15/05/2026
#নামজারি উপজেলা ভূমি অফিসের “নামজারী (মিউটেশন) প্রবাহ চিত্র। নামজারির আবেদন থেকে শুরু করে খতিয়ান পাওয়া পর্যন্ত ধাপগুলো বর্ণনা করা আছে।
সংক্ষেপে লেখা হলো:
১. আবেদনকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করবেন।
২. সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রাথমিক অনুমোদন দেবেন।
৩. সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে নথি/প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
৪. ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেবেন।
৫. আবেদনকারীকে শুনানিতে অংশ নিতে হবে ও মূল কাগজপত্র দেখাতে হবে।
৬. সার্ভেয়ার/কানুনগো প্রতিবেদন যাচাই করবেন
এরপর চূড়ান্ত আদেশ হবে।
৭. মঞ্জুর হলে পরবর্তী ধাপ।
৮. না-মঞ্জুর হলে আবেদন নথিভুক্ত থাকবে।
৯.হোল্ডিং খোলার নির্দেশ দেওয়া হবে।
১০. রেকর্ড সংশোধন করা হবে।
১১. ডিসিআর-এর মাধ্যমে নামজারির ফি আদায় হবে।
১২.আবেদনকারী নামজারি খতিয়ানের কপি ও ডিসিআর সংগ্রহ করবেন।
১৩. শেষে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানপূর্বক দাখিলা/খাজনার রশিদ সংগ্রহ করবেন।
সতর্কতা: জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার বা অন্য যেকোনোভাবে মালিকানা লাভ করলে নামজারির জন্য আবেদন করুন।
মনে রাখবেন: জমির পর্চা বা খতিয়ানই আপনার ভূমির মালিকানার স্বত্বের প্রকৃত প্রমাণ।
#নামজারি #খারিজ #খতিয়ান #ভূমি #কর #মিউটেশন
06/05/2026
📏 জমি মাপজোকের বিষয়টি বুঝুন খুব সহজে!
আপনার জমির পরিমাপ—শতাংশ, কাঠা নাকি বিঘা? 🤔
জমি কেনাবেচা বা পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা—সবক্ষেত্রেই শতাংশ, কাঠা এবং বিঘার হিসাব জানা থাকা খুব জরুরি। সঠিক হিসাব না জানায় অনেক সময় আমরা দালালের খপ্পরে পড়ি বা পরিমাপে ভুল করে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হই। 😟
চলুন একদম সহজ ভাষায় বিষয়টা বুঝে নেই 👇
✅ শতাংশ (Decimal)
আমাদের দেশে সবচেয়ে প্রচলিত একক।
👉 ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট 📐
✅ কাঠা
👉 ১ কাঠা ≈ ১.৬৫ শতাংশ
👉 প্রায় ৭২০ বর্গফুট = ১ কাঠা 🏡
✅ বিঘা
👉 ২০ কাঠা = ১ বিঘা
👉 প্রায় ৩৩ শতাংশ = ১ বিঘা 🌾
⚠️ অঞ্চলভেদে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে
✅ একর (Acre)
👉 ১০০ শতাংশ = ১ একর 🌍
📌 মনে রাখবেন:
✔️ জমি মাপার সময় নিজেও হিসাব জানুন
✔️ দলিলের বর্গফুট মিলিয়ে নিন
✔️
💡 সচেতন থাকুন, কারণ আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা এক ইঞ্চি জমিও গুরুত্বপূর্ণ!
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন 💬
জমির হিসাব বুঝে নিজের অধিকার নিশ্চিত করুন ✔️
#জমিরমাপ #শতাংশ #কাঠা #বিঘা #ভূমিসেবা #জমিরহিসাব
#জমি_আইন #সচেতনতা
29/04/2026
রেকর্ড সংশোধন মামলা (Land Record Correction Suit) করার জন্য সাধারণত দেওয়ানী আদালতে (Assistant Judge Court) মালিকানার স্বপক্ষে দলিলাদি, ভুল খতিয়ানের কপি, ওয়ারিশান সনদ, এনআইডি এবং মামলার আরজি (Plaint) দাখিল করতে হয়। বড় ধরনের মালিকানা বিরোধ বা জরিপের ভুল সংশোধনে এই দেওয়ানী মামলা বা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
ভুল খতিয়ান/পর্চা: ভুল রেকর্ড বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি (CS/RS/BS)।
জমির দলিলের কপি: মূল দলিলের কপি, খতিয়ান, নামজারি (Mutation) খতিয়ান, এবং খাজনার রসিদ।
মালিকানার প্রমাণ: ওয়ারিশান সনদ (ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হলে), মূল দলিলের কপি ।
আবেদনকারীর তথ্য: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।
মামলার আরজি (Plaint): ভুলের বিবরণ ও সংশোধনের দাবিসহ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত আরজি।
অন্যান্য: প্রয়োজন হলে স্থানীয় আমিন কর্তৃক জমির খসড়া মানচিত্র বা ওয়ার্কিং ভলিউমের কপি।
সংশোধন প্রক্রিয়া ও মামলা:
১. প্রাথমিক পদক্ষেপ: ভুলটি করণিক (Clerical) হলে এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে মিসকেস করা যায়। কিন্তু মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ হলে দেওয়ানী আদালতে বা ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়।
২. মামলা দায়ের: একজন আইনজীবীর মাধ্যমে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করে সমন জারি করা হয়।
৩. শুনানি: বাদী ও বিবাদী পক্ষের দলিলাদি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় বা আদেশ প্রদান করা হয়।
বিশেষ নোট: রেকর্ড ভুলের বিষয়টি জানার পর সাধারণত ৩ বছরের মধ্যে মামলাটি দায়ের করতে হয়, অন্যথায় তামাদি (Limitation) আইন প্রযোজ্য হতে পারে।
27/04/2026
📘🏡 ৮ নং রেজিস্টার কী? সহজভাবে জানুন
বাংলাদেশে সরকারি খাস সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য 📄
👉 ৮ নং রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়
এই রেজিস্টার মোট ৪টি খণ্ডে বিভক্ত 👇
---
🔹 ১ম খণ্ড:
🚧 জনগণের সাধারণ ব্যবহারের জমি
যেমন— রাস্তা, হালট, পুকুর 💧
❌ এই জমি স্থায়ী ইজারা দেওয়া যায় না
---
🔹 ২য় খণ্ড:
🌾 বন্দোবস্তযোগ্য জমি
💰 সায়রাত মহল (যেমন হাট-বাজার, ঘাট ইত্যাদি)
---
🔹 ৩য় খণ্ড:
⚖️ সরকার কর্তৃক নিলামে ক্রয়কৃত জমি
🔁 প্রত্যর্পিত জমি
📜 প্রজাস্বত্ব আইনের ৯২ ধারায় খাস ঘোষিত সম্পত্তি
---
🔹 ৪র্থ খণ্ড:
🌊 সিকস্তি জমি (নদী ভাঙনে সৃষ্ট/প্রভাবিত জমি)
---
💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
✔️ ৮ নং রেজিস্টার সরকারি জমির অফিসিয়াল রেকর্ড
✔️ জমির প্রকৃতি বুঝতে এই রেজিস্টার খুবই গুরুত্বপূর্ণ
---
📢 সচেতন হোন:
সরকারি খাস জমি নিয়ে কোনো লেনদেনের আগে অবশ্যই যাচাই করুন ✔️
🔄 পোস্টটি শেয়ার করুন—অন্যদের জানার সুযোগ দিন!
#ভূমি #ভূমি_আইন #আইন #জমি
কারিগরি ভূমি জরিপ ও আমিনশীপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
25/04/2026
"ভুমি মালিকানা সনদ"।
ভূমি মালিকানা সনদ বা CLO (Certificate of Land Ownership) ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এটি পুরোদমে কার্যকর হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জমি সংক্রান্ত সকল তথ্য একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে নিয়ে আসার কাজ করছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই সারা দেশে ডিজিটাল "ভূমি মালিকানা সনদ বা স্মার্ট কার্ড" বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী CLO কে মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বর্তমানে মালিকানা প্রমাণের জন্য দলিল, খতিয়ান বা পর্চা আলাদাভাবে রাখতে হয়। সিএলও চালু হলে একটি মাত্র ডিজিটাল কার্ড বা কিউআর কোড যুক্ত সনদের মাধ্যমেই মালিকানার সব তথ্য যাচাই করা যাবে।
সনদ পাওয়ার পূর্বশর্ত:-
ভূমি মালিকানা সনদ পেতে হলে জমি মালিকদের কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
নামজারি (Mutation) সম্পন্ন করা: আপনার নামে জমির খতিয়ান বা নামজারি অবশ্যই থাকতে হবে।
হালনাগাদ খাজনা: নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করা থাকলে সিএলও পাওয়া সহজ হবে। বর্তমানে ভূমি তথ্য বাতায়ন থেকে অনলাইনে খাজনা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক ব্যবস্থা: এটি মূলত একটি কিউআর কোড সম্বলিত স্মার্ট কার্ড হবে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সিএলও চালু হলে একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা ভুয়া দলিল তৈরি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, ব্যাংক লোন বা জমি কেনাবেচার সময় দীর্ঘসূত্রিতা কমবে, জমি হস্তান্তর বা বিক্রির সাথে সাথেই ডিজিটাল সিস্টেমে সিএলও আপডেট হয়ে যাবে।
আপনার জমির মালিকানা এই নতুন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে দ্রুত আপনার ই-নামজারী সম্পন্ন করুন এবং খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা সংগ্রহ করে রাখুন।
পোস্টটি ভালো লাগলে, নিজের বা অন্যের উপকারে আসতে পারে ভেবে থাকলে শেয়ার করতে পারেন।
কোন কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করতে পারেন।
জমি বা ফ্ল্যাট সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা বিনা পারিশ্রমিকে সমাধান পেতে, কমেন্টের লিংকে যেতে পারেন।
24/04/2026
⚠️ হেবা দলিল করার আগে সাবধান! এই ৩টি ভুল করলেই বিপদে পড়বেন
বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা দলিল একটি বহুল ব্যবহৃত আইনগত উপায়। কিন্তু অজ্ঞতা, তাড়াহুড়া বা ভুল পরামর্শের কারণে অনেকেই পরে জটিল বিরোধ বা মামলায় জড়িয়ে পড়েন 😟
আপনি যদি হেবা (Gift) করতে চান, তাহলে এই ৩টি গুরুতর ভুল এড়িয়ে চলুন—
❌ ১. দখল (Possession) হস্তান্তর না করা
আইন অনুযায়ী হেবা বৈধ হতে হলে—
👉 দাতার প্রস্তাব (Offer)
👉 গ্রহীতার গ্রহণ (Acceptance)
👉 এবং বাস্তব দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession)
—এই তিনটি শর্তই বাধ্যতামূলক ✔️
⚠️ শুধু দলিল রেজিস্ট্রি করলেই কাজ শেষ নয়! দখল বুঝিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে আদালতে সমস্যা হতে পারে।
❌ ২. শর্তযুক্ত হেবা করা
হেবা সবসময় নিঃশর্ত ও তাৎক্ষণিক হতে হবে।
🚫 “মৃত্যুর পর কার্যকর হবে”
🚫 “শর্ত পূরণ হলে কার্যকর হবে”
—এমন শর্ত দিলে দলিল অবৈধ হয়ে যেতে পারে।
❌ ৩. প্রকৃত ইচ্ছা (Free Consent) না থাকা
👉 চাপ, প্রভাব বা প্রতারণার মাধ্যমে করা হেবা টিকবে না
👉 দাতা বিষয়টি বুঝে স্বেচ্ছায় না করলে দলিল বাতিলযোগ্য হতে পারে
📌 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
হেবা দলিল করার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন 👨⚖️
একটি ছোট ভুল আপনার সম্পত্তিকে দীর্ঘমেয়াদী ঝামেলায় ফেলতে পারে!
🔁 শেয়ার করুন, যাতে অন্যরাও সচেতন হতে পারে
#হেবা #জমি #আইন
See less
22/04/2026
অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান:
ভূমি উন্নয়ন কর
অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করে আপনি যেভাবে নিবন্ধন করবেন
১। ঘরে বসেই ভূমি মালিক www.land.gov.bd অথবা www.ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে
ক) মোবাইল নম্বর
খ) জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর
গ) জন্ম তারিখ
* এ সকল তথ্য দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বাটনে ক্লিক করলে নাগরিকের মোবাইলে একটি ৬ ডিজিটের OTP কোড যাবে। মোবাইলে প্রাপ্ত কোড দিয়ে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
* নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নাগরিক তার পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করবেন যা দিয়ে পরবর্তীতে তার প্রোফাইলে লগইন করতে হবে।
* আইডিতে প্রবেশ করে খতিয়ান অপশনে গিয়ে খতিয়ানের তথ্য দিতে হবে। এরপর নাগরিকের বর্তমান ঠিকানা, ই-মেইল আইডি অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিক প্রোফাইল ১০০% সম্পন্ন করতে হবে।
২। খতিয়ানের তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস হোল্ডিং তৈরি করবে এবং হোল্ডিং তৈরি হওয়া মাত্রই নাগরিক মেসেজের মাধ্যমে তার জমির হোল্ডিং নম্বর ও ভূমি উন্নয়ন করের দাবির তথ্য পাবেন। অতঃপর নাগরিক অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে দাখিলা সংগ্রহ করতে পারবেন।
---
অন্যান্য পদ্ধতিতে নাগরিক নিবন্ধন ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান:
জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল নম্বর, জন্ম তারিখ ও সর্বশেষ খতিয়ানের নম্বর প্রদান করে নাগরিক নিম্নোক্ত তিনভাবে নিবন্ধন করতে পারবেনঃ
ক) ভূমি উন্নয়ন কর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে
খ) ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তার মাধ্যমে
গ) ৩৩৩ অথবা ১৬১২২ কল সেন্টারে কল করে এজেন্টের মাধ্যমে
---
ভূমি মন্ত্রণালয়
ভূমি সংস্কার বোর্ড
ানুন #ভূমি #কর
19/04/2026
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা সংক্রান্ত সকল ওয়েবসাইট লিংক একসাথে-
-----
ভূমি সমাধান Land Solution
#ভূমি_সমাধান #জমি #ভূমি #রেকর্ড #ডিজিটাল
18/04/2026
⛔📄 জমির দলিল ছাড়াও মালিকানা প্রমাণের কাগজপত্র..
অনেকেই মনে করেন জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য শুধু “দলিল” থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা একটু ভিন্ন।
জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে একাধিক কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—সবগুলো মিলিয়েই সম্পূর্ণ প্রমাণ তৈরি হয়।
আজকে সহজভাবে জানুন 👇
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📑 জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র
🔹 ১. খতিয়ান (পর্চা)
📌 প্রমাণ করে: জমি সরকারি রেকর্ডে কার নামে আছে
📍 কোথায় পাবেন:
👉 ভূমি অফিস (ইউনিয়ন/উপজেলা)
👉 অনলাইন (ই-পর্চা)
🔹 ২. নামজারি খতিয়ান (মিউটেশন)
📌 প্রমাণ করে: বর্তমান মালিক কে
📍 কোথায় পাবেন:
👉 উপজেলা ভূমি অফিস
👉 সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস
🔹 ৩. ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদ 💰
📌 প্রমাণ করে: আপনি নিয়মিত দখল ও ব্যবহার করছেন
📍 কোথায় পাবেন:
👉 ইউনিয়ন ভূমি অফিস
👉 অনলাইন (ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম)
🔹 ৪. দাগ ও নকশা (মৌজা ম্যাপ) 🗺️
📌 প্রমাণ করে: জমির সঠিক অবস্থান ও সীমানা
📍 কোথায় পাবেন:
👉 ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অফিস
👉 সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে
🔹 ৫. পর্চা (CS / RS / BS কপি) 📄
📌 প্রমাণ করে: জমির ইতিহাস ও পূর্বের মালিকানা
📍 কোথায় পাবেন:
👉 সেটেলমেন্ট অফিস
👉 অনলাইন (ই-পর্চা)
🔹 ৬. দখল প্রমাণ (Possession) 🏡
📌 প্রমাণ করে: আপনি বাস্তবে জমি ব্যবহার করছেন
📍 উদাহরণ:
👉 ঘরবাড়ি নির্মাণ
👉 চাষাবাদ
👉 সীমানা চিহ্ন
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
❓ কেন এতগুলো কাগজ দরকার?
একটি কাগজ একা যথেষ্ট নয় ❌
সবগুলো মিলিয়েই নিশ্চিত হয়—
✔️ মালিক কে
✔️ জমি কোথায়
✔️ কোনো বিরোধ আছে কিনা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
⚠️ জমি কেনার আগে যা চেক করবেন
✔️ দলিল ও খতিয়ানের নাম মিলছে কিনা
✔️ নামজারি করা আছে কিনা
✔️ খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে কিনা
✔️ দাগ ও নকশা ঠিক আছে কিনা
✔️ বাস্তবে জমি দেখে আসা হয়েছে কিনা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📢 শেষ কথা
জমির মালিকানা শুধু দলিল দিয়ে পুরোপুরি প্রমাণ হয় না।
খতিয়ান, নামজারি, খাজনা, নকশা—সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় শক্ত আইনি ভিত্তি।
#ভূমি_পরামর্শক
⚠️ সঠিক যাচাই না করলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন
👉 তাই জমি কেনা/বিক্রির আগে সব কাগজ ভালোভাবে যাচাই করুন
#জমি_আইন #খতিয়ান #নামজারি
#জমি
18/04/2026
ভুমি জরিপের ইতিহাস
১. প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপট
প্রাচীনকাল থেকেই জমি পরিমাপের অস্তিত্ব ছিল, তবে তা আধুনিক পদ্ধতির মতো সুশৃঙ্খল ছিল না।
প্রাচীন মিশর ও মেসোপটেমিয়া: নীল নদের বন্যায় সীমানা মুছে যেত বলে প্রতি বছর সেখানে জমি জরিপ করা হতো। গ্রিকরা একে বলত 'Geometry' (Geo = ভূমি, Metron = পরিমাপ)।
শেরশাহের আমল (১৫৪০-১৫৪৫): ভারত উপমহাদেশে সুশৃঙ্খল ভূমি জরিপের সূচনা করেন সুলতান শেরশাহ। তিনি দড়ি দিয়ে জমি মেপে 'একর' বা 'বিঘা' নির্ধারণের ভিত্তি স্থাপন করেন।
আকবরের আমল: সম্রাট আকবর তার অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমলের মাধ্যমে জরিপ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করেন। তিনি 'গজ' এবং 'জরিপ' (শিকল) ব্যবহার করে কর নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করেন।
২. ব্রিটিশ আমলের আধুনিক জরিপ
বাংলাদেশে বর্তমান ভূমি জরিপ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে স্থাপিত হয়।
ক. থাকবস্ত জরিপ (Thakbust Survey: ১৮৪৫-১৮৭৭)
এটি ছিল মূলত সীমানা নির্ধারণী জরিপ। গ্রামের সীমানা এবং মৌজা চিহ্নিত করার জন্য মাটির ঢিবি বা খুঁটি ব্যবহার করা হতো।
খ. ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে বা সিএস জরিপ (CS Survey: ১৮৮৮-১৯৪০)
এটিই উপমহাদেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক ও পূর্ণাঙ্গ ভূমি জরিপ। ১৮৮৫ সালের 'বঙ্গীয় প্রজাসত্ব আইন' অনুসারে এটি শুরু হয়।
পদ্ধতি: গান্টার শিকল (Gunter's Chain) ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে ম্যাপ তৈরি করা হয়।
গুরুত্ব: এই জরিপের মাধ্যমেই প্রথম 'খতিয়ান' এবং 'ম্যাপ' তৈরি করা হয় যা আজও অনেক ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
৩. পাকিস্তান আমলের জরিপ (এসএ ও আরএস)
ক. এসএ জরিপ (SA Survey: ১৯৫৬-১৯৬২)
১৯৫০ সালের জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর এই জরিপ হয়। এটি সরজমিনে গিয়ে করা হয়নি, বরং ব্রিটিশ আমলের সিএস রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে এবং জমিদারদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খতিয়ান সংশোধন করা হয়েছিল।
খ. আরএস জরিপ (RS Survey)
এসএ জরিপের ভুলভ্রান্তি সংশোধন করার জন্য পুনরায় সরজমিনে গিয়ে যে জরিপ করা হয়, তাকে আরএস বা রিভিশনাল সার্ভে বলা হয়।
৪. আধুনিক বাংলাদেশ ও বিএস জরিপ (BS Survey)
স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে সিটি জরিপ বা বিএস জরিপ চলমান রয়েছে।
বিএস/বিআরএস: ১৯৯০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জেলাভিত্তিক এই জরিপ চলছে।
ডিজিটাল জরিপ (Digital Survey): বর্তমানে সরকার ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে সরে এসে স্যাটেলাইট ডাটা এবং জিআইএস (GIS) প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল ভূমি জরিপ শুরু করেছে। এর ফলে ঘরে বসেই ম্যাপ এবং খতিয়ান দেখা সম্ভব হচ্ছে।
জরিপের মূল উদ্দেশ্য:
১. মালিকানা নির্ধারণ: প্রকৃত মালিকের নাম ও হিস্যা নথিবদ্ধ করা।
২. রাজস্ব আদায়: জমির শ্রেণি অনুযায়ী সরকারি কর নির্ধারণ।
৩. ম্যাপ তৈরি: ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা চিহ্নিত করা।