Master Travelers

Master Travelers

Share

Master Travelers | Discover the beauty within nature. Our Services:

The service segments focused by Master travelers at a glance:

1. Adventurous trips
2.

We create unforgettable adventures through trekking, hiking, scuba diving, camping, and unique outdoor experiences. Master Travelers is the name of an organization which helps people to see very closely the inner beauty of Bangladesh. We provide facilities like Adventure trip, Trekking, Camping, Backpacking, Hiking, Scuba Diving, Team Building, and Self Development networking in natural environmen

Photos from Master Travelers's post 28/08/2026
Photos from Master Travelers's post 28/08/2026

নিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ছোট্ট একটি ভূ-খণ্ড। বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশ কয়েকটি ছোট চরের সমন্বয়ে নিঝুম দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ১৪,০৫০ একর। নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়তো বিধায় জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ইছামতির দ্বীপ। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মত ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বালুয়ার চর বলেও ডাকতো যা পরবর্তীতে বল্লার চরে রূপান্তরিত হয়। দ্বীপটি সম্পূর্ণ নিরব হওয়ায় এর নামকরণ করা হয় নিঝুম দ্বীপ। দ্বীপের প্রধান সড়ক একটি। দ্বীপের এক পাশে থেকে আরেক পাশে সোজা চলে গেছে। বাজার আছে তিনটি এর মত। নিঝুম দ্বীপের মূল জনবসতির নাম হলো নামা বাজার। নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুৎ নেই। নামা বাজার এলাকায় রাত এগারোটা পর্যন্ত জেনাটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ থাকে। দ্বীপের ভেতর যাতায়াতের জন্য রিক্সা এবং মোটর সাইকেল রয়েছে। তবে মোটর সাইকেলই বেশি। অনেক দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়। দ্বীপে ঘুরার জন্য এ মোটর সাইকেল ভাড়া করা যায়। এ ক্ষেত্রে দুটি লাভ। মোটর সাইকেল যে চালাবে, সে গাইডের কাজ ও করবে। মোটর সাইকেল চালাতে পারলে নিজে নিজে চালানো যায়।

আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হন, তাহলে তো কথাই নেই। মূল দ্বীপসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে শীতকালে আসে হাজার হাজার অতিথি পাখি। এদের মধ্যে আছে সরালি, লেনজা, জিরিয়া, পিয়ং, চখাচখি, রাঙ্গামুড়ি, ভূতিহাঁসসহ নানারকম হাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, জিরিয়া, বাটান, গুলিন্দাসহ জলচর নানা পাখি, হরেক রকমের গাংচিল, কাস্তেচরা ইত্যাদি। কদাচিৎ আসে পেলিক্যান। আর বছরজুড়ে সামুদ্রিক ঈগল, শঙ্খচিল, বকসহ নানা স্থানীয় পাখি তো আছেই। দ্বীপের আশপাশের জঙ্গলেই আছে হরিণ, শেয়াল, বন্য শূকর, নানা রকম সাপ ও বানর।

পাখি বা হরিণ দেখতে হলে খুব ভোরে উঠতে হবে। হরিণ মূল দ্বীপেই স্থানীয় গাইডদের সাথে গিয়ে দেখে আসতে পারবেন। নিঝুম দ্বীপে এখন হরিণের সংখ্যা ৪০ হাজাররের মত। তারপরও হরিণ দেখতে হলে বনে ঢুকলে নিঃশব্দে চলাচল করতে হবে। সামান্য হৈ চৈ করলে এখানে হরিণের দেখা মেলা দুস্কর। জঙ্গলে ট্রেকিং এর সময় যথা সম্ভব সবাই হালকা রঙের সুতি পোশাক পড়বেন। বন্য প্রাণীদের দৃষ্টি খুব প্রখর। অতি উজ্জ্বল পোশাকের কারণে দূর থেকেই আপনার আগমন টের পেয়ে যাবে ওরা। হরিণের দল দেখতে বা ছবি তুলতে চৌধুরী খালের শেষ মাথা ভালো, ওই দিকটায় হরিণ বেশি দেখা যায়। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোন বনে এত কাছাকাছি থেকে এত বেশি চিত্রা হরিণ দেখা যায় না।

পাখি দেখতে হলে ট্রলারে করে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে যেতে হবে, পেরোতে হবে অনেকটা কাদা। কবিরাজের চর ও দমার চর পাখি দেখার জন্য বেশ উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি।

নিঝুম দ্বীপ এর দর্শনীয় স্থানসমূহ
চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চর – যেতে হবে বিকেল এ সন্ধ্যার আগে, চৌধুরীর খাল নেমে ঘন্টা খানেক হাঁটলেই বনের মধ্যে হরিন এর পালের দেখা পেতে পারেন। একটা ট্রলার রিজার্ভ নিন ১০-১৫ জনের গ্রুপ এর জন্য ১০০০-১২০০ টাকা ওরাই হরিন দেখিয়ে আনবে, সন্ধ্যার সময় কবিরাজের চর এ নেমে সূর্যাস্ত ও হাজার হাজার মহিষের পাল দেখতে ভুলবেন না।
কমলার দ্বীপ – সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশেপাশের দ্বীপগুলো সুন্দর।
ম্যানগ্রোভ বন – এটি নিঝুম দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প। নিঝুম দ্বীপ এ ছোট ছোট ছেলেরা গাইড এর কাজ করে, এদের সাথে নিয়ে সকাল বেলায় বনের ভেতর ঢুকে পড়ুন। হরিন দেখতে পাবেন।
নামা বাজার সি বীচ – নামার বাজার থেকে হেঁটে যেতে ১০ মিনিট লাগে। এখান থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন, এখানে বারবিকিউ করে মজা পাবেন।
দমার চর ও ভার্জিন / কুমারী সি বীচ – দমার চরের দক্ষিন দিকে নতুন একটা সী বিচ আছে যাকে বলে ভার্জিন আইল্যান্ড। এখানে অনেক নাম না জানা পাখির দেখা পাবেন খুব সকালে যদি যান। অনেক টুরিস্টদের কাছে এখনও অজানা এই জায়গাটা। ট্রলার ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা।
চোয়াখালি ও চোয়াখালি সী বিচ – চোয়াখালিতে গেলে খুব সকালে হরিন দেখা যায়। মটর সাইকেল ওয়ালাকে বলে রাখুন খুব সকালে আপনাকে হোটেল থেকে নিয়ে হরিন দেখিয়ে আনবে। ভাগ্য ভালো থাকলে সকাল ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করতে করতে নিঝুম রিসোর্ট এর বারান্দা থেকেও হরিন দেখতে পারবেন ২/৪ পিস।
আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে যান তবে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে ভোলার ঢালচর, চর কুকরি – মুকরি থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

কখন যাবেন
অক্টোবর থেকে এপ্রিল ১৫ তারিখ এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ভ্রমনের জন্য সব থেকে ভালো। অন্য সময় বর্ষা থাকে ও ঝড়ের কারনে মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে।

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায়
নৌপথে

ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সহজ রুটটি হলো – সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়ার তমরুদি। এ পথে দুটি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে। এমভি পানামা-২ ফোন- ০১৯২৪-০০৪৬০৮ এবং এমভি টিপু-৫, ফোন-০১৭১১৩৪৮৮১৩। ঢাকা থেকে ছাড়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় আর তমরুদি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে দুপুর সাড়ে বরোটায়।

এছাড়া প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে এম.ভি তাসরিফ-১, তাসরিফ-২ এবং এম.ভি ফারহান-৩, ফারহান-৪ ছেড়ে যায়। তাসরিফ-১ ও তাসরিফ-২ বিকাল ৫:৩০ মি. ও সন্ধ্যা ৬.০০ টায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা প্রতিজন এবং কেবিন ১২০০ টাকা ( সিংগেল) এবং ২২০০ টাকা ( ডাবল) তবে এই ভাড়া মাঝে মাঝে কমে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক।

ফারহান ৩ – 01785-630366
ফারহান ৪ – 01785-630369
তমরদ্দি থেকে স্কুটারে বন্দরটিলা ঘাট। যাওয়া যাবে ৩/৪জন। স্কুটার ছাড়া বাস+রিকসা করে বন্দরটিলা ঘাটে যাওয়া যায়। বন্দরটলা ঘাট থেকে ট্রলারে চ্যানেল পার হলেই নিজুম দ্বীপের বন্দরটিলা। চ্যানেল পার হতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট। এটা নিঝুম দ্বীপের এক প্রান্ত, আসল গন্তব্য অন্য প্রান্তের নামা বাজার। বন্দরটিলা থেকে নামা বাজার যেতে হবে রিক্সায়।

ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ১২ টায়।

সড়ক পথে

ঢাকার মহাখালী, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইন, এশিয়া ক্লাসিক, একুশে এক্সপ্রেস ও হিমাচল এক্সপ্রেসের বাস যায় নোয়াখালীর সোনাপুর। ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট। ভাড়া ১০০ টাকা। এরপর ট্রলারে চড়ে যেতে হবে নলচিরা ঘাট। ভাড়া ১৫০ টাকা। সেখান থেকে আবার বাসে জাহাজমারা বাজার। ভাড়া ৭০ টাকা। জাহাজমারা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে মুকতারা ঘাট। ভাড়া ৭০ টাকা। মুকতারা ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় নিঝুম দ্বীপ ঘাট। ভাড়া ১০ টাকা। সেখান থেকে আবার মোটরসাইকেলে যেতে হবে নামার বাজার (নিঝুম দ্বীপ)। ভাড়া ৬০ টাকা। তবে সময়ের বিবর্তনে ভাড়ার ক্ষেত্রে তারতম্য হতে পারে। তাই যাতায়াতের শুরুতেই পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভাড়া জেনে নিয়ে বাহনে চড়বেন।

এছাড়া ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অনেকগুলো চেয়ারকোচ সরাসরি নোয়াখালীতে যাতাযাত করে। চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টায় এগুলো সরাসরি মাইজদী সোনাপুর এসে পৌঁছে ভাড়া ২৫০ টাকা মত।

ট্রেনে

সকাল সাতটায় কমলাপুর থেকে ছাড়ে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন।

ট্রেনের সময়সূচি এখানে দেখে নিন
(Bangladesh Railway/Train Time Schedule)

নোয়াখালী সোনাপুর পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে চেয়ারম্যান ঘাট। বাস, টেম্পু বা বেবীতে সরাসরি ৪০ কিঃমিঃ দক্ষিণে সুধারামের শেষ প্রান্তে চর মজিদ স্টিমার ঘাট। তার পরেই হাতিয়া যাবার চেয়ারম্যান ঘাট। সোনাপুর থেকে একটি বেবী রিজার্ভ নিলে ৩০০-৪০০ টাকায় যাওয়া যায়। টেম্পো, বাসে জনপ্রতি ভাড়া আরো কম। চর মজিদ ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা সী-ট্রাকে করে হাতিয়া চ্যানেল পার হয়ে যেতে হবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে। সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা। নলচিরা বাজার থেকে যেতে হবে হাতিয়ার দক্ষিণে জাহাজমারা। সময় নেবে আধা ঘন্টা। জাহাজমারা থেকে ট্রলারে সরাসরি নিঝুম দ্বীপ। সময় নেবে ৪০-৫০মিনিট। তবে দলবেঁধে গেলে ট্রলার রিজার্ভ করে সরাসরি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়া যায়। ঘাট থেকে নদীপথে হাতিয়া অথবা নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে জোয়ারের জন্য।

চট্টগ্রাম থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায়
চট্টগ্রাম থেকে বাধন পরিবহনে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে হবে। ভাড়া পড়বে ২০০ টাকা। সোনাপুর থেকে সি এন জি নিয়ে যেতে হবে চেয়ারম্যান ঘাট। এক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলারে করে যেতে হবে হাতিয়া। এক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১২০ টাকা। হাতিয়া পৌঁছে ট্রলার ঘাট থেকে ১৫০ টাকা জনপ্রতি দিয়ে বাইক নিয়ে চলে যাবেন মোক্তারিয়া ঘাট। মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে যেতে হবে, ভাড়া ৩০ টাকা। বন্দর টিলা থেকে আবার মোটর বাইকে করে নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার যাবেন, ভাড়া ৫০ টাকা।

এছাড়া যারা নৌপথে যেতে চান – চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে হাতিয়ার জাহাজ আছে। সময়টা একটু বেশি লাগলেও যাত্রাটা বেশ রোমাঞ্চকর। সকাল ৮টায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ভাড়া ২০০ টাকা। হাতিয়া নেমে মক্তারিয়া ঘাটে চলে যাবেন। খেয়া পার হলেই নিঝুম দ্বীপ।

নিঝুম দ্বীপে থাকার হোটেল/রিসোর্ট
নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য একমাত্র ভালো মানের জায়গা হলো অবকাশ পর্যটনের নিঝুম রির্সোট (Nijhum Resort)। এখানে ২ বেডের রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, ৩ বেডের রুম ১৮০০ টাকা, ৪ বেডের রুম ২০০০ টাকা, ৫ বেডের ফ্যামিলি রুমের ৩০০০ টাকা, ৫ বেডের ডরমিটরির ভাড়া ১৮০০ টাকা ও ১২ বেডের ডরমিটরি ৩০০০ টাকা। ঢাকা থেকে নিঝুম রিসোর্টের বুকিং দেয়া যায়। ডরমিটরিতে অতিরিক্ত কেউ থাকলে জনপ্রতি গুনতে হবে ২০০ টাকা। সবগুলো রুমে এটাচ বাথরুম আছে। জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ পাবেন সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০.৩০ পর্যন্ত। এছাড়া সারা রাত লাইট ইউজ করতে পারবেন সোলার প্যানেল থেকে। এছাড়া সারাদিন ১-২ ঘন্টা পর পর ৩০ মিনিট এর জন্য বিদ্যুৎ পাবেন। অফ সিজনে রুম ভাড়ায় ৫০% ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় (১৫ এপ্রিল ১৫ – ৩০ সেপ্টেম্বর)

নিঝুম রিসোর্ট এর ঢাকায় যোগাযোগঃ অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, শামসুদ্দিন ম্যানশন, ১০ম তলা, ১৭ নিউ ইস্কাটন, ঢাকা। ফোন- ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯।

নিঝুম দ্বীপে নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগঃ সবুজ ভাইঃ ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪, ০১৮৪৫৫৫৮৮৯৯, ০১৭৩৮২৩০৬৫৫

এখানকার স্থানীয় বাজারে খুব সস্তায় অল্প দামে চার পাঁচটি আবাসিক বোডিং আছে। তাছাড়া বন বিভাগের একটি চমৎকার বাংলো আছে। পাশেই আছে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলো। এগুলোতে আগে ভাগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। তাছাড়া রেড-ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সাইক্লোন সেন্টারেও থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

বন বিভাগের রেস্ট হাউজ – ০১৭১১-১৭৩৪৩৪, ০১৭১৫-৫৪৬৭৭২। এদের নিজস্ব জেনারেটর আছে।
মসজিদ বোর্ডিং, নামার বাজার – এটা সবচেয়ে সস্তায় থাকার ব্যবস্থা। স্থানীয় মসজিদ থেকে এই ব্যবস্থা করেছে, এক্সট্রা দুইটা সিঙ্গেল এবং দুইটা ডবল রুম আছে, আর সব ডরমেটরি। ডরমেটরি – ভাড়া ২০০ – ৩০০ টাকা। এই বোর্ডিং এ কোনো এটাচ বাথরুম নেই, নেই কোন জেনারটরের ব্যবস্থা। এখানে ২টি কমন বাথরুম এবং একটি টিউবওয়েল আছে। এই বোর্ডিং এ থাকার জন্য বুকিং করতে যোগাযোগ করতে চাইলে – মোঃ আব্দুল হামিদ জসিম, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, নামার বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯
মাহমুদ বোডিং – ০১৭১৩-১১১৭৯৪। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫০টাকা।
হোটেল শাহীন, নামার বাজার – হোটেলটা নতুন। রুম ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকার মত পড়বে, তবে অবশ্যই ভালো দর কষাকষি জানতে হবে। ফোন নম্বরঃ ০১৮৬৩১৫০৮৮১
নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলা – পরিবেশ ভালো। ১/২ জনের রুম ভাড়া পরবে ৬০০/৭০০ টাকা পার ডে। ঢাকা বুকিং অফিস – ০১৮৪৭১২৩৫৭৩ এবং নিঝুমদ্বীপ বুকিং অফিস – ০১৮৪৭১২৩৫৭২
হোটেল দ্বীপ সম্পদ (সৈয়দ চাচার থাকা ও খাওয়ার হোটেল), নামার বাজার। ফোনঃ ০১৭২০৬০১ ০২৬, ০১৭৬০০০৮১০৬
কেওড়া রিসোর্টঃ বাবুল ভাই – ০১৬০৯-৪৯৬৮৮২
Nijhum Dwip River’s End Resort – 01712-633777
নিঝুম দ্বীপে কোথায় খাবেন
নিঝুম রিসোর্টে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। নামার বাজারে তেমন ভালো কোন খাবার হোটেল নেই। যেগুলো আছে সেগুলোতে খেতে পারেন, তবে আগেই কথা বলে নেবেন। এতে তাজা খাবার পাওয়া যাবে। বিভিন্ন ধরনের মাছ দিয়ে খেলেও ৫০-৬০ টাকার বেশি খরচ হবে না।

লোকাল কিছু খাবারের হোটেল আছে। যেমন- হোটেল সি-বার্ড, দ্বীপ হোটেল এবং ভাই-ভাই হোটেল। এখানে আপনি মাছ, মুরগি,হাস, কাকড়া, শুটকি খেতে পারবেন। তবে ভালো মিষ্টি জাতীয় খাবার পাবেন না।

এছাড়া নিজেরাও বাজার করে রান্না করে খেতে পারেন। নিঝুম দ্বীপ থেকে ফেরার পথে এখানকার বিখ্যাত শুঁটকি কিনে নিতে পারেন।

নিঝুম দ্বীপ এ ক্যাম্পিং সুবিধা
নিঝুম দ্বীপ এ ক্যাম্পিং (Camping) এর সুবিধা প্রচুর। পুরো দ্বীপে আপনার পছন্দের জায়গায় তাঁবু টানাতে পারবেন। জন্তু জানোয়ারের তেমন কোনো ভয় নাই, শুধু বুনো মহিষ থেকে সাবধান। ক্যাম্পিং এর জন্যে সবচেয়ে ভালো যায়গা হলো নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট এর পাশের খাল পার হয়ে সাগর পাড়ের বিশাল (৫/৬ মাইল) খোলা মাঠটি। ক্যাম্পিং এর মোটামুটি সব কিছুই এখানে পাওয়া যাবে। তেমন কিছুই নেয়া লাগবে না। এরপরও যদি কিছু লাগে তাহলে জাহাজমারা বাজারে পাওয়া যাবে।

এছাড়াও নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান এলাকায় ক্যাম্পিং এর জন্যে তাবু ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া ঘোরার জন্যে ফাইবার বোটও ভাড়া পাওয়া যায় যার ধারন ক্ষমতা ৪০ জন।

যোগাযোগঃ

মাসুদ – ০১৮৩৭-৪১১২১৪, ০১৭২৪-৭০০৩১০
রাসেল – ০১৮৬৮-৬১২১৭৮
মোবাইল নেটওয়ার্ক
নিঝুম দ্বীপ এ শুধুমাত্র রবি এবং গ্রামীনফোন এর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।

Photos from Master Travelers's post 26/08/2026

তিনাপ সাইতার হচ্ছে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়িতে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। তিনাপ সাইতার একটি বম শব্দ। বম ভাষায় তিনাপ অর্থ নাকের সর্দি এবং সাইতার অর্থ ঝর্ণা বা জলপ্রপাত। এটি পাইন্দু খালের অনেক ভেতরে অবস্থিত। পানিপ্রবাহের দিক থেকে তিনাপ সাইতার বাংলাদেশের সব থেকে বড় জলপ্রপাত। তিনাপ সাইতারে যাওয়ার পথের ঝিরিপথ খুবই আকর্ষণীয়। বর্ষামৌসুমে তিনাপ সাইতারে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

Photos from Master Travelers's post 26/08/2026

তিনাপ সাইতার (Tinap Saitar)

তিনাপ সাইতার (Tinap Saitar) বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে অবস্থিত যা এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। অনেকের কাছে এটি পাইন্দু সাইতার নামেও পরিচিত। তিনাপ সাইতার যেতে হলে হেঁটে পাড়ি দিতে হবে ৪০ কিলোমিটার পথ। আবার সেই পথেই ফিরে আসতে হবে। বম ভাষায় সাইতার শব্দের অর্থ ঝর্ণা।

বান্দরবান পৌঁছে বাস থেকে নেমে রোয়াংছড়ির বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে যেতে হবে রোয়াংছড়ি। সেখান থেকে গাইড নিয়ে ২৩ কিমি হেঁটে যেতে হবে রনিন পাড়া। রাতে রনিন পাড়ায় থেকে পরের দিন ৪/৫ ঘণ্টা হেটে (হাটার গতি ও স্ট্যামিনার উপর নির্ভর করে সময় বেশি বা সামান্য কম হতে পারে) পাইন্দু খাল ও বিশাল পাহাড় পেরিয়ে যখন চোখের সামনে অকস্মাৎ উদিত হয়, এই তিনাপ সাইতার, সকল কস্ট, বেদনা নিমেষে পরিণত হয়, অদ্ভুত এক ভালোলাগায়, অদ্ভুত এক মাদকময় নেশায়।

কিভাবে যাবেন
প্রথমে আপনাকে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়। যেমন শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন- এর যেকোনো একটি বাসে চড়ে আপনি বান্দরবানের যেতে পারেন। রাত ১০ টায় অথবা সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসে জন প্রতি ভাড়া ৮০০-৯০০ টাকা। এসি ১৪০০ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এসব বাসে জনপ্রতি ২২০টাকা ভাড়া রাখা হয়।

বাস যেখানে থামবে সেখান থেকে রোয়াংছড়ি যাওয়ার বাসস্ট্যান্ডে যেতে টমটম ভাড়া ১৫ টাকা। রোয়াংছড়ির বাস এক ঘণ্টা পরপর ছাড়ে, কাজেই বান্দরবানে নেমে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যান রোয়াংছড়িতে। পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘণ্টা দেড়েক। তবে চাইলে হোটেল হিলভিউর সামনে থেকে মাহেন্দ্রও রিজার্ভ নেওয়া যায়। খরচ পড়বে ১০০০-১২০০-এর মধ্যে। ১২ থেকে ১৪ জনের দল হলে মাহেন্দ্র খুবই চমৎকার বাহন। সময় লাগবে এক ঘণ্টার মতো।

রোয়াংছড়িতে নামার পর গাইডকে সঙ্গে নিয়ে যে কয়দিন থাকবেন সেই কয়দিনের উপযোগী চাল, ডাল, মসলা, মুরগি, ডিম, আনাজপাতি যা চান কিনে নিতে পারেন। বলে রাখলে গাইড নিজেও আগেভাগে বাজার করে রাখতে পারে। ভালো গ্রিপের স্যান্ডেল পাওয়া যায় রোয়াংছড়ি বাজারে। জোড়াপ্রতি দাম ১৫০ টাকার মতো পড়বে। এখানে রাধামন নামে একটি হোটেল আছে, ক্লান্ত লাগলে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিতে পারেন। বিশ্রাম শেষে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হবে ‘রনিনপাড়া’।

রনিনপাড়ায় পৌঁছানোর দুটি পদ্ধতি আছে। চাঁদের গাড়িতে যেতে পারেন অথবা হেঁটেও যাওয়া যায়। চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে ৪০০০-৫৫০০ টাকার মতো। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে খাড়া এক পাহাড়ে কাছে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে ঘণ্টাখানেক হেঁটে যেতে হবে। আর যদি খুবই কষ্টসহিষ্ণু হন আর পাহাড় দেখে মনটা যদি উশখুশ করে, তাহলে রোয়াংছড়ি থেকেই নেমে পড়ুন রাস্তায়। রোয়াংছড়ি শহরের পাশেই পাহাড়ি ছড়া ধরে হাঁটতে হবে বেশ কিছুক্ষণ। এরপরে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে রনিনপাড়া পৌঁছাতে কমসে কম ঘণ্টা ছয়/সাত সময় লাগবে। প্রকৃতিপ্রেমী হলে অবশ্য শুরুতে বেশ উপভোগই করবেন। কখনো দেখবেন পাশের খাড়া পাহাড় উঠে গিয়েছে বহুদূর, কখনো দেখবেন দুই পাশ থেকে বিস্তৃত ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি, আবার কখনো হাঁটতে হবে ঠাসবুনোটের জঙ্গলের মাঝের সরু রাস্তা দিয়ে।

রনিনপাড়ায় পৌঁছে বিশ্রাম নেবেন। এখানে গাইডই সর্বেসর্বা। সেই আপনার থাকা, গোসল, খাওয়ার বন্দোবস্ত করবে। রনিনপাড়ার বেশির ভাগ মানুষই বম জাতির। পাশাপাশি এখানে বেশ কিছু তঞ্চংগ্যাও থাকেন। চায়ের দোকানও আছে, আছে পানির বন্দোবস্ত। আশপাশের দুর্গম অঞ্চলের তুলনায় রনিনপাড়া এক স্বর্গ বললেও চলে। এখান থেকে মোবাইল বা ক্যামেরা চার্জ দিয়ে নিতে পারেন। সৌরবিদ্যুতের কল্যাণে কিছু কিছু বাড়িতে আলোর ব্যবস্থা আছে। রনিনপাড়া পৌঁছে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে রিপোর্ট করতে হয়। তবে আপনার গাইড আগেভাগে সমঝোতা করে রাখলে এই ঝামেলা নাও পোহাতে হতে পারে। পরেরদিন খুব ভোরে তিনাপের পথে যাত্রা শুরু করতে হবে। তাই রনিনপাড়ায় পৌঁছেই যতটা দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করা ভালো।

রনিনপাড়া থেকে তিনাপ সাইতারে যেতে হলে চেষ্টা করবেন যতটা সকাল সকাল সম্ভব যাত্রা শুরু করার। তিনাপ সাইতার রনিনপাড়া থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থিত। যেতে কমবেশি চার ঘণ্টা সময় লাগবে। ভরাপেটে পাহাড়ে হাঁটা খুবই কষ্টকর। তাই হালকা কিছু খেয়ে বেরুনোই ভালো। ব্যাগ-ট্যাগ সঙ্গে নেওয়ার চিন্তা দূরে রাখবেন! সঙ্গে শুধু পানি আর অন্যান্য টুকিটাকি নেবেন। রনিনপাড়া থেকে ঘণ্টা দেড়েক হাঁটলে পৌঁছাবেন দেবাছড়াপাড়ায়। চাইলে সঙ্গে নুডলস বা স্যুপজাতীয় কিছু নিয়ে এসে এখানে রান্না করতে পারেন।

দেবাছড়া পাড়া থেকে আপনাকে নামতে হবে পাহাড়ি ছড়ায়। এই রাস্তাটি চমৎকার। দুই পাশে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়, মাঝে মাঝে গয়ালের দেখা পাবেন। এরা হলো বন্য গরু (গৌর) আর গৃহপালিত গরুর সংকর। চোখ খোলা রাখলে সাপ অথবা কাঁকড়াও চোখে পড়তে পারে। তবে সাবধানে থাকতে হবে। যেসব পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটবেন, সেগুলো পানি আর শ্যাওলার কল্যাণে খুবই পিচ্ছিল। বেকায়দা আছাড় খেলে হাত-পা ভাঙা বিচিত্র না।

ছড়া থেকে উঠে আপনাকে বেশ খানিকটা পাহাড় বাইতে হবে। এখানকার রাস্তা কষ্টসাধ্য, কিন্তু বিপজ্জনক নয়। হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ে ওপর থেকেই চোখে পড়বে বিশাল পাইন্দু খাল। পাইন্দু খালের আগে আগে বেশ খাড়া একটা পাহাড়ি রাস্তা নেমে গিয়েছে, এটা দিয়ে নামার সময় একটু সাবধানে নামা ভালো।

তিনাপ সাইতার পাইন্দু খাল দিয়েও যাওয়া যায়, আবার কিছুটা ঘুরপথে পাহাড় দিয়েও যাওয়া যায়। পাইন্দু খালের রাস্তা বেশি সুন্দর সেই সঙ্গে বিপদের আশঙ্কাও কিঞ্চিত বেশি। খালের কোনো কোনো জায়গায় প্রচণ্ড স্রোত, পা রাখাই দায়। গাইড দক্ষ হলে অবশ্য অনায়াসে আপনাকে এগুলো পার করিয়ে নেবে। তবে বর্ষাকালে পাইন্দু খাল দিয়ে না যাওয়াই ভালো। সাতাঁর না জানলে তো অবশ্যই না।

তবে যে পথেই যান, তিনাপের কাছাকাছি পৌঁছালেই পানির গর্জন কানে আসবে। তারপরে আর কি, সামনেই দেখবেন সেই প্রকাণ্ড জলপ্রপাত। আশপাশে পড়ে আছে বিশালকায় সব পাথর আর স্রোতের তোড়ে ভেসে আসা গাছ। আর দুই পাশ দিয়ে খাড়া জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড় শত ফুট উপরে উঠে গিয়েছে। যেকোনো একটা পাথরে উঠে যান, কিংবা প্রপাতের তলায় গিয়ে ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। শরীর মন জুড়িয়ে আসবে। যাত্রাপথের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য এর থেকে বড় টনিক আর নেই। নিজের চোখে দেখলেই বুঝতে পারবেন, অফিশিয়াল কোনো ঘোষণা না থাকলেও কেন তিনাপকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত বলা হয়! জলপ্রপাতের পানিতে গোসল করে, বিশ্রাম নিয়ে ফেরার রাস্তা ধরুন। এ রকম চমৎকার একটা জলপ্রপাত দেখার পর, ফিরতে আর বিশেষ শারীরিক কষ্ট হওয়ার কথা না।

আরেকটা রুট হলো – বান্দরবান-রোয়াংছড়ি-কেপ্লাংপাড়া-পানখিয়াংপাড়া-রনিনপাড়া-দেবাছড়াপাড়া-তিনাপ সাইতার-আত্তাপাড়া-রুমা-বান্দরবান।

এক্ষেত্রে হাটা বেশি কিন্তু ট্রেইলটা অসাধারন। বান্দরবান থেকে মাহিন্দ্রা (ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা) বা চান্দের গাড়ি (ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা) করে রোয়াংছড়ি। রোয়াংছড়ি বাজার থেকে একজন গাইড সাথে নিয়ে আর্মি ক্যাম্প ও থানা থেকে অনুমতি নিতে হবে। রোয়াংছড়ি থেকে হেটে কেপ্লাংপাড়া, পানখিয়াংপাড়া হয়ে রনিনপাড়া, রনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে অনুমতি নিতে হবে, রাতে রনিনপাড়া থকতে হবে (থাকা জন প্রতি ১০০-১৫০ টাকা, খাওয়া জন প্রতি ১০০ টাকা)। পরদিন রনিনপাড়া থেকে দেবাছড়াপাড়া হয়ে তিনাপ সাইতার, সেখান থেকে নতুন পাড়া হয়ে আত্তাপাড়া, রাতে আত্তাপাড়া থকতে হবে (থাকা জন প্রতি ১০০ টাকা, খাওয়া জন প্রতি ৮০ টাকা)। পরদিন আত্তাপাড়া থেকে চান্দের গাড়ি (ভাড়া ৪০০০-৬০০০ টাকা) করে রুমা হয়ে বান্দরবান।

রুমা থেকে তিনাপ সাইতার ভ্রমণ
বান্দরবানের রুমা উপজেলা হয়ে তিনাপ ভ্রমণ অনেকটাই সহজ এবং কম সময় লাগে। ঢাকা থেকে বান্দরবান পৌছে বাসে কিংবা চান্দের গাড়িতে করে রুমা উপজেলা। রুমা থেকে অনুমতি নিয়ে সেখান থেকে চাঁদের গাড়ী নিয়ে আত্তাপাড়া যেতে হবে, ভাড়া আনুমানিক ২২০০-২৫০০ টাকা, যাওয়া আসা ৫০০০ টাকা। আত্তাপাড়াতে জনসন দার ঘরে থাকার ব্যবস্থা আছে, থাকার খরচ আনুমানিক ১০০-১৫০ টাকা। এখান থেকে বিজিবি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে নিতে হবে। পরের দিন গাইড নিয়ে দুই ঘণ্টার ট্রেক করে তিনাপ সাইতার দেখে আসতে পারবেন। এই ট্রেকে বেশ কয়েকটা ছোট ছোট ঝিরি এবং ঝর্ণার দেখা পাবেন। ফেরার সময় আত্তাপাড়া থেকে চান্দের গাড়ি নিয়ে বান্দরবান ফিরতে পারবেন। আত্তাপারা থেকে বান্দরবান চান্দের গাড়ির ভাড়া ৫০০০ টাকা।

তিনাপ সাইতার যাওয়ার খরচ
সব সময় একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, এখানে উল্লেখিত খরচ একটা ধারনা মাত্র। আনুষাঙ্গিক অনেক কিছুর কারনেই এই খরচের হিসেবটা কম বেশী হতে পারে। এছাড়া টুকিটাকি কিছু খরচ থেকে যায় যা এই হিসাবের আওতায় নেই। আপনার ট্যুর প্ল্যান করার সময় সেগুলো মাথায় রেখে খরচের হিসেব কষবেন।

ঢাকা টু বান্দরবান বাস ভাড়া = ৬২০/- (নন-এসি)
বান্দরবান লোকাল বাস কাউন্টার পর্যন্ত অটো ভাড়া পার হেড = ১৫/-
বান্দরবান টু রোয়ানছড়ি বাস ভাড়া = ৬০-৮০/-
চান্দের/চাঁদের গাড়ি ভাড়া, রোয়ানছড়ি টু রনিনপাড়া = ৪৫০০-৫৫০০/-
রনিনপাড়া টু বান্দরবান = ৪৫০০-৫৫০০/-
রনিনপাড়ায় থাকা প্রতি রাত মাথাপিছু = ১৫০/-
রনিনপাড়ায় প্রতিবেলা খাওয়া – ডিম, ডাল, আলুভর্তা, ভাত = ১৫০/-
মুরগী, ডাল, ভাত = ২০০/-
গাইড খরচ প্রতিদিন = ১০০০/-
বান্দরবান থেকে ঢাকা বাস ভাড়া = ৬২০ টাকা
কোথায় থাকবেন
রোয়াংছড়িতে রাধামন নামে একটি হোটেল আছে। কক্ষপ্রতি ঘণ্টায় ৩৫০-৪০০ টাকা ভাড়া নেবে। চাইলে এখানে রাতও কাটাতে পারেন। এসি রুম ৩৫০০ টাকা আর নন এসি রুম ২৫০০ টাকা নিবে। রাধামন ছাড়াও প্রায় একই খরচে একই সুবিধাসমেত বেশ কয়েকটি হোটেল পাবেন। এ ছাড়া রনিন পাড়ার আদিবাসীদের বাসায় থাকার ব্যবস্থা আছে যা গাইডই ব্যবস্থা করে দেবে।

গাইড
ঢাকা থেকেই গাইডের সঙ্গে কথা বার্তা বলে রাখতে হবে। গাইডের খরচ দিনপ্রতি অন্তত২০০০ টাকা, বাকিটা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। এর সঙ্গে রনিনপাড়ায় প্রতি রাত থাকা বাবদ ২৫০ টাকা আর সেই সঙ্গে রান্না, লাকড়ির খরচ ইত্যাদি বাবদ কিছু দিতে হয়। বাজার আপনি গাইডকে সঙ্গে নিয়েও করতে পারেন, অথবা গাইড নিজেই আগেভাগে করে রাখতে পারে। এই জায়গাটা এখনো ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে প্রচলিত না। কাজেই গাইড আপনার গলা কাটার চেষ্টা করবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন। মানুষ হিসেবে এখানকার সবাই বেশ অতিথিপরায়ণ ও সৎ। কাজেই বেশি দরদাম করতে না যাওয়াই ভালো। এ রকম একজন গাইডের নাম জেমসন। উনি রনিনপাড়ায় বেশ নাম-ডাকওয়ালা মানুষ। তার মোবাইল নম্বর (০১৮৭৯৫১৫০৮/ ০১৫৩২৪৫৭২২)

সাথে যেসব জিনিস নিবেন
ব্যাক্তিগত ঔষধ, মশা ও জোকের প্রতিষেধক।
কম এবং পাতলা জামা কাপড়, ছাতা অথবা রেইনকোট।
পানি ও শুকনো খাবার।
ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড এর ফটোকপি

26/08/2026

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Dipanwita Ganguly, Israt Ferdous Emu, Afroja Akter, Mahedi Hasan Masud, Avilena Eime, কিবরিয়া তাহ্সীন

25/08/2026

Hasan afridi 017

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Dhaka
1219