07/07/2026
ভয় ছড়ানোর ওস্তাদ তাঁরা — সঞ্জয় দত্ত ও অর্জুন রামপাল ☀
বলিউডে নায়করা আলো কাড়ে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু অভিনেতা আছেন, যারা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকেও আলোটাকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। তারা নায়ক নন, তবু গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। সেই বিরল তালিকায় নির্দ্বিধায় জায়গা করে নেন সঞ্জয় দত্ত এবং অর্জুন রামপাল।
সঞ্জয় দত্তকে আমরা অনেকভাবেই চিনি—নায়ক, অ্যান্টি-হিরো, বিদ্রোহী চরিত্রের মুখ। কিন্তু যখন তিনি ভিলেনের পোশাকে পর্দায় আসেন, তখন যেন তার ভেতরের অন্য এক শক্তি জেগে ওঠে। ‘এসপি আসলাম’-এর মতো চরিত্রে তিনি কেবল খলনায়ক নন, তিনি হয়ে ওঠেন এক ভয়ংকর উপস্থিতি—যার চোখের দৃষ্টিতেই লুকিয়ে থাকে নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতা আর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ। তার অভিনয়ে ভিলেনি কখনোই একমাত্রিক নয়; সেখানে থাকে স্তর, থাকে ইতিহাস, থাকে চরিত্রের ভেতরের টানাপোড়েন।
অন্যদিকে অর্জুন রামপাল—তিনি যেন ভিলেনিকে নিয়ে আসেন এক অন্য নান্দনিকতায়। তার চরিত্রগুলোতে ভয় আছে, কিন্তু সেই ভয়টা চিৎকার করে নয়; বরং নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে। ‘মেজর ইকবাল’-এর মতো চরিত্রে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে স্টাইল আর তীব্রতা একসঙ্গে মিশে তৈরি করতে পারে এক স্মরণীয় প্রতিপক্ষ। তার উপস্থিতি কখনো অতিরঞ্জিত নয়, বরং সংযত—আর সেই সংযমই তাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই একটা ভুল ধারণা ছিল—ভিলেন মানেই কেবল নায়কের বিপরীত শক্তি। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত আর অর্জুন রামপাল বারবার প্রমাণ করেছেন, ভিলেন আসলে গল্পের মেরুদণ্ড। তাদের ছাড়া সংঘাত তৈরি হয় না, উত্তেজনা জমে না, আর দর্শকও সেই কাঙ্ক্ষিত টানটান অনুভূতিটা পায় না।
তাদের অভিনয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট—ভিলেন হওয়া মানে শুধু খারাপ হওয়া নয়, বরং শক্তিশালী হওয়া। সেই শক্তি কখনো আসে সংলাপে, কখনো চোখের চাহনিতে, আবার কখনো নিঃশব্দ উপস্থিতিতেই।
এখন যখন ‘ধুরন্ধর ২’-এর মতো বড় ক্যানভাসের ছবিতে এই দুই অভিনেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার আভাস মিলছে, তখন দর্শকদের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা জানে, এখানে শুধু নায়ক-ভিলেনের লড়াই হবে না—এখানে হবে দুই শক্তিশালী উপস্থিতির সংঘর্ষ, যেখানে প্রতিটি দৃশ্যই হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়।
শেষ পর্যন্ত, সঞ্জয় দত্ত আর অর্জুন রামপাল আমাদের মনে করিয়ে দেন—সিনেমায় আলো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্ধকারও ততটাই। আর সেই অন্ধকারকে যারা এত নিখুঁতভাবে ধারণ করতে পারেন, তারাই আসলে গল্পকে পূর্ণতা দেন।
07/07/2026
সব ভালোবাসার গল্প উচ্চস্বরে বলতে হয় না 🔥
বলিউডে অনেক প্রেমের গল্পই আলোচনার ঝড় তোলে, আবার কিছু গল্প থাকে নিভৃতে—যেগুলো খুব বেশি শিরোনামে না এলেও সময়ের পরীক্ষায় টিকে যায়। তেমনই এক শান্ত অথচ গভীর সম্পর্কের গল্প অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও ব্যবসায়ী জয় মেহতা–র।
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে দুজনের পরিচয়। তখন জুহি চাওলা বলিউডে নিজের জায়গা শক্ত করে ফেলেছেন। বিশেষ করে কয়ামত সে কয়ামত তাক ছবির সাফল্যের পর তার হাসি আর অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। ঠিক সেই সময়েই পারস্পরিক বন্ধু ও ব্যবসায়িক পরিচিতদের মাধ্যমে জুহির সঙ্গে জয় মেহতার দেখা হয়।
তবে জয় মেহতার জীবন তখন সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বড় একটি শোকের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন—তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু তাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ের ভেতরেই ধীরে ধীরে জুহি ও জয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অনেক সময় নীরবতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধুত্বই একসময় গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়।
অবশেষে ১৯৯৫ সালে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বলিউডের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বিপরীতে এই বিয়েটি হয়েছিল বেশ গোপনে, প্রায় নি:শব্দেই। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার চেয়ে তারা বেছে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের শান্তি ও স্থিরতাকে।
বিয়ের পর ধীরে ধীরে জুহি চাওলা চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে সরে আসেন। পরিবার, স্বামী জয় মেহতা এবং তাদের দুই সন্তানকে ঘিরেই তিনি গড়ে তোলেন নিজের নতুন জীবন। যদিও সিনেমার পর্দা থেকে তিনি পুরোপুরি হারিয়ে যাননি, তবু আগের মতো ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে আর রাখেননি। তবে তার সেই পরিচিত প্রাণবন্ত হাসি ও উপস্থিতি আজও দর্শকদের কাছে একই রকম প্রিয়।
প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জুহি চাওলা ও জয় মেহতার সম্পর্ক যেন প্রমাণ করে—সব ভালোবাসার গল্প উচ্চস্বরে বলতে হয় না। অনেক সময় ধৈর্য, বিশ্বাস আর একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেই তৈরি হয় এমন এক বন্ধন, যা শিরোনাম ছাড়াই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।
07/07/2026
রহস্যে মোড়া গুপ্ত — পর্দার বাইরের গল্পও রোমাঞ্চকর 🔥
১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পেয়েছিল ‘গুপ্ত’। তখন কেউ ভাবেনি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি শুধু একটি সফল থ্রিলার হিসেবেই নয়, বলিউডের অন্যতম কাল্ট মিস্ট্রি সিনেমা হিসেবেও জায়গা করে নেবে। রাজীব রাই পরিচালিত এই ছবি আজও দর্শকের কাছে রহস্য, চমক আর দুর্দান্ত সাসপেন্সের এক অনন্য উদাহরণ।
মাত্র ৯ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘গুপ্ত’ ভারতীয় বক্স অফিসে আয় করে ৩১ কোটি ৭০ লাখ রুপি। বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট আয় দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ১৫ লাখ রুপি। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আসে ১ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। ভারতে ছবিটির নেট সংগ্রহ ছিল ১৮ কোটি ১১ লাখ রুপি। প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছিলেন। বক্স অফিসে এটি ‘হিট’ তকমাও পায়।
ছবির মূল তিন চরিত্রে ছিলেন ববি দেওল, মনীষা কৈরালা ও কাজল। তবে মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে এই ছবির নায়িকা হিসেবে ভাবা হয়েছিল রাভিনা ট্যান্ডনকে। এমনকি তিনি ছবির জন্য ফটোশুটও করেছিলেন। সে সময় প্রকাশিত প্রচারণার পোস্টারেও ববি দেওলের বিপরীতে রাভিনাকেই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বদলে যায়।
‘গুপ্ত’-এর গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়েছে, এটি রাজীব রাইয়ের সম্পূর্ণ মৌলিক ভাবনা। কিন্তু পরে জানা যায়, গল্পটির অনুপ্রেরণা ছিল ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত লুইস থমাসের ইংরেজি উপন্যাস ‘গুড চিলড্রেন ডোন্ট কিল’। এই একই উপন্যাস থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিল ঋষি কাপুর অভিনীত ১৯৭৫ সালের ‘খেল খেল মে’ এবং মারাঠি ছবি ‘বিন্দহস্ত’।
রাজীব রাই যখন চিত্রনাট্য লিখছিলেন, তখন তাঁর মাথায় ছিলেন অক্ষয় কুমার কিংবা সানি দেওল। চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনার সময় সানি দেওলই রাজীব রাইকে বলেছিলেন, এই গল্প তাঁর ছোট ভাই ববি দেওলের দ্বিতীয় ছবির জন্য একেবারে উপযুক্ত। সেই পরামর্শই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় ছবির কাস্টিং।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল ইন্সপেক্টর উদম সিং। পর্দায় যেটি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ওম পুরী। তবে খুব কম মানুষই জানেন, চরিত্রটি প্রথমে লেখা হয়েছিল নাসিরুদ্দিন শাহকে মাথায় রেখে। কিন্তু রাজীব রাইয়ের সঙ্গে ‘ত্রিমূর্তি’ ও ‘মোহরা’ করার পর নাসিরুদ্দিন এই ছবিতে অভিনয়ে আগ্রহ দেখাননি। বরং তিনিই ওম পুরীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা ছবি দেখলেই বোঝা যায়।
‘গুপ্ত’ তৈরির আগে রাজীব রাই নিজেও বেশ দ্বিধায় ছিলেন। আদৌ ছবিটি বানাবেন কি না, সেটাই ঠিক করতে পারছিলেন না। এমন সময় স্ত্রী সোনমকে নিয়ে লন্ডনে গিয়ে তিনি দেখেন বিখ্যাত সাসপেন্স নাটক ‘মাউস্ট্র্যাপ’। নাটক শুরু হওয়ার আগে স্ত্রীকে মজা করে বলেছিলেন, শেষ হওয়ার আগেই যদি তিনি খুনিকে ধরতে না পারেন, তাহলে ‘গুপ্ত’ আর বানাবেন না।
বিরতির সময় সবাই যখন সম্ভাব্য খুনিকে নিয়ে নিজেদের মতো অনুমান করছিলেন, তখন রাজীব রাই এমন একজন চরিত্রের নাম বলেছিলেন, যাকে কেউ সন্দেহই করেনি। শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রই খুনি হিসেবে বেরিয়ে আসে। তখনই রাজীব রাই সিদ্ধান্ত নেন, ‘গুপ্ত’ তিনি অবশ্যই বানাবেন।
ছবিতে একের পর এক সন্দেহভাজন চরিত্র হাজির হওয়ার পেছনেও ছিল রাজীব রাইয়ের নিজস্ব ধারা। তাঁর ‘বিশ্বাত্মা’, ‘ত্রিদেব’ ও ‘মোহরা’—সব ছবিতেই একাধিক ভিলেন দেখা গেছে। ‘গুপ্ত’-তেও তিনি অমরিশ পুরীকে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ছবির একটি ছোট তথ্যও বেশ চমকপ্রদ। গভর্নর হাউস এবং মন্ত্রীর বাড়ির দৃশ্য আলাদা জায়গার মনে হলেও, দুই সেটেই একই আসবাবপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। কারণ, দুটি সেটই তৈরি হয়েছিল একই জায়গায়।
ববি দেওল অভিনীত ‘দুনিয়া হাসিনোঁ কা মেলা’ গানটির শুটিং নিয়েও আছে দারুণ গল্প। রাজীব রাই চেয়েছিলেন, গানে ববিকে ভীষণ এনার্জেটিক দেখাক। তাই প্রতিটি স্টেপের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতেন ববি। এতটাই পরিশ্রম করতেন যে, ঘামে পুরো ভিজে যেতেন। গানের একটি দৃশ্যে তাঁকে আবার পানিতেও ভিজতে হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলাদা করে পানি ঢালার প্রয়োজনই পড়েনি, কারণ ঘামেই তিনি পুরো ভিজে যেতেন।
এই গানে ববি কালো রঙের জিন্স পরেছিলেন। শুটিংয়ের জন্য তিনি একই ধরনের ছয়টি জিন্স একসঙ্গে কিনেছিলেন। মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে বিশাল সেট তৈরি করে গানটির শুটিং হয়েছিল। তবে গানটির শুরুতে যে সুর শোনা যায়, সেটি জাপানি শিল্পী কিতারোর ‘মাতসুরি’ থেকে অনুপ্রাণিত, এমন অভিযোগও রয়েছে।
ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন ভিজু শাহ। তাঁর গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে নকলের অভিযোগ উঠেছিল। তবু ৪৩তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে তিনি সেরা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের সম্মান জিতে নেন।
আরেকটি সংলাপ নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। জেলে ববি দেওল ও মনীষা কৈরালার সাক্ষাতের দৃশ্যে তেজ সপ্রু বলেছিলেন, ‘বাতোঁ সে আগর গরমি না নিকলে, তো রুম মে বিস্তার লাগাওয়া দু?’। পরে অনলাইন ও ডিভিডি সংস্করণ থেকে সেই সংলাপটি কেটে দেওয়া হয়।
আজ প্রায় তিন দশক পরও ‘গুপ্ত’ শুধু একটি সফল সিনেমার নাম নয়। এটি এমন এক থ্রিলার, যার রহস্য, নির্মাণশৈলী আর চমক এখনও দর্শকদের নতুন করে মুগ্ধ করে। সময় বদলেছে, দর্শকের রুচি বদলেছে, প্রযুক্তিও অনেক এগিয়েছে। কিন্তু ভালো গল্পের আবেদন যে কখনও পুরোনো হয় না, ‘গুপ্ত’ তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
07/07/2026
স্মৃতির পাতায় শারমিন শীলা ⭐
টেলিভিশনের একটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা নামলেই পরিবারের সবাই বসে যেতেন টিভির সামনে। তখনকার নাটকের চরিত্রগুলো শুধু পর্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকত না, জায়গা করে নিত মানুষের ঘরেও। সেই সময়ের এমনই এক পরিচিত মুখ ছিলেন শারমিন শীলা। নব্বইয়ের দশকের ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী খুব অল্প সময়েই দর্শকের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা, আর পর্দায় উপস্থিতিতে ছিল এক ধরনের মায়া, যা সহজেই দর্শকের মনে দাগ কেটে যেত।
শারমিন শীলার নাম উঠলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ‘বন্ধন’ ধারাবাহিক নাটকের ‘সাদিয়া’ চরিত্রটি। পরিবারের আদরের মেয়ের সেই চরিত্র যেন আজও রয়ে গেছে দর্শকের স্মৃতিতে। বিশেষ করে অভিনেতা শামস সুমনের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। দু’জনকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতেন অসংখ্য দর্শক। তাঁদের রসায়ন ছিল এতটাই প্রাণবন্ত যে, বাস্তব আর অভিনয়ের সীমারেখাটাও অনেক সময় মুছে যেত।
ক্যারিয়ারের সেই সোনালি সময়ে বড় পর্দা থেকেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন শারমিন শীলা। কিন্তু সিনেমার পথে হাঁটেননি। ছোটপর্দাকেই নিজের ঠিকানা বানিয়ে একের পর এক নাটকে অভিনয় করে গেছেন।
অথচ, জনপ্রিয়তার ঠিক চূড়ান্ত সময়ে এসেই হঠাৎ যেন সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। ২০১০ সালের পর তাঁকে আর নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি। অনেকদিন পর একবার রান্নাবিষয়ক একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখা গেলেও অভিনয়ে আর ফেরা হয়নি তাঁর।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। এখন তিনি অভিনয়জগৎ থেকে অনেক দূরে। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দেশের বাইরে বসবাস করছেন। আলো-ঝলমলে ক্যামেরা, শুটিং সেট আর ব্যস্ত অভিনয়জীবন ছেড়ে বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন এক জীবন।
তবু সময় কি কখনও স্মৃতিকে হারাতে পারে? ছোটবেলায় যাঁদের দেখে বড় হওয়া, তাঁদের মুখগুলো হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায়। পুরোনো নাটকের কোনো দৃশ্য, কোনো সংলাপ কিংবা কোনো গান শুনলেই ফিরে আসে সেই দিনগুলোর কথা। শারমিন শীলাও ঠিক তেমনই এক নাম। যাঁর অভিনয়, যাঁর সরল হাসি আর যাঁর পর্দার উপস্থিতি আজও অনেক দর্শকের মনে নস্টালজিয়ার দরজা খুলে দেয়।
হয়তো নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর নাম জানে না। কিন্তু নব্বইয়ের দশক আর দুই হাজারের শুরুর দিকের দর্শকদের কাছে শারমিন শীলা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক টুকরো স্মৃতি। টেলিভিশনের সেই সোনালি সময়ের এক উজ্জ্বল মুখ, যাঁকে আজও অনেকেই নীরবে মিস করেন।
07/07/2026
বলিউড পর্দার অনুপ্রেরণা যোগানো শিক্ষক 👨🏫
বলিউডের পর্দায় শিক্ষক চরিত্র বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চরিত্রগুলোর ধরনও বদলেছে—কখনো কঠোর শৃঙ্খলাবাদী শিক্ষক, কখনো সহমর্মী পরামর্শদাতা, আবার কখনো শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা সামাজিক কর্মী হিসেবেও দেখা গেছে তাদের।
এই বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনই বলিউডের গল্পগুলোকে আরও মানবিক ও বাস্তবতার কাছাকাছি করে তুলেছে। সহানুভূতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক চরিত্রের কথা উঠলে প্রথমেই মনে পড়ে আমির খান অভিনীত তারে জমিন পার ছবির রাম শংকর নিকুম্ভ চরিত্রটির কথা।
একজন আর্ট শিক্ষক হিসেবে তিনি সহমর্মিতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক ছাত্রের ভেতরের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন। একইভাবে শাহরুখ খান অভিনীত মোহাব্বতে ছবির রাজ আরিয়ান মালহোত্রা চরিত্রটি সংগীত শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের হৃদয়ের কথা শুনতে ও কঠোর সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে উৎসাহ দেয়।
বলিউডে এমন শিক্ষকও দেখা গেছে যারা শুধু ক্লাসরুমেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং সমাজের নানা বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। এর অন্যতম উদাহরণ হৃতিক রোশন অভিনীত সুপার থার্টি। বাস্তব জীবনের গণিতবিদ আনন্দ কুমারের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে দেখা যায়, তিনি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইআইটি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেন।
একইভাবে চক অ্যান্ড ডাস্টার ছবিতে বিদ্যা ও জ্যোতি চরিত্র দু’জন শিক্ষক হিসেবে একটি মুনাফাকেন্দ্রিক স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। আর পাঠশালা ছবিতে ইংরেজি শিক্ষক রাহুল প্রকাশ উদ্যাভার চরিত্রটি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে বলিউডে কঠোর বা প্রতিপক্ষ শিক্ষক চরিত্রও বেশ আলোচিত। যেমন থ্রি ইডিয়টস ছবির অধ্যাপক ভিরু সহস্ত্রবুদ্ধি, যাকে সবাই ‘ভাইরাস’ নামে চেনে। এই চরিত্রটি এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে অতিরিক্ত চাপ ও মুখস্থবিদ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়। একইভাবে মুন্না ভাই এমবিবিএস ছবির ডিন ডক্টর আস্থানা চরিত্রটিও ঐতিহ্যগত ও কঠোর চিকিৎসা শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে।
এছাড়া বলিউডে এমন শিক্ষক চরিত্রও আছে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছেন। যেমন রানি মুখার্জি অভিনীত হিচকি ছবির ন্যায়না মাথুর চরিত্রটি। টুরেট সিনড্রোম থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি বিদ্রোহী ক্লাসের সম্মান অর্জন করেন। আবার ব্ল্যাক ছবিতে দেবরাজ সাহাই নামের শিক্ষক চরিত্রটি কঠোর কিন্তু ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতিতে এক বধির-অন্ধ মেয়েকে যোগাযোগ শেখাতে সাহায্য করেন।
শুধু ক্লাসরুমের শিক্ষক নয়, কোচ বা প্রশিক্ষকের ভূমিকাও বলিউডে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেমন ইকবাল ছবিতে নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত কঠোর ক্রিকেট কোচের চরিত্রটি কিংবা দঙ্গল ছবিতে আমির খানের কঠোর কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ী পিতার ভূমিকায় কুস্তি প্রশিক্ষকের চরিত্র।
সব মিলিয়ে বলিউডের পর্দায় শিক্ষক চরিত্র কখনো সহমর্মী পথপ্রদর্শক, কখনো সমাজ বদলের সৈনিক, আবার কখনো কঠোর শৃঙ্খলার প্রতীক হয়ে উঠে এসেছে। আর এই বহুমাত্রিক উপস্থাপনই প্রমাণ করে—শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, জীবনের বড় শিক্ষা দেওয়ারও অন্যতম মাধ্যম।
06/07/2026
আউটসাইডার থেকে সুপারস্টার 🥊
বলিউডে তারকা হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন খুব কম মানুষ। আরও কঠিন তখনই, যখন আপনার পেছনে কোনো চলচ্চিত্র পরিবার নেই, নেই কোনো গডফাদার। রণবীর সিংয়ের গল্পটা তাই শুধু একজন অভিনেতার নয়, একজন আউটসাইডারের নিজের জায়গা করে নেওয়ার গল্প।
২০১০ সালে ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন বিট্টু শর্মার চরিত্রে। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর অভিনয় যে কতটা নজর কেড়েছিল, তার প্রমাণ মেলে সেই বছরই। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে তিনি জিতে নেন সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার।
তবে সেই পুরস্কারের চেয়েও বড় উপহার দিয়েছিলেন শাহরুখ খান। পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়ার সময় শাহরুখ বলেছিলেন, তাঁর পর বলিউডে আউটসাইডার হিসেবে রাজত্ব করবে রণবীর সিং। তখন হয়তো অনেকেই কথাটাকে শুধু উৎসাহ হিসেবেই নিয়েছিলেন। কিন্তু শাহরুখ যেন তখনই বুঝে গিয়েছিলেন, এই ছেলেটার ভেতরে অন্য কিছু আছে।
তবে শুরুটা যতটা উজ্জ্বল ছিল, পথটা ততটা সহজ ছিল না। প্রথম ছবির সাফল্যের পর তিনি বেছে নেন ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বেহল’। দর্শকদের প্রত্যাশার তুলনায় ছবিটি খুব বেশি আলোড়ন তুলতে পারেনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো প্রথম ছবির সাফল্যটাই ছিল কাকতালীয়।
কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দেন মাত্র এক ছবির ব্যবধানে। ‘লুটেরা’য় বরুণ শ্রীবাস্তব, কিংবা নন্দু ত্রিপাঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দেখিয়ে দেয়, তিনি ক্ষণিকের অতিথি নন। বলিউডে এসেছেন দীর্ঘ পথ চলার জন্য। সেই ছবিই যেন তাঁকে নতুনভাবে চিনিয়ে দেয় নির্মাতাদের কাছে। আর তখনই সঞ্জয় লীলা বানসালির নজরে পড়েন তিনি।
এরপর আসে ‘রাম-লীলা’। সেখান থেকেই শুরু হয় রণবীর সিং আর সঞ্জয় লীলা বানসালির সফল জুটি। এর মাঝেই আলি আব্বাস জাফরের দ্বিতীয় ছবি ‘গুন্ডে’তে বিক্রম বোস চরিত্রে দারুণ ছাপ রাখেন তিনি। কিন্তু এরপর সাদ আলি পরিচালিত ‘কিল দিল’ আবারও তাঁর ক্যারিয়ারে কিছুটা ছন্দপতন ঘটায়। তবে রণবীরের বড় গুণ ছিল, তিনি কখনও ব্যর্থতার মধ্যে আটকে থাকেননি। খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
জোয়া আখতারের ‘দিল ধড়কনে দো’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভাইয়ের চরিত্রে। তার আগের ছবিতেই যেখানে প্রিয়াঙ্কার বিপরীতে নায়ক ছিলেন, সেখানে পরের ছবিতে ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্তটা ছিল সাহসী। বলিউডে এমন ঝুঁকি খুব কম অভিনেতাই নেন। অনেকটা যেমন একসময় ‘জোশ’ ছবিতে করেছিলেন শাহরুখ খান।
এরপর যেন রণবীরের জন্য আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগই আসেনি। সঞ্জয় লীলা বানসালিই যেন তাঁকে বলিউডের ট্রেডমার্ক অভিনেতায় পরিণত করেন। ‘বাজিরাও মাস্তানি’তে পেশোয়া বাজিরাও, ‘পদ্মাবত’-এ আলাউদ্দিন খিলজি—দুটি চরিত্রই তাঁর ক্যারিয়ারের মাইলফলক। বিশেষ করে খিলজির উন্মাদনা, হিংস্রতা আর বিস্ফোরক উপস্থিতি আজও বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
মাঝে অবশ্য ‘বেফিকরে’ করেছেন, যেটিকে অনেকেই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুর্বল সিদ্ধান্তগুলোর একটি বলে মনে করেন| কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে ‘পদ্মাবত’-এর ভয়ংকর খিলজি, পুরোপুরি বাণিজ্যিক ‘সিম্বা’র সংগ্রাম ভালেরাও আর ‘গালি বয়’-এর মুরাদ আহমেদের মতো একেবারে ভিন্ন তিনটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বুঝিয়ে দেন, একজন অভিনেতার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে।
এরপর আসে ‘৮৩’। ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি কপিল দেবকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন রণবীর। শুধু চেহারা নয়, হাঁটা, কথা বলা, শরীরী ভাষা—সবকিছুতেই তিনি যেন কপিল দেব হয়ে উঠেছিলেন। এই ছবিই আবারও প্রমাণ করে, চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যেতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁর আছে।
অভিনয়ের বাইরেও রণবীরের ব্যক্তিগত জীবন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। দীপিকা পাড়ুকোন যখন মানসিক অবসাদের কঠিন সময় পার করছিলেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রণবীর। পরে ভালোবাসার সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। বলিউডে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যতটা কঠিন, তাঁদের সম্পর্ক ততটাই ব্যতিক্রম।
একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্চালক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, জীবনে আর কী চান? রণবীরের উত্তর ছিল খুব সহজ। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সেই মানুষ, যিনি তাঁকে আজকের অভিনেতা বানিয়েছেন—সঞ্জয় লীলা বানসালি। আর সামনে বসে আছেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, তাঁর স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। এর বাইরে আর কিছু চাওয়ার নেই।
সম্ভবত সত্যিই তাঁর ব্যক্তিগত চাওয়া খুব বেশি নেই। তবে দর্শকদের আছে। কারণ রণবীর সিং নিঃসন্দেহে তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের একজন। কিন্তু অদ্ভুত পোশাক, অতিরিক্ত নজর কাড়ার চেষ্টা আর অফ-স্ক্রিন ইমেজের কারণে অনেক সময় তাঁর অভিনয় আড়ালে পড়ে গেছে। হয়তো এই জায়গাতেই তিনি নিজের সেরা সময়ের কিছুটা অপচয় করেছেন। তা না হলে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার পরবর্তী সবচেয়ে বড় তারকার লড়াইয়ে তাঁর অবস্থান আরও শক্ত হতে পারত।
তবু গল্প শেষ হয়নি। ‘ধুরন্ধর’ই দিয়ে নতুন শুরু করে ফেলেছেন। দু:সময় কাটিয়ে সেই রণবীর সিং কক্ষপথে ফিরেছেন, যাকে একদিন শাহরুখ খান দেখে বলেছিলেন—এই ছেলেটাই একদিন আউটসাইডারদের মুখ হয়ে বলিউড শাসন করবে। এত বছর পর দাঁড়িয়ে মনে হয়, সেই ভবিষ্যদ্বাণী খুব একটা ভুল ছিল না।
06/07/2026
আদনান সামি — চার বিয়ের এক বিতর্কিত জীবন 🎧
গায়ক আদনান সামির জীবন ছিল একরকম সুরের মতো—উচ্চ-নিম্ন, কখনো মেলোডি ভরে, কখনো হাহাকার ভরা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চারবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, আর প্রতিটি সম্পর্ক যেন তার জীবনের এক নতুন অধ্যায় খুলেছে। ১৯৯৩ সালে শুরু হয় তাঁর প্রথম বিবাহ, পাকিস্তানি অভিনেত্রী জেবা বখতিয়ারের সঙ্গে। এই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেন তাঁদের একমাত্র পুত্র, আজান সামি খান। তবে বিবাহের যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, ১৯৯৬-এ আলাদা হয়ে যান তাঁরা।
এরপর আসে দুবাই-ভিত্তিক সাবাহ গালাদারির সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ। ২০০১ সালে শুরু হওয়া এই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৩ সালে তারা বিচ্ছেদ ঘটে, যদিও পরবর্তীতে সংক্ষেপে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে খবর আসে, কিন্তু শেষমেষ তারা চিরতরে আলাদা হন। এই সময়কাল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতনের সাক্ষ্য বহন করে।
এরপরের বছরগুলোতে সামির জীবন আবার ঘুরে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালে এক অজ্ঞাত মহিলার সঙ্গে তিনি তৃতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই সম্পর্কও খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ২০০৯ সালে শেষ হয়। প্রতিটি বিবাহ যেন সামির জীবনের সঙ্গীতের কিছুটা পরিবর্তিত সুরের মতো—সংক্ষেপে হলেও গভীর প্রভাব ফেলে।
অবশেষে ২০১০ সালে জীবনে আসে শান্তি এবং স্থায়িত্ব। আফগান-জার্মান বংশোদ্ভূত রোয়া ফার্যাবির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সামি। এই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে। রোয়ার সঙ্গে সামির জীবন যেন অন্য মাত্রার রঙ পায়—প্রতিটি দিনই পরিবারের উষ্ণতা এবং সঙ্গীতের মেলবন্ধনে ভরা।
আদনান সামির ব্যক্তিগত জীবন দেখায়, জনপ্রিয়তা ও সঙ্গীতের আড়ালে মানুষের জীবনও থাকে জটিল, উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলা। চারবারের বিবাহ, সন্তানের সাথে সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও নতুন সংসার—সব মিলিয়ে তার জীবন এক ধরনের মেলোডিক গল্পের মতো, যেখানে প্রতিটি নোটই তার বাস্তব অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।
06/07/2026
সাথিয়া — বিয়ের পরের ভালোবাসা 🌹
কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো প্রথমবার দেখে ভালো লাগে। আবার কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে ধরা দেয়। ‘সাথিয়া’ ঠিক তেমনই একটি ছবি। ২০০২ সালের ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই রোমান্টিক ড্রামা শুধু প্রেমের গল্প বলেনি, বরং প্রেমের পরের জীবনের গল্পও বলেছে। আর সেখানেই ছবিটির আলাদা শক্তি।
এই সিনেমার মাধ্যমেই বলিউডে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় বিবেক ওবেরয়ের। তাঁর বিপরীতে ছিলেন রানি মুখার্জি। দু’জনের অভিনয়, রসায়ন আর চরিত্রের গভীরতা আজও দর্শকের মনে একই রকম উজ্জ্বল।
পুরো ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন শাদ আলী, আর সংগীতের দায়িত্বে ছিলেন এ. আর. রহমান। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘সাথিয়া’ কিংবা ‘উড়ি উড়ি’সহ ছবির গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়।
অনেক প্রেমের গল্প বিয়েতে এসে শেষ হয়ে যায়। যেন নায়ক-নায়িকার মিলনই সবকিছুর সমাপ্তি। কিন্তু ‘সাথিয়া’ ঠিক উল্টো পথে হাঁটে। এই ছবি দেখায়, আসল গল্পটা শুরু হয় বিয়ের পর।
কারণ, বিয়ে কোনো শেষ নয়, বরং নতুন জীবনের শুরু। আর সেই শুরুতেই আসে সংসারের চাপ, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, ভুল বোঝাবুঝি, আত্মসম্মানের লড়াই, ছোট ছোট অভিমান আর প্রতিদিনের অসংখ্য মতের অমিল।
গল্পের কেন্দ্রে আদিত্য ও সুহানি। ভালোবেসে সংসার শুরু করা দুই তরুণ-তরুণী ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে, এক ছাদের নিচে সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকা মানেই শুধু রোমান্স নয়।
কাছ থেকে একজন আরেকজনের ভালো-মন্দ, অভ্যাস, রাগ, বিরক্তি—সবকিছুই তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্পর্কের আসল পরীক্ষাও শুরু হয় সেখান থেকেই। আর সেই কঠিন পথ কীভাবে সময়ের সঙ্গে পেরিয়ে যায়, সেটিই এই ছবির মূল গল্প।
আদিত্য চরিত্রে বিবেক ওবেরয় দারুণ অভিনয় করেছেন। প্রেমিকের কোমলতা যেমন ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি সংসারের দায়িত্বে ক্লান্ত এক তরুণের অস্থিরতাও সমান বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।
অন্যদিকে সুহানি চরিত্রে রানী মুখার্জি এক কথায় অসাধারণ। প্রেমিকা হিসেবে তাঁর সরলতা যেমন মুগ্ধ করে, তেমনি আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন, বাস্তববাদী একজন স্ত্রীর চরিত্রেও তিনি নিজের সেরাটা দিয়েছেন। দু’জনের অনস্ক্রিন রসায়নই ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ।
পরিচালক শাদ আলী খুব সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন দাম্পত্য জীবনের ছোট ছোট ঝগড়া, অস্বস্তি, অভিমান আর নীরব দূরত্বের মুহূর্তগুলো। কোথাও অতিনাটকীয়তা নেই, আবার কোথাও গল্পের আবেগও হারিয়ে যায় না। মনে হয়, পর্দায় যেন আমাদের চারপাশেরই কোনো পরিচিত জীবনের গল্প চলছে।
ছবিটির আরেকটি বড় শক্তি এর সংগীত। এ. আর. রহমানের সুরে তৈরি প্রতিটি গান গল্পের আবেগকে আরও গভীর করেছে। এত বছর পরও গানগুলো শুনলে ছবির দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একইভাবে সিনেমাটোগ্রাফিও প্রশংসার দাবি রাখে। ব্যস্ত মুম্বাই শহরকে যে আন্তরিকতায় পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তা ছবির আবহকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
তবে এটি দ্রুত গতির সিনেমা নয়। যারা শুধু টানটান গতি খোঁজেন, তাঁদের কাছে ছবিটি ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু যারা বাস্তবধর্মী গল্প, শক্তিশালী অভিনয় আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ‘সাথিয়া’ অবশ্যই দেখার মতো একটি সিনেমা।
আরও একটি তথ্য অনেকের জানা থাকলেও মনে করিয়ে দেওয়া যায়। ‘সাথিয়া’ আসলে একটি তামিল চলচ্চিত্রের রিমেক। তবে হিন্দি সংস্করণটি নিজের অভিনয়, নির্মাণ আর সংগীতের গুণেই আলাদা পরিচয় তৈরি করে নিয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় পরও তাই ‘সাথিয়া’ শুধু একটি প্রেমের সিনেমা নয়, বরং ভালোবাসার পরের জীবনের সবচেয়ে আন্তরিক গল্পগুলোর একটি।
06/07/2026
স্নিগ্ধতার অন্য নাম — মায়াময়ী রওশন আরা ⭐🌹
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের ইতিহাসে এমন কিছু মুখ আছে, যাঁদের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অন্যরকম সৌন্দর্য, মায়া আর অভিনয়ের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য। সেই তালিকায় অনায়াসেই জায়গা করে নেন চিত্রনায়িকা রওশন আরা। শান্ত, স্নিগ্ধ মুখাবয়ব আর মায়াময় উপস্থিতি ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। চোখের ভাষায় আবেগ ফুটিয়ে তোলার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। পরিমার্জিত অভিনয়ে খুব অল্প সময়েই দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি।
রওশন আরার গল্পটা শুধু একজন নায়িকার নয়, একজন চিকিৎসকেরও। যখন অভিনয়কে খুব বেশি মানুষ পেশা হিসেবে ভাবতেন না, তখন এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেও তিনি ভালোবেসে বেছে নিয়েছিলেন চলচ্চিত্রকে।
চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন, আর দেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পথেও রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। উচ্চশিক্ষিত একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি আজও আমাদের চলচ্চিত্র ইতিহাসে আলাদা সম্মানের আসনে রয়েছেন।
১৯৪০ সালের ৩ আগস্ট পাবনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন রওশন আরা। তাঁর বাবা মৌলভী বজলুর রহমান এবং মা মোসামৎ দুরুদুরনিসা খাতুন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার ছোট। পড়াশোনায়ও ছিলেন সমান মনোযোগী।
১৯৫৪ সালে পাবনা গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকার মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজে, যা বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ নামে পরিচিত। সেখান থেকেই এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।
চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। খ্যাতিমান পরিচালক মহিউদ্দিনের ‘মাটির পাহাড়’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রুপালি পর্দায় হাজির হন তিনি। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘যে নদী মরুপথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘নতুন সুর’, ‘ইয়েভি এক কাহানী’, ‘সোহানা সফর’—যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি—‘নদী ও নারী’, ‘মেঘের অনেক রং’, ‘আমির ফকির’ এবং ‘দরদীশত্রু’সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে। শুধু সিনেমাতেই নয়, বিজ্ঞাপনচিত্র ও টেলিভিশন নাটকেও নিজের অভিনয়গুণের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে চিকিৎসক জহুরুল কামালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডা. রওশন আরা। তাঁদের সংসারে সন্তান না থাকলেও একমাত্র দত্তক কন্যা ঋতি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন।
জীবনের শেষ অধ্যায়েও মানুষের ভালোবাসা নিয়েই ছিলেন এই গুণী শিল্পী। ২০১০ সালের ২৪ জুন ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রওশন আরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের কাজ আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে বেঁচে থাকেন। রওশন আরা তেমনই একজন। চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রন আর অভিনেত্রীর আলোকিত পর্দা—দুই পরিচয়কে সমান মর্যাদায় ধারণ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, স্নিগ্ধ হাসি আর মায়াভরা চোখের এই নায়িকার নামও ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
06/07/2026
শাহরুখ খানের পুরোনো জুটির প্রত্যাবর্তন ⭐🔥
বলিউডে কিছু জুটি আছে, যাদের একসঙ্গে দেখলেই পুরোনো দিনের সিনেমার গন্ধ ফিরে আসে। সময় বদলায়, গল্প বদলায়, নায়ক-নায়িকার বয়স বাড়ে, কিন্তু কিছু সম্পর্ক পর্দায় কখনো পুরোনো হয় না। ঠিক সেই অনুভূতিই এবার ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে শাহরুখ খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কিং’।
এই সিনেমায় বহু বছর পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে শাহরুখ খানকে বলিউডের তিন কিংবদন্তি তারকার সঙ্গে। তাঁদের একজন অনিল কাপুর। ‘ত্রিমূর্তি’ মুক্তির ৩১ বছর পর আবার একই সিনেমায় ফিরছেন শাহরুখ ও অনিল। নব্বইয়ের দশকের সেই জনপ্রিয় জুটিকে নতুনভাবে দেখার অপেক্ষায় এখন দর্শক।
শুধু অনিল কাপুরই নন, ‘দেবদাস’-এর পর কেটে গেছে ২৫ বছর। সেই সিনেমায় শাহরুখ খানের সঙ্গে দারুণ রসায়ন তৈরি করেছিলেন জ্যাকি শ্রফ। দীর্ঘ এই বিরতির পর ‘কিং’-এ আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন দু’জন। ফলে ‘দেবদাস’-এর স্মৃতি যাঁদের মনে এখনো টাটকা, তাঁদের জন্য এটি নি:সন্দেহে বড় চমক।
আরেকটি আবেগের নাম রানি মুখার্জি। ‘কভি আলবিদা না কেহনা’ মুক্তির দুই দশক পেরিয়ে গেছে। ২০ বছর পর আবারও শাহরুখ ও রানিকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শক। বলিউডের সবচেয়ে প্রিয় অনস্ক্রিন জুটিগুলোর একটি নতুন গল্পে ফিরছে, আর সেটিই বাড়িয়ে দিয়েছে সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশা।
একদিকে ৩১ বছরের অপেক্ষা, অন্যদিকে ২৫ ও ২০ বছরের বিরতি। তিনটি ভিন্ন সময়, তিনটি স্মরণীয় সিনেমা, আর তিনটি প্রিয় জুটি—সবকিছুর মিলন ঘটছে ‘কিং’-এ। তাই এটি শুধু আরেকটি নতুন সিনেমা নয়, বরং বলিউডপ্রেমীদের জন্য একরাশ নস্টালজিয়া, পুরোনো স্মৃতি আর নতুন উন্মাদনার নাম। এখন অপেক্ষা শুধু বড় পর্দায় সেই পুনর্মিলনের।