১৭) থাকা সত্ত্বেও তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই ভয়ংকর প্রতারক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সাধারণ মানুষের আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও কেন এই অপরাধীরা এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এই চক্রের হাতে আরও অনেক সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।