29/11/2022
ভিনিসিয়াসের অফসাইডের রহস্য
যেকারণে বাতিল হয়েছিল ভিনিসিয়াসের গোলটি
ভিনিসিয়াসের গোলটি যে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল এটা তো খেলা যারা দেখেছেন তারা জেনে গিয়েছেন। কিন্তু ঠিক কিভাবে অফসাইডটি হলো? খুব অদ্ভুত একটা অফসাইড এখানে হয়েছিল। নিচের ছবিতে সেটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হলোঃ
ছবি-১ এ দেখা যাচ্ছে ব্রুনো গুইমারেজের (একেবারে ডানের কোণায়) পায়ে বল। তিনি বলটা বাড়াচ্ছিলেন সামনে থাকা অ্যালেক্স সান্দ্রোর দিকে। ঠিক সেই মুহুর্তে রিচার্লিসন অফসাইড পজিশনে ছিল। কিন্তু যেহেতু সরাসরি তার দিকে বল বাড়ানো হয়নি এবং তিনি খেলায় এক্টিভ নন সেহেতু তিনি তখনো অফসাইড নন।
ছবি-২ এ দেখা যাচ্ছে ব্রুনোর বাড়ানো বল অ্যালেক্স সান্দ্রো ধরতে পারেন নি। সেটা দেখেই সামনে দাঁড়ানো রিচার্লিসন বলের দিকে দৌড়ানো শুরু করেন।
ছবি-৩ দেখাচ্ছে যে রিচা সুইজারল্যান্ডের ম্যানুয়েল আকাঞ্জিকে বল ধরতে বাঁধা দিয়েছেন। যেহেতু যখন বলটি বাড়ানো হয়েছিল তখন রিচার্লিসন অফসাইড পজিশনে ছিলেন এবং অফসাইড পজিশন থেকেই খেলায় এক্টিভ হয়েছেন তাই রিচার্লিসন অফসাইড বলে গণ্য হয়েছেন (ছবি-৪)। সেই মুহুর্ত থেকে ভিনিসিয়াসের গোল করা পর্যন্ত কোন কিছুই আর বৈধ থাকলো না।
খুবই অদ্ভুত রকমের একটা অফসাইডের উদাহরণ এটি। তবে নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই অফসাইড। আমার ধারণা এই অদ্ভুত রকমের অফসাইডটা খালি চোখে কখনোই ধরা সম্ভব হতো না। VAR ছিল বলেই এটা ধরা পরেছে। ভিনিসিয়াদের ঠান্ডা মাথায় চমৎকারভাবে প্লেসিং করে করা গোলটা বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ন্যায্য সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।
24/11/2022
অফসাইড বিতর্ক, বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাধানঃ
সারা বিশ্ব এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। তবে বলি এবারের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলে যুক্ত হয়েছে Artificial Intelligence তথা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাকে ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ আর কি! গোল দেওয়ার আগে প্লেয়ার অফসাইডে ছিল কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখন কম্পিউটারের সাহায্যে নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে VAR তথা Video Assistant Referee প্রযুক্তির সাথে আরো যুক্ত হলো SAOT তথা Semi Automated Offside Technology. বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল বল হিসাবে ব্যবহৃত হয় এডিডাস এর তৈরী বলটি। এ প্রযুক্তিতে বলটির ভেতরে ঠিক কেন্দ্র বরাবর একটি মাইক্রোচিপ (মোবাইলের সিমের মতো) ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেকটি প্লেয়ারের বডিতেও অনুরূপ চিপ যুক্ত থাকে ফলে প্রতিটি খেলোয়াড়ের দেহের মোট 29টি পয়েন্ট (অঙ্গ প্রতঙ্গ) থেকে প্রতি মুহুর্তে অর্থাৎ প্রতি 1 সেকেন্ডে 500 বার শরীরের মুভমেন্ট এর তথ্য সংগ্রহ হতে থাকে Artificial Intelligence এর কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রাল কম্পিউটারে (ছবি যুক্ত)। তাছাড়া স্টেডিয়ামের ছাদের নীচের অংশে অর্থাৎ মাঠের ভেতরের বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে মোট 12টি Specialized Dedicated ক্যামেরা। সব মিলে এই সিস্টেমটি 1 সেকেন্ডের 500 ভাগের এক ভাগ সময়ে প্রতিনিয়ত ডাটা সংগ্রহ করতে থাকে এবং কোন খেলোয়াড় অফসাইডে থাকলে এ সিস্টেম নিজে থেকেই (স্বয়ংক্রিয়ভাবেই) এলার্ম দিতে থাকে। পরবর্তীতে মাঠের রেফারী যখনই এ সিস্টেমের সাহায্য নিতে চান তখনই রেডিমেইড রিপোর্ট আকারে তা পেয়ে যান তারা। ঠিক ক্রিকেটের এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের মতো। আর সারা বিশ্বের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) এ প্রযুক্তিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে 100% সফলতা পেয়েছেন এবং তার পরেই তা এবারের কাতার বিশ্বকাপে বাস্তবায়ন করেছেন।
এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
07/11/2022
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এর জন্য ব্রাজিলের স্কোয়াড।
স্পোর্টস স্কুলের পক্ষ থেকে শুভকামনা। ❤️
22/08/2022
লিগ ওয়ানে এখন পর্যন্ত পিএসজির হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছে মেসি,নেইমার,এম্বাপ্পেরা।তবে এ সিজনে এখন পর্যন্ত সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন নেইমার জুনিয়র। ৪ ম্যাচ খেলে ১৩ গোলে অবদান তার।৭ গোল এবং ৬ এসিস্ট। ৩ ম্যাচেই হয়েছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
আজকের ম্যাচে নেইমার করেছেন ২ গোল এবং টিমমেটদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৩ গোল। এক ম্যাচেই ৫ গোলে অবদান!! এক কথায় অবিশ্বাস্য!
গতরাতে নেইমার ৫ গোলে ভুমিকা রাখা ছাড়াও ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭ টি চান্স ক্রিয়েট করেছেন এবং মেসির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪ টি কি পাস দিয়েছেন। এছাড়া তার ওয়ার্করেট দেখার মতো ছিলো। তিনি মিডে নেমে বল ক্যারি করছেন,ট্যাকেল করেছেন,ফাউল থেকে নিজেকে সেইফ রাখতেছেন এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ড্রিবল কম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাটা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই সিজনে লিগ ওয়ানে সর্বোচ্চ ৫ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন নেইমার। এম্বাপ্পে ৪ গোল করে আছেন লিস্টে নেইমারের পরের অবস্থানেই।
তিনি ৬ টি এসিস্ট করেও শীর্ষে অবস্থান করতেছেন যেখানে দ্বিতীয় পজিশনে থাকা মেসির এসিস্ট ২ টি!
ম্যাচ রেটিং এর দিক থেকেও সবার থেকে এগিয়ে নেইমার।তার ম্যাচ রেটিং ৯.৭৩!!! বিগ চান্স ক্রিয়েটেও সবার থেকে অনেক এগিয়ে নেইমার।তিনি ৭ টি বিগ চান্স ক্রিয়েট করেছেন এখন পর্যন্ত যেখানে মেসি ৩ টি বিগ চান্স ক্রিয়েট করে তার পরেই অবস্থান করতেছেন।সেই সাথে চান্স ক্রিয়েটের দিক দিয়েও শীর্ষে আছেন নেইমি।১৪ টি চান্স ক্রিয়েট করেছেন তিনি এবং প্রতি ম্যাচে সব থেকে কি-পাস দেওয়া প্লেয়ারটার নামও নেইমার।
আর বেশিদিন নেই বিশ্বকাপের।তাই তার পারফরম্যান্স ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে অনেক আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে নিশ্চয়ই। সেই সাথে জেসুসের উড়ন্ত ফর্ম,মার্টিনেল্লির নামের প্রতি সুবিচার,ব্রুনোর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, পেদ্রোর রেগুলার গোল এসিস্ট,ভিনসিয়াসের আগুন পারফরম্যান্স সব কিছুই ভালো লক্ষন এখন পর্যন্ত। তাই বিশ্বকাপ নিয়ে আশা করা যায়ই যদি তিতে ব্রাজিলের দুর্বলতা গুলো কাটিয়ে তুলে টিম হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।