03/06/2026
📹 **ভিডিওটি দেখুন।**
আমাদের জামালপুর ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড এবং প্রায় ৮-১০টি গ্রামের প্রধান খেলার মাঠ "চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ।" এটি শুধু একটি মাঠ নয় বরং আমাদের শিশু-কিশোর, তরুণ এবং মুরব্বিদের মিলনস্থল, আনন্দের জায়গা এবং সুস্থ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র।
২০২৪ সালের রমজান মাসে অসংখ্য তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রম, মুরব্বিদের পরামর্শ এবং দেশ-বিদেশে থাকা অনেক প্রবাসী ভাইয়ের আর্থিক ও শারীরিক পরিশ্রমের সহযোগিতায় মাঠটির প্রাথমিক সংস্কার করা হয়েছিল। আমাদের একটাই স্বপ্ন ছিল এই মাঠ সব ধরনের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, প্রাণবন্ত থাকবে এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেবে।
আমরা বিশ্বাস করি, এই মাঠে যেমন ক্রিকেট খেলোয়াড়দের অধিকার রয়েছে, তেমনি ফুটবল খেলোয়াড়, ভলিবল খেলোয়াড়, শিশু-কিশোর এবং সকল এলাকার সকল মানুষেরও সমান অধিকার রয়েছে। মাঠ সংস্কারের সময় কিংবা পরবর্তীতে মাঠের সঙ্গে জড়িত কারও উদ্দেশ্য কখনোই ছিল না যে এখানে শুধুমাত্র একটি খেলাই হবে। বরং ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হাডুডুসহ সকল খেলাধুলার মাধ্যমে মাঠটি সবসময় মুখরিত থাকবে এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সম্প্রতি একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট পিচে(পরবর্তীতে ক্রিকেট পিচ আলাদাভাবে সংস্কার করা হয়েছিল)ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ত করে দাগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়। প্রশ্ন হলো, ভাই কি এমন প্রয়োজন ছিল?
আমরা অন্যান্য মাঠে দেখেছি ফুটবল খেলার জন্য চুন বা রং ব্যবহার করে দাগ দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের মাঠে ক্রিকেট পিচের ক্ষতি করে দাগ দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? পিচের অংশে চুন বা রং ব্যবহার করলে কী এমন ক্ষতি হতো? এর উত্তর হয়তো আল্লাহ এবং যিনি বা যারা এই কাজটি করেছেন, তারাই ভালো জানেন।
মাঠ সংস্কারের সময় যারা পাশে ছিলেন, তারা জানেন এই মাঠের প্রতিটি অংশে কত মানুষের শ্রম, ঘাম, সময় ও আবেগ জড়িয়ে আছে। অনেক প্রবাসী ভাই দূর দেশ থেকে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তাই যখন মাঠের কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখি, তখন শুধু একটি পিচের ক্ষতি দেখি না; দেখি শত মানুষের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও আবেগের প্রতি অবহেলা। হয়তো যারা আজ এই ধরনের কাজ করছেন, তারা সেই পরিশ্রমের অংশ ছিলেন না কিংবা ঘরের কোণে বা প্রবাসে বসে ছিলেন তাই মাঠকে ঘিরে সকলের অনুভূতির গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেননি। পরবর্তীতে এই ধরনের কাজ সংঘটিত হলে তাদের পরিচয় মুরব্বি, তরুণ ও শিশু-কিশোরদের মাঝে তুলে ধরা হবে, বাকি ফয়সালা তাদের।
বর্তমান সময়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আর সেই খেলাধুলার কেন্দ্রস্থল যদি হয় আমাদের এই মাঠ, তাহলে সেখানে বিদ্বেষ, বিভেদ বা নোংরা মানসিকতার কোনো স্থান থাকতে পারে না। খেলাধুলা মানুষকে এক করে, বিভক্ত করে না। আমরা চাই এই মাঠ সবার হোক, সব খেলার হোক, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হয়ে থাকুক।
যারা এই কাজটি করেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে মাঠকে নিজের সম্পদ মনে করুন। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কোনো খেলার প্রতি পক্ষপাতের কারণে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ আপনাদের যেন শুভবুদ্ধির উদয় ঘটান।
আজ যারা মাঠে খেলছে, আগামীকাল তারাই এই এলাকার ভবিষ্যৎ। আমরা চাই তারা বিভেদ নয়, ঐক্য শিখুক; বিদ্বেষ নয়, ভ্রাতৃত্ব শিখুক।
আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠকে রক্ষা করি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করি।