04/07/2026
কুরআন থেকে নেওয়া ৭টা লাইফ হ্যাকস:
1. “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।”
- সূরা আশ-শারহ ৯৪:৬
জীবনের খারাপ সময় স্থায়ী না। আজকের কঠিন সময়ই হয়তো আগামী দিনের শক্তি আর সফলতার কারণ হবে।
2. “আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।”
- সূরা আর-রা’দ ১৩:১১
লাইফ বদলাতে চাইলে প্রথমে নিজের মাইন্ডসেট, অভ্যাস আর কাজ বদলাতে হবে। Change always starts from within.
3. “আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।”
- সূরা হুদ ১১:১১৫
সবকিছু সাথে সাথে পাওয়া যায় না। ধৈর্য ধরে ভালো কাজ করে গেলে ফল একদিন অবশ্যই আসে।
4. “খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় করো না।”
- সূরা আল-আ’রাফ ৭:৩১
শুধু টাকার না, সময়, এনার্জি আর সুযোগের অপচয়ও মানুষকে পিছিয়ে দেয়।
5. “যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না।”
- সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৬
সব বিষয়ে মতামত দেওয়া জরুরি না। আগে জানুন, বুঝুন, তারপর কথা বলুন।
6. “নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও দাম্ভিককে পছন্দ করেন না।”
- সূরা আন-নিসা ৪:৩৬
অহংকার মানুষকে ধীরে ধীরে একা করে দেয়। বিনয় এমন একটা গুণ, যা মানুষকে সত্যিকারের বড় করে তোলে।
7. “আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
- সূরা আত-তালাক ৬৫:৩
সবকিছু আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে না। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময়ই সবচেয়ে উত্তম 🤍
04/07/2026
চল্লিশ বছর বয়সী একজন গোলকিপার।
যে বয়সে অনেক ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন,
সেই বয়সে তিনি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন!
অথচ তার ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছিল ২৫ বছর বয়সে।
বড় কোনো ক্লাব তাকে নেয়নি।
জীবনে অনেক বড় কোনো ট্রফিও জিততে পারেননি।
অথচ কেপ ভার্দে, মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের একটা দেশ, তার হাত ধরেই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসলো।
নাম তার ভোজিনহা। পুরো পৃথিবী যার খেলা দেখে এখন মুগ্ধ। বিপক্ষ দলের মানুষও এখন যার ভক্ত!
স্পেনের বিপক্ষে ২৭টা শটের মধ্যে ৭টা ছিলো সরাসরি গোলের পথে। একটাও ঢুকতে দেননি।
সেদিন ম্যাচসেরা হলেন। তারপর এক রাতেই তাকে চিনে ফেললো পুরো পৃথিবী।
বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনাকেও প্রায় কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে।
তবে হেরে গিয়েও তিনি নায়ক হয়েই ফিরলেন।
কারণ জীবনে সব জয় স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না।
মাঝে মাঝে হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া যায়।
আর সেটাই প্রমাণ করলেন ভোজিনহা।
04/07/2026
অনেকেই এখন বলছেন, “যাদুর কোনো প্রভাব নেই।” অথচ ইসলামে যাদুর অস্তিত্ব ও তার ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ফালাক ও সুরা আন-নাস-এ যাদু এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
তবে যিনি বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেন, তাঁর সব ভবিষ্যদ্বাণী না মেলাও অনেকের মতে তাঁর কৌশলেরই একটি অংশ। কারণ, যদি প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু মিলে যেত, তাহলে সন্দেহ ও বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠত।
মজার ছলে বলা যায়—আজকের ভবিষ্যদ্বাণীও যদি শতভাগ মিলে যেত, তাহলে হয়তো মেসি বা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আগেই ফিফাই তাকে খুঁজে বের করত! হয়তো হ//ত্যা করেও ফেলতো সম্ভবত!!
যাই হোক, একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় হলো—যাদু, হিংসা, অশুভ প্রভাব এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সুরা আল-ফালাক ও সুরা আন-নাস পাঠ করা। এটাই রাসূল ﷺ-এর শেখানো গুরুত্বপূর্ণ আমল।
02/07/2026
বয়স বাড়লে বন্ধু কেন কমে যায়? আর কেন সেই বন্ধুত্ব ধরে রাখা জরুরি
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনে বন্ধুদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একটা গবেষণা অনুযায়ী– ২৫ বছর বয়সের পর থেকে আমরা বন্ধুদের হারাতে থাকি। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত এরকম সিচুয়েশন থাকে। ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে গিয়ে বন্ধুর সংখ্যা স্ট্যাবল হয়ে যায়।
বিষয়টা শুনতে এই যুগে তেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে না হলেও; মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব সেকারণে একজনের জীবনে ভাল মানের হিউম্যান রিলেশনশিপ থাকা জরুরি,মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য।
~
ছোটবেলায় সাধারণত একজন মানুষের বন্ধুর সংখ্যা বেশি থাকে।যখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়তাম, তখন আমাকে প্রায়ই মজা করে অনেকে প্রশ্ন করত যে - 'তোমার বন্ধু কয়জন?'
আমি উত্তরে বলতাম যে, ক্লাসের সব ছেলেই আমার বন্ধু। এটা সত্য কথা ছিল। ফার্স্ট বেঞ্চ থেকে লাস্ট বেঞ্চ– সবার সাথেই আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
শৈশবে আমাদের বন্ধু বেশি থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে ' Shared Environment '। স্কুলের সবাইকে একসাথে ৫-৬ ঘন্টা থাকা লাগত। একই রকম অভিজ্ঞতা সবাই শেয়ার করতাম।
এর সাথে ফ্রেন্ডশিপের শর্ত অত জটিল ছিল না।
'You like football? Let's be friends.'
'You like books? Let's be friends.'
'You like Dragon Ball Z? Let's be friends.'
যত আমাদের বয়স বাড়তে থাকে, জীবনে জটিলতা বাড়তে থাকে।সমাজে আমাদের 'Role' পরিবর্তন হতে থাকে।
শৈশবে শুধু আমরা 'ছাত্র' হিসেবে থাকি। একটা সময় অনেকে বিয়ে করেন, বাবা/ মা হোন,কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে হয়। ধীরে ধীরে সমাজে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হয়। এই বিষয়টাকে বলা হয় 'Role Accumulation যেখানে আমাদের multiple social role- এ একইসাথে কাজ করা লাগে (e.g., employee, parent, spouse)।
জীবনের এই স্টেজে বর্তমান বন্ধুদের জন্য সময় বের করাই কঠিন হয়ে যায়।নতুন বন্ধু বানানোর সুযোগই থাকে না।
উল্টো শৈশবের বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠতা কমতে শুরু করে। এর কারণ হচ্ছে সবার জীবনে একইসময়ে একই পরিবর্তন আসে না।
যেমন–বন্ধুদের মধ্যে কেউ আগে বিয়ে করে, আবার কেউ পরে করে। আবার সন্তানও কারো আগে হয়, আবার কারো পরে,কারো বাবা/মা আগে মারা যান,কারো পরে।
Principle of Homophily অনুযায়ী সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও এর স্থায়ীত্ব Shared Values and circumstances এর উপর অনেকটা নির্ভর করে।
যখন বন্ধুদের মধ্যে Shared experience এর ঘাটতি
02/07/2026
পড়তে বসলে রাজ্যের সব চিন্তা ঝেঁকে বসে। কত পড়া বাকি, এই সাবজেক্টটা তো অনেক কঠিন, পরীক্ষার আগে সিলেবাস শেষ করতে পারব তো – আরও কত কী! বিশেষ করে পরীক্ষার আগের রাতে এসব চিন্তায় মাথা হ্যাং হয়ে যায়। কিন্তু পড়তে বসার আগে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে দুআ করে নিলে এসব বাজে চিন্তা পালানোর আর জায়গা পাবে না। তাই মাথাকে হ্যাং হওয়া থেকে বাঁচাতে পড়তে বসে নিচের দুআগুলো পড়ো।
১) জ্ঞান বৃদ্ধির দুআ
আরবিতে– رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: রব্বি যিদনী ইলমা
বাংলা অর্থ– ‘হে আমার রব! আপনি আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।’
২) স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির দুআ
আরবিতে- سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণ- সুবহানাকা লা-ইলমা লানা, ইল্লা মা আল্লামতানা, ইন্নাকা আন্তাল আলীমুল হাকীম
বাংলা অর্থ– ‘আপনি মহান পবিত্র, আমাদের কোনো জ্ঞান নেই, আপনি যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই আপনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’
৩) পরীক্ষার আগের দুআ
আরবিতে– رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
উচ্চারণ– রব্বিশরহ-লি, সদরি ওয়া ইয়াসসির-লি আমরি, ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিন লিসানি ইয়াফক্বহু ক্বওলি
বাংলা অর্থ– ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’
৪) কঠিন কিছু পড়ার সময় দুআ
আরবিতে– اللَّهُمَّ لاَ سَهْلَ إِلاَّ مَا جَعَلْتَهُ سَهْلاً، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلاً
উচ্চারণ– আল্লাহুম্মা লা-সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা ওয়া আনতা তাজ‘আলুল হাজনা ইজা শি-তা সাহলা
বাংলা অর্থ– ‘হে আমার রব! আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আপনি যখন ইচ্ছা করেন, কঠিনকেও সহজ করে দিতে পারেন।’
তবে সারাবছর পড়াশোনার সাথে আড়ি করে থেকে শুধু দুআ করে গেলে কিন্তু কাজ হবে না!
27/06/2026
আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. কুশল এবং ডা. সুষমা রেজা তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছেন। সংবাদটি আমাকে কেবল হতভম্বই করেনি, রীতিমতো আকাশ থেকে পড়তে বাধ্য করেছে! সোস্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত কন্টেন্ট শেয়ার করার সুবাদে দেশে-বিদেশে তাদের ফ্যানবেজ ছড়িয়ে আছে। অসংখ্য মানুষ তাঁদের কাউন্সেলিং, উপদেশমূলক ভিডিও থেকে উপকৃত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দাম্পত্যজীবন থেকে শুরু করে সম্পর্কের বহুমাত্রিক টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতেন তাঁরা।
ডা. কুশল-সুষমা দম্পতির বৈবাহিক জীবন শুরুর গল্পটা বেশ আলোচিত। দুই ভিন্ন ভিন্ন মেডিকেলে পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাঁদের শিক্ষাজীবনে শুরু করেছিলেন যে যাত্রা, সুদীর্ঘ দুই দশকের রোদ-বৃষ্টিমিশ্রিত পথ পেরিয়ে আজ কেন তাঁদের এই কর্কট সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়াতে হলো; সেই প্রশ্নটা না হয় আমরা না-ই বা তুললাম! কিন্তু এই আইকনিক দম্পতিদের বিচ্ছেদগুলো আমাদের সমাজের ক্রমশূন্যায়মান সাম্পর্কিক বোঝাপড়ার করুণ ছবিই কি উদ্ভাসিত করে তুলছে না?
দাম্পত্য সম্পর্ক ইসলামের চোখে একটি ইবাদত। এজন্য কুরআন-সুন্নাহ বারংবার এ সম্পর্কে প্রবেশ করতে উৎসাহ দিয়েছে, এমনকি সামর্থ্যানুযায়ী যত দ্রুত পারা যায়। কিন্তু এর অর্থ এই নয়– ইসলাম এ ব্যাপারে নিখুঁততার দাবি তুলেছে। স্বয়ং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংসারেও মান-অভিমান ছিল। দাবি-দাওয়া নিয়ে এমনকি আন্দোলনও করেছেন স্ত্রীগণ। নবীজি তাঁদের 'পোষালে থাকো, নয়তো চলে যাও' পর্যন্ত বলেছেন! সেই নবীজিই তো স্ত্রীদের নিয়ে চাঁদের আলোয় দৌড়েছেন, উটে উঠবার জন্য উরু পেতে দিয়েছেন অবলীলায়!
উভয়পাক্ষিক আত্মোৎসর্গী মনোভাব, পরস্পরকে বুঝতে চেষ্টা করার অনবরত প্রচেষ্টাই পারে এ সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে। এক্ষেত্রে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল দম্পতি বেশ চমৎকার উদাহরণ। স্ত্রীকে কবরে নামাতে নামাতে ইমাম বললেন, 'তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন হে উম্মে আবদুল্লাহ! জীবনে একদিনের জন্যও আমাদের ঝগড়া হয়নি।' পাশ থেকে একজন ছাত্র জিজ্ঞেস করলেন, 'শায়েখ! এটা কী করে সম্ভব?' ইমাম বললেন, 'এটা সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে– যখন তিনি রেগে যেতেন, তখন আমি চুপ থাকতাম আর যখন আমি রেগে যেতাম, তখন তিনি চুপ থাকতেন।'
'সাম্পর্কিক বোঝাপড়া'/ লাবিব আহসান
24/06/2026
আমি জীবনে যত ব্যক্তিকে দেখেছি নিজের পরিশ্রমে ধনী হতে তাদের মধ্যে একটি কমন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা কেউ ব্যাংকে টাকা ফেলে রাখে না। বরং ঝুঁকি নেয়। পারলে ঋণ করেও ঝুঁকি নেয়।
এটাই সম্পদের গ্রোথ ফর্মুলা।
আর যারা কিছু টাকা পেলেই ব্যাংকে জমিয়ে রাখে তারা সারাজীবন মধ্যবিত্তের চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকে।
এই কথা সত্য যে ব্যবসা করা একটা বিদ্যা। সবাইকে দিয়ে হবে না। সেক্ষেত্রে সমাধান হচ্ছে বিনিয়োগ।
আপনি যদি ঝুঁকি না নেন আজীবন এক জায়গায় স্থির থাকবেন। আর ঝুঁকি নিলে হয় আমির অনেক পাবেন বা হারাবেন। সেই ভয়ে কেউ ঝুঁকি নেয় না। কিন্তু ঝুঁকি যদি বিশ্বে কেউ না নিত তাহলে কি কোন ব্যবসা, সাম্রাজ্য কিংবা শিল্প তৈরি হতো?
ঝুঁকি বিহীন কোন নায়ক নেই।
জয় আর ঝুঁকি হাতে হাত ধরে চলে ও চলবে এটাই নীতি। কেউ যদি শামুখের মত বাঁচতে চায় তাকে বলার আদৌ কিছু আছে কি?
23/06/2026
মনোযোগ ছাড়া পড়াশোনা অনেকটা ছিদ্রযুক্ত পাত্রে পানি ভরার মতো।
সময় দেওয়া হয়, পরিশ্রমও করা হয়—কিন্তু ফল আসে না প্রত্যাশামতো।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছোট ছোট ভিডিও, অবিরাম নোটিফিকেশন এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মানুষের মনোযোগের স্থায়িত্ব আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার মনোযোগ ভাঙলে মস্তিষ্কের গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।
তাহলে পড়ায় মনোযোগ বাড়াবেন কীভাবে?
১. পড়ার সময় ফোন দূরে রাখুন
মনোযোগ নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো ফোন। একটি নোটিফিকেশনও মস্তিষ্কের মনোযোগের ধারা ভেঙে দিতে পারে।
২. একসাথে একটিই কাজ করুন
একসাথে পড়া, গান, চ্যাট, ভিডিও—সব করতে গেলে মস্তিষ্ক কোনোটিতেই পুরো মন দিতে পারে না। একসময় একটিমাত্র কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. ছোট সময় ধরে গভীর মনোযোগ দিন
একটানা ৪–৫ ঘণ্টা বসে থাকার চেয়ে ২৫–৫০ মিনিট গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি কার্যকর হতে পারে। এরপর ছোট বিরতি নিন।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুম কম হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কমে যায়। রাত জেগে পড়া সবসময় কার্যকর হয় না।
৫. পড়াকে “বোঝার কাজ” বানান
শুধু মুখস্থ করার চেষ্টা করলে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝে, নিজের ভাষায় ভাবার চেষ্টা করুন।
৬. পড়ার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করুন
যেখানে ঘুমান বা বিনোদন নেন, সেখানেই সবসময় পড়তে বসলে মনোযোগ কমে যেতে পারে। সম্ভব হলে আলাদা ও পরিচ্ছন্ন পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন।
৭. শরীর সচল রাখুন
নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে, যা মনোযোগ ও মানসিক সতেজতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
মনোযোগ কোনো “ম্যাজিক” নয়। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া একটি অভ্যাস।
যে মস্তিষ্ক সবসময় দ্রুত বিনোদনে অভ্যস্ত, সে গভীর পড়াশোনায় সহজে স্থির হতে পারে না। তাই মনোযোগ বাড়াতে শুধু পড়ার কৌশল নয়, পুরো জীবনযাপনের অভ্যাসও বদলাতে হয়।
লেখাঃ সংগৃহীত
15/06/2026
যে ৫ ধরনের মানুষ আপনার জীবন বদলে দিতে পারে
১/ মেন্টর - যিনি হয়তো আপনার চেয়ে কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে আছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা আপনার কয়েক বছরের ভুল বাঁচিয়ে দিতে পারে।
২/ ভালো বন্ধু - যারা আপনাকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দেয়। আপনাকে নিচে নামানোর জন্য টেনে ধরে না।
৩/ সৎ সমালোচক - সব সমালোচনা কিন্তু খারাপ না। অনেক সময় সবচেয়ে দরকারি ফিডব্যাকটা আসে সমালোচকদের কাছ থেকেই।
৪/ প্রতিদ্বন্দ্বী - যে আপনাকে আরেকটু ভালো হতে বাধ্য করে। প্রতিযোগিতা না থাকলে উন্নতিও ধীর হয়ে যায়।
৫/ শিক্ষার্থী - যাকে আপনি শেখান।
কারণ শেখানোর সময়ই আমরা সবচেয়ে ভালো শিখি।
মনে রাখবেন, জীবনে সবকিছু একা করা যায় না।
সঠিক সময়ে সঠিক মানুষদের সাথে পরিচয় হওয়া অনেক সময় অনেক বই পড়া বা বড় ডিগ্রি পাওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার জীবনে কি এই ধরণের মানুষজন আছেন?
15/06/2026
অধিকাংশ মানুষ আসলে বিনোদনে আসক্ত না।
তারা আসক্ত নিজেকে এড়িয়ে চলায়।
শুনতে অদ্ভুত লাগে।
কারণ আমরা সাধারণত ভাবি, মানুষ সিনেমা দেখে কারণ সে সিনেমা ভালোবাসে।
ঘন্টার পর ঘন্টা ফেসবুক স্ক্রল করে কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ভালো লাগে।
গেম খেলে কারণ গেম পছন্দ।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় কারণ আড্ডা ভালো লাগে।
কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো।
মানুষ আনন্দ পাওয়ার জন্য এসব করে না।
বরং কিছু অনুভূতি থেকে বাঁচার জন্য করে।
একটা সহজ পরীক্ষা করে দেখুন।
একদিন সবকিছু বন্ধ করে দিন।
ফোন না।
গান না।
ভিডিও না।
বইও না।
কাউকে মেসেজও না।
শুধু একা একটা ঘরে বসে থাকুন।
আধা ঘন্টা।
খুব সম্ভবত তখনই বুঝতে পারবেন, আমরা যতটা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি নিজেদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াই।
কারণ নীরবতার একটা সমস্যা আছে।
এটা মানুষের সামনে তাকে দাঁড় করিয়ে দেয়।
দিনের বেলায় যেসব প্রশ্নকে ব্যস্ততার নিচে চাপা দিয়ে রাখা যায়, নীরবতা সেগুলোকে টেনে বের করে আনে।
আমি কি সত্যিই সুখী?
আমি কি ঠিক জায়গায় আছি?
আমার বিবাহিত জীবনটা আসলে কেমন?
যে স্বপ্নগুলোর জন্য এত দৌড়ালাম, সেগুলো কি সত্যিই আমার ছিল?
আমি কি আদৌ সেই মানুষটা, যাকে আমি অন্যদের সামনে দেখাই?
এই প্রশ্নগুলো সুখকর না।
তাই অধিকাংশ মানুষ উত্তর খোঁজে না।
বিভ্রান্তি খোঁজে।
কারণ উত্তর পেলে হয়তো জীবন বদলাতে হবে।
বিভ্রান্তি পেলে শুধু আরেকটা ভিডিও চালালেই হয়।
এই কারণেই অনেক মানুষ ক্লান্ত হওয়ার পরও ঘুমাতে যায় না।
রাত দুইটা পর্যন্ত স্ক্রল করে।
আরেকটা ভিডিও।
আরেকটা পোস্ট।
আরেকটা শর্টস।
বাইরে থেকে মনে হয় সে বিনোদন নিচ্ছে।
বাস্তবে সে নিজের সাথে একা হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটাকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
অনেক মানুষ আছে, যারা সারাদিন ব্যস্ত না থাকলে অস্বস্তি বোধ করে।
সবসময় কিছু একটা চালু থাকতে হবে।
টিভি।
গান।
ফোন।
আড্ডা।
নোটিফিকেশন।
কারণ শব্দ থেমে গেলে ভেতরের শব্দগুলো শোনা যায়।
আর ভেতরের শব্দগুলো সবসময় সুখকর না।
হয়তো সেখানে আছে কোনো অপূর্ণতা।
কোনো অপরাধবোধ।
কোনো ব্যর্থতা।
কোনো হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক।
কোনো ভয়।
কোনো প্রশ্ন, যার উত্তর সে বহু বছর ধরে এড়িয়ে যাচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, মানুষ সবসময় কষ্ট থেকে পালায় না।
অনেক সময় সত্য থেকেও পালায়।
কারণ সত্য মানুষকে বদলে দিতে পারে।
আর মানুষ পরিবর্তনের চেয়ে বিভ্রান্তিকে বেশি নিরাপদ মনে করে।