Vocal Buzz

Vocal Buzz

Share

What to watch? What to eat? Where to visit? From the actors of the cinematic universe to the most happening restaurants - VocalBuzz got it all covered.

We talk much.

#VocalBuzz #WeTalkMuch

03/08/2026

ভালোবাসা শুধু হাত ধরে হাঁটার নাম নয় 🫶

সাফল্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে করতালি পাওয়া খুব সহজ। কঠিন হলো সেই মানুষটার কথা সবার সামনে স্বীকার করা, যিনি আলোয় নন, কিন্তু আপনার পুরো যাত্রাটার নীরব শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী ঠিক সেই কঠিন কাজটিই করেছেন। স্ত্রী নেহাকে নিয়ে তার কয়েকটি বাক্য যেন শুধু ভালোবাসার প্রকাশ নয়, একজন জীবনসঙ্গীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার এক অনন্য দলিল।

মনোজ বাজপেয়ী বলেছেন, ‘এই দুনিয়াতে আজকের সময়ে যদি কাউকে সবচেয়ে বেশি সম্মান করে থাকি, সে হলো আমার স্ত্রী। তার পড়াশোনাকে সম্মান করি, তার জ্ঞানকে সম্মান করি। আর সবচেয়ে বেশি সম্মান করি আমার জন্য এবং একটা সুন্দর পরিবার গড়ার জন্য সে যেই ত্যাগ স্বীকার করেছে সেটিকে। তাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। আমার মনে হয় জীবনে আমি এত দূর পৌঁছাতে পারতাম না, যদি নেহা পাশে না থাকত।’

এই কথাগুলো শুনলে বোঝা যায়, ভালোবাসা শুধু হাত ধরে হাঁটার নাম নয়। ভালোবাসা মানে সেই মানুষটিকে প্রকাশ্যে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া, যার নীরব ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

আমাদের সমাজে অনেক পুরুষই সংসারের দায়িত্ব নেন। পরিবারকে অন্ন, বস্ত্র আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করেন। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন, যারা বুক ভরে বলতে পারেন—আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে পৌঁছানোর পেছনে আমার স্ত্রীর অবদান সবচেয়ে বড়। খুব কম মানুষই স্ত্রীর শিক্ষা, তার প্রজ্ঞা, তার ত্যাগ আর ধৈর্যের প্রতি এমন অকপট শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

আসলে একজন নারীর কাছে সবচেয়ে বড় উপহার সব সময় দামি গয়না কিংবা বিলাসী জীবন নয়। তার চেয়েও মূল্যবান হলো সম্মান। এই অনুভূতি যে, তার জীবনসঙ্গী তার পরিশ্রম দেখছে, তার ত্যাগ বুঝছে এবং তার অবদানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

একটি মেয়ে যখন নতুন একটি পরিবারকে নিজের করে নিতে গিয়ে নিজের অনেক স্বপ্ন, অনেক ইচ্ছা আর অসংখ্য ব্যক্তিগত ভালো লাগাকে নি:শব্দে সরিয়ে রাখে, তখন সে বিনিময়ে খুব বেশি কিছু চায় না। সে শুধু জানতে চায়, তার এই নীরব ত্যাগগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়নি। কেউ একজন সেগুলো দেখেছে, মনে রেখেছে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের চারপাশে এমন মানসিকতা খুব বেশি দেখা যায় না। অধিকাংশ সময় নারীর ত্যাগকে সংসারের স্বাভাবিক দায়িত্ব বলেই ধরে নেওয়া হয়। ধন্যবাদ বা স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনই যেন অনুভব করা হয় না।

অথচ একজন পুরুষ যখন প্রকাশ্যে তার স্ত্রীকে সম্মান দেন, তখন শুধু সম্পর্কই আরও গভীর হয় না, মানুষ হিসেবেও তিনি আরও বড় হয়ে ওঠেন। কারণ সাফল্যের আসল উচ্চতা পুরস্কারের সংখ্যায় মাপা যায় না, মাপা যায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সাহসে।

মনোজ বাজপেয়ীর কথাগুলো তাই শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়। এটি এমন একটি বার্তা, যা মনে করিয়ে দেয়—সফলতার গল্প কখনো একজনের একার হয় না। প্রতিটি অর্জনের পেছনে থাকে এমন একজন মানুষ, যিনি আলোয় না থেকেও আলো জ্বালিয়ে রাখেন।

হয়তো এ কারণেই মনোজ আর নেহার গল্প আলাদা। কারণ সেখানে ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে সম্মান, আর প্রতিশ্রুতির চেয়ে গভীর হয়ে উঠেছে কৃতজ্ঞতা। এমন গল্পই বারবার মনে করিয়ে দেয়, একটি সুন্দর সংসার টিকে থাকে শুধু ভালোবাসায় নয়, একে অপরের অবদানকে হৃদয় থেকে স্বীকার করার মধ্যেও।

03/08/2026

যে গান আজও ফিরিয়ে নেয় পুরোনো দিনে 🎀

একটা গানই কখনও কখনও একটা সিনেমাকে অমর করে দেয়। প্রথম কয়েকটা সুর বাজতেই মনে পড়ে যায় পুরোনো টেলিভিশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিডিও লাইব্রেরি আর ছুটির বিকেলের কথা। ‘ঝাঞ্জারিয়া উসকি ছনক গই...’ ঠিক তেমনই একটি গান। আজও কোথাও গানটি বাজলে অনেকেই বলে ওঠেন, ‘এটা তো কৃষ্ণা ছবির গান!’ তিন দশক পরও যে একটি গান মানুষকে মুহূর্তেই ৯০-এর দশকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই তো আসল সাফল্য।

১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল সুনীল শেঠি ও কারিশমা কাপুর অভিনীত ‘কৃষ্ণা’। দেখতে দেখতে সেই ছবির ৩০ বছর পূর্ণ হয়ে গেল। সময়ের হিসাবে এটা শুধু একটি সিনেমার বার্ষিকী নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মের স্মৃতির দরজা খুলে দেওয়ার দিন।

মজার বিষয় হলো, ছবিটি মুক্তির আগেই এর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘ঝাঞ্জারিয়া উসকি ছনক গই’ বলিউডের বড় বড় তারকাদের কানে পৌঁছে গিয়েছিল। শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, গোবিন্দ, জুহি চাওলা এবং মাধুরী দীক্ষিত—সবার কাছেই গানটি আগে শোনানো হয়েছিল। আর সবাই একবাক্যে বলেছিলেন, গানটি দারুণ। তখনও কেউ জানত না, এই গানই একদিন ছবির সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠবে।

গানটির কথা ছিল, ‘ঝাঞ্জারিয়া উসকি ছনক গই, চুনরি ভি সর সে সরক গই...।’ ক্যাসেটের সেই সোনালি যুগে এই গান কতবার যে বাজানো হয়েছে, তার হিসাব নেই। দোকানে, ক্লাবে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কিংবা পাড়ার মাইক—সবখানেই ছিল এর দাপট। অনু মালিক তখন ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তার সুরে ছিল নাটকীয়তা, আবেগ আর সহজে মুখে লেগে থাকার মতো এক জাদু। সেই সময়ের জনপ্রিয় গান ‘কই ক্যায়সে মোহাব্বাত হোতি হ্যায়’-ও একইভাবে জায়গা করে নিয়েছিল মানুষের হৃদয়ে। এমন আবেগময় সুরের দেখা এখন খুব একটা মেলে না।

তবে ‘ঝাঞ্জারিয়া’ গানটির জন্ম আসলে ‘কৃষ্ণা’ ছবির জন্য হয়নি। এটি প্রথমে তৈরি করা হয়েছিল একটি প্রাইভেট অ্যালবামের জন্য। সেই অ্যালবামের নাম ছিল ‘বাবু টিপ টপ’। সেখানে গানটি লিখেছিলেন হর্ষ আনন্দ। সুর করেছিলেন এবং নিজেই গেয়েছিলেন আনন্দ রাজ আনন্দ। পরে যখন সিদ্ধান্ত হয় গানটি ‘কৃষ্ণা’ ছবিতে ব্যবহার করা হবে, তখন নতুন করে এটি কণ্ঠ দেন অভিজিৎ। আর ছবিতে গীতিকার হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয় আনন্দ রাজ আনন্দকে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গানটিকে পৌঁছে দেয় কোটি মানুষের কাছে।

ছবিটির পরিচালনা করেছিলেন দীপক শিবদাসানি। যদিও ক্রেডিটে তার নাম লেখা হয়েছিল এস. দীপক। প্রযোজক ছিলেন ধীরজলাল শাহ। গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন টিনু আনন্দ, যিনি এই ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। আর গানের কথা লিখেছিলেন আনন্দ রাজ আনন্দ, মদন পাল, আনোয়ার সাগর এবং নিদা ফাজলি।

বক্স অফিসের হিসাবও মন্দ ছিল না। প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি বাজেটের ছবিটি আয় করেছিল প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ রুপি। ব্যবসায়িক দিক থেকে এটি সেমি হিট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। ব্লকবাস্টার না হলেও নিজের জন্য সম্মানজনক একটি জায়গা তৈরি করতে পেরেছিল।

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য খুব উচ্ছ্বসিত ছিল না। অনেকেই বলেছিলেন, গল্পটি খুবই সাদামাটা, নাটকীয়তার মাত্রাও বেশি। কিন্তু দর্শক সেই সমালোচনার ধার ধারেননি। তাদের কাছে ‘কৃষ্ণা’ ছিল একেবারে খাঁটি মশলাদার বলিউডি বিনোদন। যেখানে নায়ক রাগে ফেটে পড়ে, গানের তালে তালে মারপিট করে, আর শেষ পর্যন্ত সব বাধা জয় করে জিতে যায়। তখন তো ওটিটির যুগ ছিল না। বড় পর্দার সেই রোমাঞ্চই ছিল মানুষের সবচেয়ে বড় বিনোদন।

আর কারিশমা কাপুর? তিনি তখন ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে। তার সাজ, তার হাসি, ক্যামেরার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই স্বাভাবিক ভঙ্গি—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন নব্বইয়ের দশকের স্টাইল আইকন। অন্যদিকে সুনীল শেঠির অ্যাকশন আর ব্যক্তিত্ব তরুণদের কাছে ছিল অনুকরণের বিষয়। তখন অনেকেই তার মতো হাঁটার চেষ্টা করতেন, তার স্টাইল অনুসরণ করতেন। আজ সেসব গল্প হয়তো মিমের বিষয়, কিন্তু তখন সেগুলোই ছিল ‘কুল’ হওয়ার সংজ্ঞা।

তিন দশক পর ফিরে তাকালে ‘কৃষ্ণা’ শুধু একটি সিনেমা নয়। এটি যেন সময়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি দরজা। দরজাটা খুললেই ভেসে আসে ভিএইচএস ভাড়া করে সিনেমা দেখার দিন, সিডি প্লেয়ারে গান শোনার বিকেল, নাটকীয় সংলাপ, পটাপট ঘুষির শব্দ আর একের পর এক মনে গেঁথে যাওয়া গান।

হয়তো এ কারণেই আজও কোথাও ‘ঝাঞ্জারিয়া’ বাজতে শুরু করলে অনেকেই অজান্তেই গুনগুন করে ওঠেন। কারণ কিছু সিনেমা বক্স অফিসে নয়, মানুষের স্মৃতিতে হিট হয়। আর ‘কৃষ্ণা’ ঠিক সেই বিরল সিনেমাগুলোরই একটি।

03/08/2026

ঈশিতার উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা এক আকর্ষণ 💃

নব্বইয়ের দশকের বাংলা নাটকের কথা উঠলেই কিছু মুখ যেন স্মৃতির অ্যালবাম থেকে নিজে থেকেই বেরিয়ে আসে। সেই মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম রুমানা রশীদ ঈশিতা। তার স্নিগ্ধ হাসি, শান্ত চোখ আর মার্জিত অভিনয় এমন এক মায়া তৈরি করত, যা পর্দা পেরিয়ে সরাসরি দর্শকের মনে গিয়ে বসত।

সে সময়ের তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন ভালো লাগার এক নির্ভরতার নাম। ঈদের নাটকের ক্যাসেট কিংবা সিডি, জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ—সব জায়গাতেই ঈশিতার উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা এক আকর্ষণ। তবে, এই যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-তে শিশুশিল্পী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ‘ফালানী’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পদকও। শিশুশিল্পী হিসেবে এই অর্জনই পরবর্তীতে মিডিয়ায় তার স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ঈশিতার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার অভিনয়ের বৈচিত্র্য। তিনি যেমন অনায়াসে শাড়ি পরা কোনো গ্রামের সহজ-সরল মেয়ের চরিত্রে দর্শকের মন ছুঁয়ে যেতেন, তেমনি আধুনিক শহুরে নারীর ভূমিকাতেও ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। একেকটি চরিত্রে নিজেকে এমনভাবে মিশিয়ে দিতেন, যেন তিনি অভিনয় করছেন না, বরং সেই মানুষটিই হয়ে উঠেছেন।

তার চেহারায় ছিল এক ধরনের চিরন্তন বাঙালি সৌন্দর্য। অতিরিক্ত সাজসজ্জার প্রয়োজন হতো না। খুব সাধারণ একটি লুকেও তিনি হয়ে উঠতেন অসাধারণ। সে সময়ের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘আনন্দধারা’ কিংবা ‘চিত্রালী’-র প্রচ্ছদে ঈশিতার ছবি মানেই ছিল পাঠকদের বাড়তি আগ্রহ, আর পত্রিকার বিক্রিও বেড়ে যেত চোখে পড়ার মতো।

যখন অনেক নাটকেই অতিনাটকীয় অভিনয় ছিল প্রায় নিয়ম, তখন ঈশিতা ছিলেন এক ব্যতিক্রম। তার সংলাপ কখনোই মুখস্থ বলা কথার মতো শোনাত না। মৃদু হাসি, চোখের নিখুঁত অভিব্যক্তি আর সংলাপ বলার স্বাভাবিক ভঙ্গি মিলিয়ে প্রতিটি চরিত্রকে তিনি করে তুলতেন বিশ্বাসযোগ্য। অনেক সময় কোনো সংলাপ ছাড়াই শুধু তার চোখের ভাষাই বলে দিত চরিত্রের না বলা গল্প। আর সেই মায়াবী অভিব্যক্তিই দর্শককে পর্দার সামনে আটকে রাখত শেষ দৃশ্য পর্যন্ত।

শুধু অভিনয়েই নয়, পড়াশোনাতেও ছিলেন সমান কৃতী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিল্পীসত্তার পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও তার এই সাফল্য তাকে আরও অনন্য করে তুলেছে।

অভিনয়ের বাইরেও ছিল তার বহু প্রতিভার ছাপ। তিনি ভালো গান গাইতেন, নাটক পরিচালনা করেছেন, লেখালেখিও করেছেন। শুধু সৃজনশীল কাজেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, দীর্ঘ সময় সংবাদমাধ্যম ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সময়ের সঙ্গে পর্দায় নতুন মুখ এসেছে, নতুন তারকার জন্ম হয়েছে। কিন্তু রুমানা রশীদ ঈশিতার মতো কিছু মানুষ কখনো পুরোনো হন না। কারণ তারা শুধু নাটকে অভিনয় করেননি, তারা একটি সময়কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন এক সময়, যখন অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চোখের ভাষা, সংলাপের আন্তরিকতা আর নিখাদ স্বাভাবিকতা। তাই আজও নব্বইয়ের দশকের বাংলা নাটকের সোনালি দিনের কথা মনে পড়লে, ঈশিতার সেই মায়াভরা হাসিটাই যেন সবার আগে ভেসে ওঠে।

*ta

03/08/2026

বলিউডের সবচেয়ে সেরা অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি? 💑

পর্দায় প্রেম দেখানো খুব কঠিন কাজ। কারণ দর্শক কখনই অভিনয়ের প্রেমে বিশ্বাস করে না, তারা বিশ্বাস করে অনুভূতিতে। আর সেই অনুভূতি তৈরি করতে পারেন খুব কম কিছু জুটি। বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অন-স্ক্রিন জুটি এসেছে, যাদের একসঙ্গে দেখলেই মনে হয়েছে গল্পটা শুধু সিনেমার নয়, যেন বাস্তবেরও।

এই তালিকায় প্রথমেই আসে সালমান খান ও প্রীতি জিনতার নাম। দু’জনকে পাশাপাশি দেখলেই এক ধরনের সহজ, প্রাণবন্ত আর নির্ভার রসায়ন চোখে পড়ে। কখনও দুষ্টুমি, কখনও বন্ধুত্ব, কখনও আবার নি:শব্দ ভালোবাসা—তাদের সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্ত যেন পর্দাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। সালমানের স্বাভাবিক উপস্থিতি আর প্রীতির চিরচেনা হাসি মিলে এমন এক জুটি তৈরি করেছিল, যাদের দেখলে ভালো লাগাটা আপনাআপনিই চলে আসে।

সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে। কিন্তু নতুন যুগেও এমন একটি জুটি এসেছে, যারা রোমান্সকে নতুনভাবে সংজ্ঞা দিয়েছে। রণবীর কাপুর ও শ্রদ্ধা কাপুরকে একসঙ্গে দেখলে মনে হয়, সম্পর্কের ভেতরে যেমন খুনসুটি আছে, তেমনি আছে আবেগের নরম ছোঁয়াও। তাদের চোখের ভাষা, হাসি আর ছোট ছোট মুহূর্তগুলো দর্শকের মনে সহজেই জায়গা করে নেয়। আধুনিক প্রেমের গল্পে এই জুটির রসায়ন তাই আলাদা করে নজর কাড়ে।

অন্যদিকে ইমরান খান ও ক্যাটরিনা কাইফের জুটিতে ছিল এক অন্যরকম সতেজতা। তাদের একসঙ্গে দেখলে মনে হতো, প্রেম মানেই সব সময় বড় বড় সংলাপ নয়; কখনও কখনও ছোট্ট একটি হাসি কিংবা নির্ভার একটি মুহূর্তই অনেক কিছু বলে দেয়। দু’জনের উপস্থিতি একে অপরকে পরিপূর্ণ করেছে, আর সেই কারণেই তাদের জুটিকে এখনও অনেক দর্শক আলাদা করে মনে রাখেন।

আর যদি তীব্র আকর্ষণ, আবেগ আর উত্তাপের কথা বলা হয়, তাহলে ইমরান হাশমি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের নাম না বললেই নয়। তাদের রসায়নে ছিল অন্যরকম এক চুম্বকীয় টান। পর্দায় তারা যখনই একসঙ্গে এসেছেন, প্রতিটি দৃশ্য যেন আরও গভীর, আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রোমান্স, আবেগ আর আকর্ষণের মিশেলে এই জুটি নিজেদের জন্য আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।

প্রজন্ম ভিন্ন, গল্প ভিন্ন, ভালোবাসা প্রকাশের ধরনও ভিন্ন। তবু একটি জায়গায় এই চার জুটি এক হয়ে যায়। তারা সবাই এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, যা দর্শককে ভুলিয়ে দিয়েছে ক্যামেরা, লাইট কিংবা অ্যাকশন। মনে হয়েছে, এ যেন অভিনয় নয়, সত্যিকারের অনুভূতির প্রকাশ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়—বলিউডের সবচেয়ে সেরা অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি কাদের? সালমান খান ও প্রীতি জিনতা, রণবীর কাপুর ও শ্রদ্ধা কাপুর, ইমরান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ, নাকি ইমরান হাশমি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ? উত্তরটা হয়তো সবার কাছে এক হবে না। কারণ পর্দার প্রেমের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যই হলো, প্রত্যেক দর্শকের হৃদয়ে তার প্রিয় জুটির জন্য আলাদা একটি জায়গা থাকে।

02/08/2026

আয়নায় নিজেকেই চিনতে পারেননি সঞ্জয় দত্ত 🪙

কখনো কখনো মানুষ আয়নায় নিজের মুখই চিনতে পারে না। ভয়টা তখন মৃত্যু নয়, ভয়টা হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলার। সঞ্জয় দত্তের জীবনেও এমন একটি সকাল এসেছিল।

ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো বাথরুমে গিয়েছিলেন। আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকাতেই বুক কেঁপে ওঠে। মনে হয়েছিল, এ যেন তিনি নন। শরীর আর মন— দুটোই যেন ভেঙে পড়ছে। তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো মারা যাচ্ছেন।

সেই আতঙ্ক নিয়েই ছুটে যান বাবার কাছে। সঞ্জয় দত্ত বলেন, তাঁর বাবা তখন শুধু একজন অভিভাবক ছিলেন না, ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তিনিই ছেলেকে ভেঙে পড়তে দেননি। বরং সবকিছু ছেড়ে তাঁকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার লড়াই শুরু করেছিলেন।

সেই সময় খুব কম মানুষই বিদেশে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার সুযোগ পেতেন। সঞ্জয় নিজেও স্বীকার করেন, তিনি ভাগ্যবানদের একজন ছিলেন। বাবার উদ্যোগেই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়।

সেখানে কেটেছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন, আবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই বছর। সম্প্রতি এক টক শোতে নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় দত্ত জানান, রিহ্যাবের দিনগুলো শুধু চিকিৎসার ছিল না, ছিল নতুন করে জীবনকে আবিষ্কার করারও।

কাউন্সেলরদের সঙ্গে তিনি অনেকবার বাইরে ঘুরতে যেতেন। কখনো শান্ত লেকের ধারে বসে সময় কাটাতেন, কখনো বারবিকিউ করতেন। কখনো আবার দীর্ঘ হাইওয়েতে ম্যারাথনে দৌড়াতেন, সাইকেল চালাতেন। মানুষের সঙ্গে গল্প করতেন, আড্ডা দিতেন। সিনেমা নিয়ে কথা বলতেন, আবার জীবনের নানা বিষয় নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতেন।

একসময় তিনি বুঝতে শুরু করেন, এত বছর কী ভয়ংকর এক অন্ধকারের মধ্যে নিজের জীবন নষ্ট করেছেন। সঞ্জয়ের ভাষায়, তখন তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন— এত বছর কেন তিনি এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখেননি? কেন লেকের ধারে বসে বিকেল কাটানোর আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে বারবিকিউ করার মুহূর্ত, হাইওয়েতে দৌড়ানোর মুক্তি কিংবা সাইকেল চালানোর সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছিলেন?

সেই উপলব্ধিই বদলে দেয় সবকিছু। তিনি নিজেকে বলেছিলেন, এটাই তাঁর চাওয়া জীবন। মাদকের অন্ধকার নয়, স্বাভাবিক জীবনের আলোই তাঁর আসল ঠিকানা।

সঞ্জয় দত্তের মতে, জীবনের সবচেয়ে বড় মোড়ও ছিল সেই সিদ্ধান্ত। টক শোতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সুস্থ হওয়ার পর কখনো কি আবার রিহ্যাবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে? উত্তরে তিনি এক কথায় বলেন, ‘কখনোই না।’

তিনি জানান, সেই অধ্যায়ের পর চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পেছনে তাকালে তাঁর নিজেরই বিশ্বাস হয় না, তিনি একসময় সেই জীবন কাটিয়েছিলেন। আজকের সঞ্জয় দত্ত আর সেই মানুষটি এক নন। কীভাবে তিনি সেই অন্ধকারে ডুবে ছিলেন, সেটাই এখন তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তরুণদের প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। মাদক কখনো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের স্বপ্ন, পরিবার, সম্পর্ক আর নিজের অস্তিত্বকেই গ্রাস করে নেয়।

তাই যত কঠিন সময়ই আসুক, নেশার পথে না গিয়ে জীবনের দিকেই ফিরে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। কারণ, তাঁর নিজের জীবনই প্রমাণ করে, অন্ধকার যত গভীরই হোক, ফিরে আসার পথ কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না।

02/08/2026

যে সিনেমা হাসাতে হাসাতে কিংবদন্তি হয়েছিল 🥊

সময় কখনও কখনও কিছু সিনেমাকে শুধু হিট বানায় না, একটা প্রজন্মের স্মৃতিতে স্থায়ী ঠিকানাও বানিয়ে দেয়। এমনই একটি নাম ‘মুঝসে শাদি করোগি’। ২০০৪ সালের ৩০ জুলাই মুক্তি পায় ডেভিড ধাওয়ানের এই রোমান্টিক-কমেডি ছবি। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সামির আর সানির সেই হাস্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রানীকে ঘিরে একের পর এক ভুল বোঝাবুঝি কিংবা পাগলাটে সব পরিস্থিতি—সবকিছু এখনও দর্শকের মুখে হাসি ফোটায়।

সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটিতে সালমান খান ছিলেন রাগী অথচ ভেতরে ভীষণ কোমল হৃদয়ের সামির। অন্যদিকে অক্ষয় কুমারের ‘উইকেড সানি’ যেন বলিউডের ইতিহাসেই সবচেয়ে ধূর্ত, সবচেয়ে মজার কমিক চরিত্রগুলোর একটি হয়ে গেছে। আর দুই নায়কের মাঝখানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার রানী ছবিটিতে এনে দিয়েছিল গ্ল্যামার, প্রাণ আর রোমান্সের ভারসাম্য।

মজার ব্যাপার হলো, ডেভিড ধাওয়ান এবার তাঁর চিরচেনা লাউড কমেডির পথ থেকে একটু সরে এসেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ছবিটিকে দিতে আধুনিক, ট্রেন্ডি আর ওয়েস্টার্ন ঘরানার একটি লুক। গল্পের পটভূমি ছিল গোয়া, কিন্তু ক্যামেরার সামনে সেই গোয়া তৈরি হয়েছিল মূলত মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে। আর্ট ডিরেক্টর শর্মিষ্ঠা রায় সেখানে নির্মাণ করেছিলেন দুটি বিশাল সেট। ছবির বড় একটি অংশ আবার শুটিং হয়েছিল মরিশাসের মনোরম লোকেশনে। পুরো চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আনিস বাজমি ও রুমি জাফরি।

ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসেও দারুণ সাড়া ফেলে। ১৫ থেকে ২২ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহেই ভারতে আয় করে ১২ কোটি ২১ লাখ রুপি। শেষ পর্যন্ত ভারতের নেট আয় দাঁড়ায় ২৯ কোটি ১১ লাখ, গ্রস আয় ৪০ কোটি ৪৩ লাখ রুপি।

বিদেশের বাজার থেকে আসে আরও ১২ কোটি ৬৪ লাখ রুপি, অর্থাৎ প্রায় ২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় ছিল প্রায় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬২ কোটি রুপির মধ্যে। ২০০৪ সালে এটি ছিল বছরের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি ছবি। তাই বক্স অফিসে ছবিটির রায় ছিল একটাই—ব্লকবাস্টার।

তবে ‘মুঝসে শাদি করোগি’কে শুধু ব্যবসা দিয়ে মাপা যায় না। এই সিনেমার প্রাণ ছিল এর চরিত্রগুলো। কাদের খানের ‘দুগ্গাল সাহেব’ যেন প্রতিদিন নতুন এক শারীরিক সমস্যার শিকার হয়ে দর্শককে হাসতে বাধ্য করতেন। কখনও বলতেন, ‘আজ ম্যায় অন্ধা হুঁ...’, আবার কখনও, ‘আজ ম্যায় ব্যাহেরা হুঁ...’। অমরেশ পুরীর কর্নেল দুগরাজ সিং, সতীশ শাহ কিংবা রাজপাল যাদবের জ্যোতিষী—প্রতিটি চরিত্রই ছবির হাসির রোলকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

আর গান? ‘জিনে কে হ্যায় চার দিন’ শুনলেই আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে সালমান খানের সেই বিখ্যাত তোয়ালে নাচ। সাজিদ-ওয়াজিদ ও অনু মালিকের সুরে গানটি শুধু জনপ্রিয় হয়নি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পপ-কালচারের এক কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। ‘লাল দুপাট্টা’, ‘রাব করে’ এবং ছবির শিরোনাম গানও পেয়েছিল দুর্দান্ত বাণিজ্যিক সফলতা। অন্যদিকে ছবির আবহসংগীতের দায়িত্ব সামলেছিলেন সেলিম-সুলেমান।

সিনেমার সংলাপও সময়কে হার মানিয়েছে। কাদের খানের বিখ্যাত সংলাপগুলোর পাশাপাশি অক্ষয় কুমারের মুখে বলা, ‘সামির, তু রোতা রাহেগা ইয়া কুছ করেগা?’—আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিম সংস্কৃতিতে সমান জনপ্রিয়।

পুরস্কারের মঞ্চেও কম আলো কুড়ায়নি ছবিটি। ২০০৫ সালের আইফা অ্যাওয়ার্ডসে ১৩টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে জিতে নেয় ৫টি পুরস্কার। ফিল্মফেয়ারে অক্ষয় কুমারের অভিনয় বিশেষ প্রশংসিত হয় এবং ছবিটি মোট তিনটি মনোনয়ন লাভ করে। স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে সেরা ছবিসহ মোট ১০টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল এই সিনেমা।

মুক্তির সময় সমালোচকরাও ছবিটির প্রশংসা করেছিলেন খোলামনেই। ফ্রেশ মেকিং, স্টাইলিশ কালার গ্রেডিং এবং বিশেষ করে সালমান খান ও অক্ষয় কুমারের অসাধারণ রসায়নকে তখন অনেকেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি বলেছিলেন।

এই সিনেমাকে ঘিরে আছে বেশ কিছু দারুণ গল্পও। কাদের খানের অভিনীত ‘দুগ্গাল সাহেব’ চরিত্রটি রুমি জাফরির এক বাস্তব প্রতিবেশীকে দেখে তৈরি করা হয়েছিল। বড় পর্দায় কাদের খানের শেষ দিকের সবচেয়ে স্মরণীয় কমিক চরিত্রগুলোর একটি ছিল এটি। একই সঙ্গে অমরীশ পুরীর অভিনয়জীবনের শেষ দিকের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি এবং পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে তাঁর শেষ চলচ্চিত্রও ছিল ‘মুঝসে শাদি করোগি’।

আরও একটি মজার তথ্য আছে। ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুপ্রিয়া কর্নিক। বাস্তবে তিনি প্রিয়াঙ্কার চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের বড় ছিলেন, অথচ সালমান খানের চেয়ে প্রায় দশ বছরের ছোট।

প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার শুটিং জীবনও তখন ছিল এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে সালমান খানের সঙ্গে পার্টি করতে হতো। আবার ভোর হতেই অক্ষয় কুমারের সময়ানুবর্তী শিডিউলের কারণে দ্রুত শুটিং সেটে পৌঁছে যেতে হতো। দুই তারকার সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মেলানো ছিল তাঁর জন্য আলাদা এক চ্যালেঞ্জ।

অনেকেই জানেন না, ছবিটির মূল ভাবনা এবং প্লট অনুপ্রাণিত হয়েছিল তেলুগু সিনেমা ‘নি প্রেমাকাই’ থেকে। আর ক্লাইম্যাক্সে দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ চমক। সেখানে অতিথি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল ক্রিকেট কিংবদন্তি কপিল দেব, নভজ্যোত সিং সিধু, হরভজন সিং, ইরফান পাঠান এবং আশিস নেহরাকে।

২২ বছর পরও ‘মুঝসে শাদি করোগি’ শুধু একটি সফল সিনেমার নাম নয়। এটি এমন এক সময়ের প্রতীক, যখন কমেডি মানেই ছিল নির্মল বিনোদন, বন্ধুত্ব মানেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা, আর একটি তোয়ালে নাচই হয়ে উঠতে পারত পুরো উপমহাদেশের পপ-কালচারের সবচেয়ে পরিচিত মুহূর্তগুলোর একটি।

02/08/2026

কিছু স্মৃতি কখনোই পুরনো হয় না 📺

একটা পুরনো নাটকের ছোট্ট রিলসই কখনো কখনো টাইম মেশিন হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের সেই ভিডিও হঠাৎ করেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় এমন এক সময়ে, যখন বিনোদন মানেই ছিল টেলিভিশনের সামনে অপেক্ষা, আর পরদিন পত্রিকার বিনোদন পাতায় প্রিয় তারকাদের খবর খোঁজা। তখন ফেসবুক ছিল না, হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ইন্টারনেটও ছিল অনেকের নাগালের বাইরে। তবু বিনোদনের আনন্দে কোনো কমতি ছিল না।

এমনই এক পুরনো নাটকের ফ্রেমে আবারও একসঙ্গে দেখা মিলল লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭-এর বিজয়ী বিদ্যা সিনহা মিম এবং প্রথম রানার আপ শামরোজ আজমী আলভীর। লাক্স প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরপরই সম্ভবত এটি ছিল তাঁদের একসঙ্গে করা প্রথম দিকের কাজ। তখন দুজনই ছিলেন নতুন মুখ, চোখে ছিল স্বপ্ন, আর দর্শকদের কাছে ছিলেন নতুন এক সম্ভাবনার নাম।

সেই নাটকে ছিলেন আরও দুই জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল ও আফরান নিশো। আজকের প্রতিষ্ঠিত এই মুখগুলোকে তখনকার সরল, তারুণ্যে ভরা রূপে দেখে যেন মনে হয় সময় সত্যিই কত দ্রুত বদলে যায়। ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা আর জীবনের পথ বদলেছে, কিন্তু পর্দায় বন্দি সেই মুহূর্তগুলো আজও একই রকম সতেজ।

পুরনো নাটকের এমন কোনো ভিডিও চোখে পড়লেই মনে হয়, আমরা শুধু একটা নাটক দেখি না, ফিরে যাই নিজেরই ফেলে আসা সময়ে। সেই সন্ধ্যাগুলোতে, যখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে নাটক দেখত। যখন নতুন কোনো শিল্পীর নাম জানতে হলে অপেক্ষা করতে হতো টিভি অনুষ্ঠান কিংবা পত্রিকার জন্য। এখন অবশ্য সবকিছুই অনেক সহজ। একটি সার্চ, কয়েকটি ক্লিক, আর মুহূর্তেই চোখের সামনে চলে আসে হারিয়ে যাওয়া সেইসব নাটক, গান আর প্রিয় মুখগুলো।

প্রযুক্তি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু অপেক্ষার সেই মধুর আনন্দটা হয়তো কেড়ে নিয়েছে। তাই পুরনো কোনো নাটকের কয়েক সেকেন্ডের রিলসও আজ শুধু বিনোদন নয়, হয়ে ওঠে এক টুকরো নস্টালজিয়া। মনে করিয়ে দেয়, সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, মাধ্যম বদলায়—কিন্তু কিছু স্মৃতি কখনোই পুরনো হয় না।

02/08/2026

যে হাসিতে হার মানত হৃদয় 🎀

একজন নায়ক কতটা সুদর্শন হলে তাঁর সহ-অভিনেত্রী শট শেষ হলেই সোফার আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন? ১৯৭১ সাল। ‘গুড্ডি’ ছবির শুটিং চলছে। ছবির নায়িকা জয়া ভাদুড়ীকে নিয়ে ইউনিটের সবাই তখন এক অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করছিলেন। ক্যামেরা বন্ধ হলেই তিনি কখনো সোফার পেছনে, কখনো পর্দার আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন।

কারণটা জানতে চাইলে লাজুক হাসিতে জয়া বলেছিলেন, ধর্মেন্দ্র এতটাই সুদর্শন যে তাঁর সামনে দাঁড়াতেই ভয় লাগে। তাঁকে দেখলে মনে হয়, যেন সামনে কোনো গ্রিক দেবতা দাঁড়িয়ে আছেন। পরে একাধিক সাক্ষাৎকারেও জয়া স্বীকার করেছেন, ধর্মেন্দ্র ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ক্রাশ।

হিন্দি সিনেমায় শশী কাপুর ছিলেন ভদ্র, মার্জিত আর চকলেট-বয় ইমেজের প্রতীক। কিন্তু ধর্মেন্দ্র ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। মুখে শিশুর মতো সরল হাসি, চোখে গভীর মায়া, কণ্ঠে দৃঢ়তা আর শরীরজুড়ে দুর্দান্ত পৌরুষ। তাই রোমান্টিক নায়ক হোন কিংবা অ্যাকশন হিরো— দুই চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান বিশ্বাসযোগ্য।

ধর্মেন্দ্রর রূপের সবচেয়ে বড় ভক্তদের একজন ছিলেন কিংবদন্তি দিলীপ কুমারও। একবার সবার সামনে তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বর যখন ধর্মেন্দ্রকে তৈরি করছিলেন, তখন নিশ্চয়ই তাঁর হাতে অনেক সময় ছিল। কারণ এত নিখুঁত চেহারা আর শরীর খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে। এমনকি পরের জন্মে যদি আবার পৃথিবীতে আসতে হয়, তাহলে তিনি ধর্মেন্দ্রর মতো চেহারা নিয়েই জন্মাতে চাইবেন।

ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, পরে দিলীপ কুমারের স্ত্রী হওয়া সায়রা বানুও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আই মিলন কি বেলা’ ছবির সেটে প্রথম দিন ধর্মেন্দ্র ঢোকার পর সবাই শুধু তাকিয়েই ছিলেন। সেটে উপস্থিত প্রায় সব নারীই তাঁর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।

আশা পারেখের স্মৃতিও ছিল প্রায় একই রকম। তিনি বলেছিলেন, ধর্মেন্দ্রর চোখ এতটাই গভীর ছিল যে, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক অভিনেত্রী নিজের সংলাপই ভুলে যেতেন।

আর যার সৌন্দর্যে পুরো ভারত মুগ্ধ ছিল, সেই ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীও শেষ পর্যন্ত হার মেনেছিলেন ধর্মেন্দ্রর কাছেই। নিজের আত্মজীবনীতে হেমা লিখেছেন, ধর্মেন্দ্রর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত পুরুষালি আকর্ষণ। কিন্তু সেই শক্ত চেহারার ভেতরেও ছিল শিশুর মতো নিষ্পাপ এক হাসি। প্রথমবার তাঁকে দেখে হেমার মনে হয়েছিল, ঈশ্বর যেন খুব যত্ন করে এই মানুষটিকে গড়ে তুলেছেন।

তবে শুধু সুদর্শন বললে ধর্মেন্দ্রকে পুরোটা বলা হয় না। তিনি ছিলেন নিজের সময়ের সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে ভদ্র আর সবচেয়ে বিখ্যাত ফ্লার্টদের একজন।

তাঁর সঙ্গে কাজ করা প্রায় সব অভিনেত্রীই বলেছেন, ধর্মেন্দ্রর ফ্লার্ট করার ভঙ্গিতে কখনো অশালীনতা ছিল না। বরং ছিল রসবোধ, কবিতার মতো মিষ্টি কথা আর এমন এক আন্তরিকতা, যা কাউকে বিরক্ত না করে বরং হাসিয়ে দিত।

আশা পারেখ এক টক শোতে হেসে বলেছিলেন, ধর্মেন্দ্র সেটে সুন্দরী কোনো মেয়েকে দেখলেই মিষ্টি করে কথা বলতেন, একটু ফ্লার্টও করতেন। কিন্তু তাঁর সেই আচরণ এতটাই ভদ্র আর আন্তরিক ছিল যে, কেউ কখনো অস্বস্তি বোধ করতেন না। বরং সবাই লজ্জায় হেসে ফেলতেন।

হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের গল্প তো আজ কিংবদন্তি। ‘শোলে’ ছবির শুটিংয়ের সময় সুযোগ পেলেই হেমার আশপাশে থাকতেন ধর্মেন্দ্র। একদিন হেমা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এত মদ পান করেন কেন।

ধর্মেন্দ্র মুহূর্তেই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি মদ খাই না। তোমার চোখের নেশা কাটানোর জন্য একটু ভরসা নিই।’

এই একটি বাক্যেই নাকি আবারও মুগ্ধ হয়েছিলেন ড্রিম গার্ল। মজার বিষয় হলো, বয়স বাড়লেও ধর্মেন্দ্রর এই প্রাণবন্ত স্বভাব বদলায়নি।

২০২৩ সালে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র প্রচারণায় শাবানা আজমি আর জয়া বচ্চনের সামনে দাঁড়িয়ে হেসে বলেছিলেন, ‘রোমান্সের কোনো বয়স হয় না। আজও কোনো সুন্দর মুখ দেখলে চোখ সরাতে পারি না।’

আজকের মতো দামি জিম কিংবা প্রোটিন পাউডারের যুগ ছিল না তখন। দেশি খাবার আর আখড়ার কসরত করেই নিজের শক্তপোক্ত শরীর গড়ে তুলেছিলেন ধর্মেন্দ্র।

১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাথর’ ছবিতে প্রথমবার শার্ট খুলে পর্দায় আসতেই সিনেমা হলে মেয়েদের চিৎকার আর হাততালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। সেই সময় তাঁর জনপ্রিয়তা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, অসংখ্য মেয়ের ঘরের দেয়ালে, হোস্টেলের রুমে শোভা পেত ধর্মেন্দ্রর ছবি। শুধু এক ঝলক তাঁকে দেখার জন্য সিনেমা হলের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন অনেকে।

আর সেই দৃশ্য দেখে অসংখ্য তরুণের মাথায় চেপেছিল আরেক নেশা— আখড়ায় গিয়ে ধর্মেন্দ্রর মতো দেশি শরীর গড়ার নেশা।

সেই সময় থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় আরেক পরিচয়— ‘হি-ম্যান’। তাঁর রূপের খ্যাতি শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

সত্তরের দশকে বিদেশি গণমাধ্যম বিশ্বের সবচেয়ে সুদর্শন সাত পুরুষের তালিকায় জায়গা দিয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে। সেই তালিকায় একমাত্র ভারতীয় অভিনেতা ছিলেন তিনিই।

জীবনের শেষ দীর্ঘ সময়টাও তিনি কাটিয়েছেন আলো-ঝলমল শহর থেকে দূরে, লোনাভালার নিজের ফার্মহাউসে।

মাথায় খাকি টুপি, হাতে পশুর খাবার, কখনো গরু-ভেড়াকে খাওয়াচ্ছেন, কখনো নিজের বাগান থেকে টাটকা টমেটো তুলে ভিডিও করছেন— আশির কোঠার বয়সেও সেই সরল জীবনযাপনই নতুন করে প্রেমে ফেলেছে তাঁর ভক্তদের।

সময়ের সঙ্গে চুলে রুপালি রং লেগেছে, বয়স মুখে রেখা এঁকেছে। কিন্তু ধর্মেন্দ্রর চোখের সেই পুরোনো দীপ্তি আর ঠোঁটের সেই চিরচেনা হাসি আজও যেন বলে দেয়, কিছু মানুষ শুধু নায়ক নন, তারা একেকটি সময়ের সংজ্ঞা।

01/08/2026

মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকারের গল্প বলিউড বহু আগেই পর্দায় তুলে এনেছিল 🎭

যখন নেটফ্লিক্সের ‘অবসেশন’ সিরিজ নিয়ে চারদিকে আলোচনা, তখন অনেকেই যেন ভুলেই যান—প্রেম, উন্মাদনা, আসক্তি আর মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকারের গল্প বলিউড বহু আগেই পর্দায় তুলে এনেছিল। এমন সব গল্প, যেখানে ভালোবাসা ধীরে ধীরে রূপ নেয় ভয়ঙ্কর আসক্তিতে, আর সম্পর্ক পরিণত হয় মানসিক যন্ত্রণার গোলকধাঁধায়।

একসময় ‘পেয়ার তুনে ক্যা কিয়া’ দেখিয়েছিল, একতরফা ভালোবাসা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। ভালোবাসার নামে একজন মানুষ কত দূর যেতে পারে, সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছিল সিনেমাটি। আবার ‘রাজ’ শুধু অতিপ্রাকৃত ভয়ের গল্প ছিল না, সেখানে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর অন্ধ আবেগের মিশেলে তৈরি হয়েছিল এক ভিন্নরকম মানসিক থ্রিলার।

অন্যদিকে ‘কৃষ্ণা কটেজ’ রহস্য, প্রেম আর অদ্ভুত এক আবেশকে এমনভাবে মিলিয়েছিল, যা আজও অনেক দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। এসব সিনেমা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সব ভালোবাসার শেষ সুখের হয় না। কখনও কখনও ভালোবাসার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সেই ভালোবাসার প্রতি অসুস্থ আসক্তি।

আজকের দর্শক হয়তো হলিউডের নতুন গল্পে মুগ্ধ হচ্ছেন। কিন্তু বলিউড বহু বছর আগেই দেখিয়ে দিয়েছিল, মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার বা বিষাক্ত প্রেমের গল্প বলতে তাদেরও জুড়ি নেই। সম্পর্কের অন্ধকার দিক, মানুষের ভেতরের অস্থিরতা আর অবসেশনের ভয়াবহ রূপ—এসব নিয়ে বলিউডের সেই ক্লাসিক সিনেমাগুলো এখনও সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে।

প্রেম সব সময় মুক্তি দেয় না। কখনও কখনও সেই প্রেমই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় কারাগার। আর সেই গল্পগুলোই বহু বছর আগে বলিউড পর্দায় তুলে ধরেছিল, যা আজও নতুন প্রজন্মকে ভাবায়, শিহরিত করে এবং মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা আর অবসেশনের মাঝের দূরত্ব আসলে খুবই সামান্য।

01/08/2026

যৌন কেলেঙ্কারির ফাঁদে ক্যারিয়ার শেষ 🥊

একসময় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন ছিল গুঞ্জনের বিষয়। পত্রিকার বিনোদন পাতায়, টিভির আড্ডায় কিংবা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ত গল্প। কিন্তু ডিজিটাল যুগ সেই বাস্তবতাই বদলে দিয়েছে। এখন একটি ভিডিও, একটি ক্লিপ কিংবা কয়েক মিনিটের ফুটেজ মুহূর্তেই পৌঁছে যায় কোটি মানুষের হাতে।

তবে, সব ভিডিওর গল্প এক নয়। কোথাও সত্যিকারের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, কোথাও মর্ফড বা ভুয়া ভিডিও, আবার কোথাও সিনেমার দৃশ্যকেই ব্যক্তিগত ভিডিও বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সেই তারকাকেই, যার নাম জড়িয়ে গেছে বিতর্কে।

এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি রিয়া সেন। ২০০৫ সালে অভিনেতা অশমিত প্যাটেলের সঙ্গে তাঁর একটি কথিত ব্যক্তিগত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজকের মতো শক্তিশালী না হলেও ভিডিওটি ওয়েবসাইট আর মোবাইল ফোনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক কখনো থামেনি, কিন্তু বিতর্ক থামার আগেই বদলে যায় রিয়া সেনের ক্যারিয়ার। পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ তাঁর অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে বড় বাজেটের সিনেমা কমে যায়, আর একসময় তিনি প্রায় আড়ালেই চলে যান।

হলিউডেও একই ধরনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল পামেলা অ্যান্ডারসনকে। নব্বইয়ের দশকে তাঁর এবং তৎকালীন স্বামী টমি লির ব্যক্তিগত ভিডিও চুরি হয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ইন্টারনেট যুগের প্রথম বড় সেলিব্রিটি ভিডিও কেলেঙ্কারি হিসেবে মনে করেন। পামেলা পরে আত্মজীবনী এবং প্রামাণ্যচিত্রে জানিয়েছেন, সেই ঘটনা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। অভিনয়জীবন পুরোপুরি থেমে না গেলেও বহু বছর তাঁর পরিচয়কে ছাপিয়ে গিয়েছিল সেই ভিডিওর আলোচনাই।

২০১৩ সালে টেলিভিশন অভিনেত্রী মোনা সিংয়ের নামেও একটি নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সেটি ছিল মর্ফড ভিডিও। শুধু বক্তব্য দিয়েই থেমে থাকেননি, পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি ভুয়া প্রমাণিত হলেও কয়েক দিন ধরে তাঁকে ভয়াবহ ট্রল আর অপমান সহ্য করতে হয়েছিল।

শাইনি আহুজার গল্প অবশ্য ভিন্ন। ২০০৯ সালে ‘গ্যাংস্টার’ ও ‘লাইফ ইন আ... মেট্রো’ ছবির এই অভিনেতার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালে তিনি সাত বছরের কারাদণ্ড পান। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে অভিনয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কয়েকটি ছোট চরিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু বলিউড আর কখনো তাঁকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেয়নি।

ভোজপুরি সিনেমার জনপ্রিয় মুখ প্রিয়াঙ্কা পণ্ডিতও ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের পর কার্যত হারিয়ে যান আলোচনার কেন্দ্র থেকে। এরপর তাঁকে খুব কমই প্রকাশ্যে দেখা গেছে। সাক্ষাৎকারও দেন না বললেই চলে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন, যদিও সেই তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পপ গায়িকা মেলানি মার্টিনেজের জীবনেও বড় ঝড় আসে, যখন তাঁর সাবেক এক বন্ধু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। মেলানি অভিযোগ অস্বীকার করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁকে সাময়িকভাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিতে হয়। ২০২৩ সালে নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরলেও আগের মতো সাড়া আর পাননি।

আরেকটি বহুল আলোচিত নাম ব্রায়ান সিঙ্গার। ‘এক্স-মেন’ এবং ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’র মতো সফল সিনেমার নির্মাতা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও বিতর্কের ভার বহন করতে হয়েছে তাঁকেই। একে একে প্রযোজকেরা দূরে সরে যান। ২০১৯ সালে ‘ডার্ক ফিনিক্স’-এর পর আর কোনো নতুন চলচ্চিত্র পরিচালনার সুযোগ পাননি তিনি।

তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবতা অনেক সময় তার উল্টো। একটি ভিডিও, একটি অভিযোগ কিংবা একটি গুজব কখনো সত্য, কখনো মিথ্যা, কখনো বিকৃত—কিন্তু জনমতের আদালত প্রায়ই রায় দিয়ে ফেলে সবচেয়ে আগে। আর সেই রায়ের সবচেয়ে বড় শাস্তিটা অনেক সময় আদালত নয়, ভোগ করতে হয় একজন শিল্পীকেই।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Dhaka
1213