04/08/2026
আইসিসির উচিত ওয়ানডে বিশ্বকাপ বন্ধ করে দেওয়া।
২০২৭ বিশ্বকাপের ফর্মেট তা ই বলছে, আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফর্মেট কেমন সে আলাপে যাচ্ছি না তবে ২০৩১ এ ভারত বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। সে বিশ্বকাপ ২৪ দলের মাধ্যমে আয়োজন করে জাকজমকপূর্ণভাবে সমাপ্তি দিতে পারে৷ যেখানে ২৪ দলের ১৯ দল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে কারণ তারা আগের কোনো না কোনো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছিলো বা খেলছে। তালিকার ২০ তম দল ইস্ট আফ্রিকা,কিন্তু বর্তমানে তাদের অস্তিত্ব না থাকায় সে হিসেব বাদ। ৫ দল কোয়ালিফায়ার খেলে আসলো। তারপর কি ঘটবে?
টি-২০ বিশ্বকাপ হওয়া উচিত ICC Cricket World Cup। বর্তমান নিয়মে নেক্সট টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৮,২০৩০,২০৩২ সালে। ২০২৮ টি-২০ বিশ্বকাপেও এক্সপিরিমেন্ট করছে আইসিসি। এখন ২০৩২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন না করে ২০৩৩ সালেই টি২০ ফর্মেটে প্রধান আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করতে পারে৷ ৪ বছর পর পর টি-২০ ওয়ার্ল্ডকাপ। ২০৩৩,২০৩৭, ২০৪১ এভাবে। যেহেতু টুর্নামেন্টের নামে বিশ্বকাপ আছে সেহেতু দল সংখ্যা ২০ দল থেকে ধীরে ধীরে ২৪,২৮,৩২ এ নিতে হবে। ক্রিকেটের গ্লোবালাইজেশন ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেটে সম্ভব না, সেটা টি২০ ক্রিকেটই করতে পারবে। টি-২০ ক্রিকেটের পটেনশিয়াল আছে ফুটবলের মতো বড় মঞ্চ তৈরী করা।
তাহলে ওয়ানডে ক্রিকেটের কি হবে?
আইসিসির আরেকটা লস প্রজেক্ট টুর্নামেন্ট হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। সর্বশেষ ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির হিসেব নিকাশ তা ই বলে। ৮ দলে হয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর ১০ দলে হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ৷ খুবই হাস্যকর কৌতুক। যেহেতু বিশ্বকাপ টাইটেলটা টি-২০র, তাহলে ওয়ানডে ক্রিকেটের মেইন টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ৮ দলের রাউন্ড রবিন লীগ খেলা, ৪ বছর পর পর টুর্নামেন্ট। যদি বিশ্বকাপ (টি-২০) ২০৩৩,৩৭,৪১ এ হয় তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (ওয়ানডে) হবে ২০৩৫,৩৯,৪৩ এ। বলা যায় প্রতি বেজোড় বছরে একটি করে টুর্নামেন্ট।
জোড় বছরে কি করা যায় তাহলে? (যেমন ২০৩৪,৩৬,৩৮,৪০)
অই বছরগুলোতে রিজিওনাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়। দুই ফর্মেটেই। যেমন ২০৩৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ২০৩৪ এ ওয়ানডে এশিয়া কাপ আবার ২০৩৭ বিশ্বকাপ(টি২০) এর আগে ২০৩৬ এ টি২০ এশিয়া কাপ। বর্তমান অবস্থাতেই ১০ দলের এশিয়া কাপ আয়োজন করা সম্ভব। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি নেপাল, আরব আমিরাত, ওমান,হংকং ও মালোশিয়া বড় বড় দলকে টক্কর দিতে সক্ষম। শুধু এশিয়া কাপ না। আরো ৩ টি রিজিওনাল টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব।
ইউরোপীয়ান কাপ সম্ভব। ইংল্যান্ডকে টক্কর দিতে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ন্যাদারল্যান্ড প্রস্তুত। ইতালিও সর্বশেষ টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছে। মাত্র ৪ দলের টুর্নামেন্ট? ২০১২ সালে এশিয়া কাপ ৪ দলে হয়েছিলো।
আফ্রিকান কাপও আয়োজন করা সম্ভব। সাউথ আফ্রিকা ভালো দল কিন্তু জিম্বাবুয়েও টেস্ট প্লেয়িং নেসন। এবং জিম্বাবুয়েকে সবসময় টক্কর দেয় নামিবিয়া,কেনিয়া ও উগান্ডা।
বাকি থাকে ওসেনিয়া আর দুই আমেরিকা (আন্টারকটিকা তো সম্ভব না)। এই ৩ অঞ্চল মিলে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়। বলে রাখা ভালো ফুটবলে অস্ট্রেলিয়া এশিয়া অঞ্চলের হয়ে খেলে এবং রিসেন্ট দুই কোপা আমেরিকায় দুই মহাদেশ মিলে টুর্নামেন্ট হয়। সেক্ষেত্রে এই ৩ মহাদেশ মিলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকবে টুর্নামেন্টে। আবার ছোট দল হিসেবে আমেরিকা,কানাডা,পাপুয়ানিউগিনি আছে। আর কোয়ালিফায়ার থেকে সব রিজিওনেই ভালো ছোট টিম উঠে আসবে। আবার ওয়ার্ল্ডকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য রিজিওনাল টুর্নামেন্টগুলো কোয়ালিফায়ার হিসেবে কাজ করানো যাবে। এতে ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও র্যাঙ্কিং প্রীতি কমে আসবে,ছোট দলগুলো বেশি সুযোগ পাবে। এতে বাইলেট্রিয়াল সিরিজ সংখ্যা কমে গেলেও ছোট ছোট টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়বে।
রইলো বাকি টেস্ট ক্রিকেট, ক্রিকেটের রাজকীয় ফর্মেট।
টেস্ট ক্রিকেট বর্তমানে খেলছে ১২ দল। স্কটল্যান্ড, ন্যাদারল্যান্ড, নেপালও প্রায় শর্তপূরণ করে ফেলেছে স্ট্যাটাস পাওয়ার। এক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটকে দুই টায়ারে ভাগ করা যায়। প্রথম টায়ারে খেলবে টপ ৮ দল। ৪ বছরের ক্যালেন্ডারে ৭ টি হোম ও ৭ টি এওয়ে সিরিজ খেলবে প্রতিটি দল। এতে সব দলের সাথে সব দলের খেলাও হবে আবার টেস্ট ক্রিকেটের প্রেশারও কম থাকবে। সেকেন্ড টায়ারে খেলা হবে নিচের ৪ দল সাথে নতুন স্ট্যাটাস পাওয়া দলের। তারাও একই নিয়মে হোম এন্ড এওয়ে সিরিজ খেলবে। ৪ বছরের সাইকেল শেষ হবে জোড় বছরে। টপ টায়ারের টপ ২ দল খেলবে ফাইনাল। আর বটম দল রেলিগেট হবে সেকেন্ড টায়ারে। একই সময়ে সেকেন্ড টায়ারের টপ দুই দল ফাইনাল খেলবে। বিজয়ী দল পরবর্তী ৪ বছর প্রমোটেড হয়ে খেলবে টপ টায়ারের সাইকেল।
এভাবে ক্রিকেটের তিন ফর্মেটকে একটু সুশৃঙ্খল প্লেয়িং গ্রাউন্ডে আনলে একদিকে যেমন ছোটদলগুলো বেশি সুযোগ পাবে তেমনি আইসিসি চাইলে ব্যবসায়ী দিক বিবেচনা করা ইন্ডিয়া পাকিস্তান ম্যাচও বেশি খেলাতে পারে। প্রতিটি এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপ,চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইন্ডিয়া পাকিস্তান ম্যাচ দেওয়া সম্ভব। আবার টেস্ট ক্রিকেটে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের হোম এন্ড এওয়ে সিরিজগুলো আমেরিকা,ইংল্যান্ড বা আরব আমিরাতে আয়োজন করা পসিবল। এশ্যাজের মতো ৫ টেস্ট, ৫ ওয়ানডে, ৫ টি২০ সিরিজ। জাস্ট ভিন্ন দেশে।
এখন আইসিসিতে কি কেউ নেই এভাবে ভেবে দেখার নাকি নিছক ইচ্ছেটাই নেই।
"ক্রিকেট গ্লোবালাইজেশন"
– Sulaman Khan Shuvo
১৮/০৭/২০২৬
07/09/2025
29/08/2025
31/07/2025
26/03/2025
19/02/2025
30/01/2025