The Roader

The Roader

Share

Respect your family because they are your safety gears.

Photos from The Roader's post 29/08/2026

কিছু ভ্রমণ আসলে গন্তব্যের জন্য শুরু হয় না।
শুরু হয় একটা সকাল, একটা বাইক আর মাথার ভেতর হঠাৎ করে তৈরি হওয়া একটা ইচ্ছা থেকে—আজ একটু দূরে যাই।

২৬ আগস্ট ২০২৬।

সকাল ছয়টা। বাইরে তখনও দিনের ব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হয়নি। ব্যাগ গুছিয়ে আমার পুরোনো সঙ্গী Pulsar UG3 2009-কে নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বয়সের হিসেবে বাইকটা এখন আর নতুন নয়, কিন্তু এই বাইকের সঙ্গে আমার একটা আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। এত বছর পরও ঠিকঠাক যত্ন নিলে বাইকটা যে কতটা নির্ভরযোগ্য হতে পারে, এমন রাইডগুলোতে আবার সেটা মনে হয়।

এবারের গন্তব্য মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।

উদ্দেশ্য খুব বেশি কিছু না—মুক্তাগাছার বিখ্যাত মণ্ডা খাব, জমিদারবাড়ি দেখব, আর বাইকে করে পথের সৌন্দর্য উপভোগ করব। পরে কোথায় যাওয়া হবে, কতক্ষণ থাকা হবে—এসবের একটা মোটামুটি পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু প্রকৃতির নিজের পরিকল্পনা যে সবসময় একটু আলাদা থাকে, সেটা আমরা বের হওয়ার পরই বুঝে গেলাম।
শুরুটাই হলো বৃষ্টিতে

যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি।
প্রথমে মনে হলো, একটু পরেই হয়তো থেমে যাবে। কিন্তু সেটা আর হলো কই!

বৃষ্টি বাড়তেই থাকল। শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হলো। এমন একটা সময়ও মনে হচ্ছিল, আজ হয়তো এই যাত্রা আর শুরু করাই হবে না।

তবে বাইকে ঘুরতে বের হলে একটা ব্যাপার বুঝে গেছি—সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো হবে, এমন আশা করলে চলবে না। রাস্তা, আবহাওয়া, ট্রাফিক—সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হয়।

বৃষ্টি একটু কমতেই আবার বাইকের ইঞ্জিন স্টার্ট করলাম।

আর শুরু হলো আমাদের ময়মনসিংহের পথে যাত্রা।

আমার Pulsar UG3 2009-এর একটা বিষয় আমার বেশ ভালো লাগে—বাইকটা খুব বেশি আধুনিক কিছু না, কিন্তু রাস্তায় নামলে নিজের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করে। এই বয়সের একটা বাইক নিয়ে লম্বা রাইডে বের হলে স্বাভাবিকভাবেই একটু বাড়তি যত্ন নিতে হয়। কিন্তু সেদিন বৃষ্টি, ভেজা রাস্তা, মাঝে মাঝে খারাপ অংশ—সব মিলিয়েও বাইকটা বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।

পুরোনো বাইকের একটা আলাদা মজা আছে। নতুন বাইকের মতো অনেক কিছু হয়তো নেই, কিন্তু ইঞ্জিনের শব্দ, গিয়ার পরিবর্তনের অনুভূতি আর পরিচিত সেই riding feel—সবকিছু মিলে একটা আলাদা আত্মবিশ্বাস দেয়।

উত্তরার দল থেকে রাস্তায়

এবারের রাইডে সবাই শেষ পর্যন্ত আসতে পারেনি।

কারও ছুটি মেলেনি, কেউ আবার বৃষ্টির কারণে সময়মতো বের হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন মিলে যাত্রা শুরু করলাম।

আসলে বাইক ট্যুরে মানুষের সংখ্যার চেয়ে সঙ্গে থাকা মানুষগুলোর mindset বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই রাস্তা, একই বৃষ্টি, একই ক্লান্তি—এসবের মাঝেও যদি সবাই enjoy করতে পারে, তাহলেই রাইডটা memorable হয়ে যায়।

গাজীপুর পেরিয়ে

ঢাকা শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে গাজীপুরের দিকে এগোতে লাগলাম।

শহর যত পেছনে পড়ছিল, চারপাশ তত বদলে যাচ্ছিল। রাস্তার দুই পাশে সবুজ, মাঝে মাঝে খোলা জায়গা, কোথাও গাছপালায় ঘেরা রাস্তা—শহরের পরিচিত দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল।

রাজেন্দ্রপুরের দিকে এসে সকালের নাস্তার জন্য থামলাম।

এক প্লেট নাস্তা, এক কাপ চা আর কিছুক্ষণ বসে থাকা।

বাইক ভ্রমণে এই ছোট ছোট বিরতিগুলো আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুরো আনন্দটা শুধু destination-এ গিয়ে পাওয়া যায় না। কখনো একটা roadside tea stall, কখনো অচেনা একটা রাস্তা, কখনো কয়েক মিনিটের একটা আড্ডাই পুরো দিনের সবচেয়ে মনে রাখার মতো মুহূর্ত হয়ে যায়।

নাস্তা শেষ করে আবার রওনা দিলাম।

একই দিনে কয়েক রকম আবহাওয়া

রাজেন্দ্রপুর পেরিয়ে ময়মনসিংহের দিকে যত এগোচ্ছি, আবহাওয়ার চরিত্র তত বদলাচ্ছিল।

এক জায়গায় আকাশ কালো হয়ে আসছে।

কিছুক্ষণ পর ঝুম বৃষ্টি।

আবার একটু এগোলেই বৃষ্টি নেই, উল্টো প্রচণ্ড রোদ।

তারপর আবার মেঘ।

মনে হচ্ছিল, কয়েক ঘণ্টার একটা বাইক রাইডের মধ্যেই বর্ষাকালের পুরো একটা গল্প দেখে ফেলছি।

মেঘ, বৃষ্টি, রোদ—সব একসঙ্গে।

মাঝে কয়েকবার রাস্তার পাশে থামতে হয়েছে। কখনো বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য, কখনো একটু বিশ্রামের জন্য, আবার কখনো শুধুই চারপাশটা দেখার জন্য।

চায়ের দোকানে বসে গল্প হয়েছে। হাসাহাসি হয়েছে। আবার হঠাৎ মনে হয়েছে, অনেকক্ষণ বসে আছি—চলো, এবার গন্তব্যের দিকে যাই।

এটাই সম্ভবত বাইক ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিক।

আপনি একটা জায়গায় যাওয়ার জন্য বের হন ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পথটাই ভ্রমণের বড় একটা অংশ হয়ে যায়।

অবশেষে মুক্তাগাছা

দুপুরের দিকে আমরা পৌঁছে গেলাম মুক্তাগাছায়।

অনেকক্ষণ বাইক চালানোর পর গন্তব্যে পৌঁছানোর সেই অনুভূতিটা আলাদা। ক্লান্তি থাকে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি থাকে একটা ভালো লাগা—শেষ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।

মুক্তাগাছায় এসে আমাদের প্রথম কাজ ছিল মণ্ডা খাওয়া।

মুক্তাগাছার মণ্ডা

মুক্তাগাছার মণ্ডার কথা আগে অনেকবার শুনেছি। কিন্তু কোনো জায়গার বিখ্যাত খাবারের গল্প যতই শুনি না কেন, নিজের মুখে না খেলে আসলে বোঝা যায় না সেটা কেমন।

মণ্ডা দেখতে খুব সাধারণ।

কিন্তু মুখে দেওয়ার পর বুঝলাম, এর স্বাদ অন্য অনেক পরিচিত মিষ্টির চেয়ে আলাদা। খুব বেশি ঝাঁঝালো মিষ্টি নয়। টেক্সচারটাও আলাদা—নরম, খানিকটা দানাদার ধরনের।

মজার ব্যাপার হলো, প্রথমবার খেলে হয়তো এটাকে অন্য কোনো পরিচিত মিষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন। কিন্তু একটু পরেই মনে হবে, না—এর নিজস্ব একটা স্বাদ আছে।

মুক্তাগাছার মণ্ডা শুধু একটা মিষ্টি নয়, এর সঙ্গে এই এলাকার দীর্ঘদিনের একটা ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।

ঐতিহ্যবাহী তথ্য অনুযায়ী, এই মণ্ডার প্রচলনের ইতিহাস প্রায় দুইশ বছরের। ১৮২৪ সাল থেকে এর সঙ্গে গোপাল পালের নাম জড়িয়ে আছে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে মুক্তাগাছার জমিদার পরিবারের আতিথেয়তার সঙ্গেও এই মিষ্টির সম্পর্ক তৈরি হয়।

আর এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি ২০২৪ সালে বাংলাদেশের GI পণ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে।

তাই মণ্ডা খাওয়ার সময় শুধু মিষ্টি খাওয়ার অনুভূতি ছিল না—মনে হচ্ছিল, এত বছরের পুরোনো একটা খাদ্যঐতিহ্যের ছোট্ট একটা অংশ নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যে যোগ করছি।

মণ্ডা থেকে জমিদারবাড়ি

মণ্ডার স্বাদ নেওয়া শেষ করে এবার আমাদের গন্তব্য মুক্তাগাছার রাজবাড়ি।

মুক্তাগাছার ইতিহাসের সঙ্গে আচার্য চৌধুরী জমিদার পরিবারের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। অষ্টাদশ শতক থেকেই এই অঞ্চলে তাদের প্রভাবের কথা জানা যায়।

রাজবাড়ির দিকে এগোতে এগোতে মনে হচ্ছিল, আমরা যেন ধীরে ধীরে বর্তমান সময় থেকে কয়েকশ বছর পেছনে চলে যাচ্ছি।

রাজবাড়ির আঙিনায় ঢোকার পর সেই অনুভূতিটা আরও পরিষ্কার হলো।

পুরোনো স্থাপত্য, দেয়ালের নকশা, বিশাল ভবন আর চারপাশের পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটার মধ্যে একটা আলাদা আবহ আছে।

এখানে দাঁড়িয়ে শুধু একটা পুরোনো ভবন দেখা যায় না। বরং চেষ্টা করলে সেই সময়টাকে কল্পনা করা যায়।

এই জায়গা দিয়ে একসময় কত মানুষ চলাফেরা করেছে। কত আয়োজন হয়েছে। কত গল্প তৈরি হয়েছে। কত মানুষের জীবনের সঙ্গে এই স্থাপত্য জড়িয়ে আছে।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। অনেক স্থাপনা ক্ষয়ে গেছে, অনেক নিদর্শন আর আগের অবস্থায় নেই। তারপরও যা টিকে আছে, সেটুকুই অতীতকে বোঝার জন্য যথেষ্ট।

জমিদার পরিবারের ইতিহাস শুধু জমিদারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনকল্যাণমূলক নানা কাজের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়।

রাজবাড়ির স্থাপত্যের নানা বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি একসময়কার সাংস্কৃতিক আয়োজনের কথাও পাওয়া যায়। এমনকি ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চের মতো ব্যতিক্রমী আয়োজনের উল্লেখও আছে।

সেখানে দাঁড়িয়ে একটা বিষয় বারবার মনে হচ্ছিল—

আমরা আজ এখানে পর্যটক হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য এসেছি।

কিন্তু এই জায়গাটাই একসময় ছিল অনেক মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ।

এখানে আনন্দ হয়েছে, উৎসব হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে, মানুষের জীবন বদলেছে।

আজ সেই সময় নেই।

আছে শুধু তার কিছু চিহ্ন।

আর সেই চিহ্নগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য অতীতকে অনুভব করার চেষ্টা করা যায়।

ভ্রমণটা আসলে কী পেল?

এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আসলে একটা ভ্রমণকে গল্পে পরিণত করে।

আর আমার কাছে বাইক ভ্রমণের সৌন্দর্য এখানেই।

গন্তব্যে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো—সেখানে যাওয়ার সময় আপনি কী দেখলেন, কাদের সঙ্গে সময় কাটালেন আর কতগুলো মুহূর্ত নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখলেন।

তবে সেদিনের গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

মুক্তাগাছা থেকে এবার আমাদের বাইকের চাকা ঘুরল মধুপুর, টাঙ্গাইলের দিকে।

যে জায়গাকে অনেকেই আনারসের শহর হিসেবে চেনে।

মুক্তাগাছা থেকে মধুপুরের সেই পথ কেমন ছিল, চারপাশের প্রকৃতি কেমন লাগল, পথে কী পেলাম, আর শেষ পর্যন্ত এই দিনের বাইক জার্নি কোথায় গিয়ে শেষ হলো—

সেই গল্পটা থাকছে পরের পর্বে।

To be continued…

Photos from The Roader's post 22/08/2026

ঢাকা–চাঁদপুর–ঢাকা। তিনটা বাইক, পাঁচজন মানুষ, আর একটা পুরো দিনের অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

কিছু রাইড থাকে শুধু দূরত্ব পার করার জন্য, আর কিছু রাইড থাকে মনে রাখার জন্য। এই রাইডটা ছিল ঠিক তেমনই। পাঁচজন মিলে তিনটা বাইকে করে ঢাকা থেকে চাঁদপুর, তারপর আবার চাঁদপুর থেকে ঢাকা—পুরো পথজুড়েই ছিল এক ধরনের আলাদা আনন্দ, স্বাধীনতা আর বন্ধুত্বের অনুভূতি।

সকালের শুরুটা ছিল বেশ অন্যরকম। শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে যখন বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হলাম, তখন থেকেই মনে হচ্ছিল আজকের দিনটা ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। একসাথে তিনটা বাইক, সামনে খোলা রাস্তা আর পাশে প্রিয় মানুষগুলো—এর চেয়ে সুন্দরভাবে একটা বাইক রাইড শুরু করার আর কী দরকার!

ঢাকা শহর পার হওয়ার পর রাস্তার পরিবেশ ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করল। শহরের কোলাহল কমে এলো, রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা হতে লাগল, আর চারপাশের দৃশ্যও হয়ে উঠল আরও সুন্দর। বাইকের গতি, রাস্তার বাতাস আর পথের দুই পাশের দৃশ্য—সবকিছু মিলিয়ে রাইড করার আনন্দটা যেন কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

এই রাইডের সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল রাস্তার অভিজ্ঞতা। কোথাও সুন্দর খোলা রাস্তা, কোথাও নদীর পাশ দিয়ে চলা, কোথাও গ্রামের পরিবেশ—প্রতিটা জায়গার আলাদা একটা সৌন্দর্য ছিল। বাইকে লং রাইড করার সময় যে বাতাসটা মুখে এসে লাগে, সেটা আসলে কোনো ছবিতে বা ভিডিওতে পুরোপুরি বোঝানো যায় না। সেটা শুধু রাস্তায় থাকলেই অনুভব করা যায়।

আর চাঁদপুর পৌঁছানোর পর তো রাইডের আসল মজা শুরু। চাঁদপুরের ইলিশ খাওয়ার অভিজ্ঞতা এই ট্রিপের অন্যতম সেরা অংশ ছিল। দূর পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে গিয়ে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার আনন্দটাই আলাদা। ইলিশের স্বাদ, আড্ডা আর পাঁচজনের একসাথে বসে খাওয়া—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা বেশ উপভোগ করেছি।

এরপর মতলবের মিষ্টি। সত্যি বলতে, একটা রাইডে এত কিছু একসাথে পাওয়া যাবে ভাবিনি। রাস্তার আনন্দ, বাইকের রাইড, বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, চাঁদপুরের ইলিশ আর মতলবের মিষ্টি—সবকিছু মিলে দিনটা পুরোপুরি জমে গিয়েছিল।

তবে একটা রাইডকে শুধু খাবার বা গন্তব্য দিয়ে বিচার করলে আসল গল্পটা বলা হয় না। আসল আনন্দ ছিল পাঁচজনের একসাথে পথ চলার মধ্যে। সামনে-পেছনে তিনটা বাইক, মাঝেমধ্যে থামা, গল্প করা, হাসাহাসি, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটু বিশ্রাম নেওয়া, আবার বাইকে উঠে পড়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।

ফেরার পথেও একই রকম ভালো লাগা ছিল। সারাদিনের ক্লান্তি শরীরে ছিল, কিন্তু মন তখনও রাইডের আনন্দে ভরা। মনে হচ্ছিল, আরও কিছুটা পথ যদি যাওয়া যেত!

ঢাকা–চাঁদপুর–ঢাকা হয়তো শুধু একটা রুটের নাম। কিন্তু আমাদের জন্য এটা হয়ে গেল একটা সুন্দর দিনের গল্প। তিনটা বাইক, পাঁচজন মানুষ, অনেকটা রাস্তা, অনেক গল্প, দারুণ বাতাস, চাঁদপুরের ইলিশ, মতলবের মিষ্টি আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।

শেষ পর্যন্ত বুঝলাম, ভালো রাইডের জন্য সবসময় বড় কোনো পরিকল্পনা লাগে না। দরকার শুধু ভালো কিছু মানুষ, কয়েকটা বাইক আর একটা সুন্দর রাস্তা।

এই রাইডের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি। ক্লান্তি ছিল, কিন্তু আফসোস ছিল না। বরং ফিরে এসে মনে হয়েছে, এমন একটা দিন আবার দরকার।

ঢাকা থেকে চাঁদপুর, চাঁদপুর থেকে ঢাকা—পুরো রাইডটাই ছিল ১০০/১০০।

Distance হয়তো একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এই দিনের স্মৃতিটা অনেকদিন থাকবে।

Photos from The Roader's post 16/08/2026

NKC Team | Dhaka–Tangail–Dhaka | 133 KM

কিছু রাইড শুধু কিলোমিটার দিয়ে হিসাব করা যায় না। এই ১৩৩ কিলোমিটারের রাইডটাও তেমন একটা দিন, যেটা শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে—আজকে আসলে অনেক কিছুই একসাথে করে ফেললাম।

সকালবেলা ঢাকা থেকে রওনা। সামনে লম্বা রাস্তা, সাথে NKC Team-এর প্রিয় মানুষগুলো। শুরু থেকেই ছিল বেশ ভালো একটা vibe। শহর ছাড়িয়ে যত সামনে এগিয়েছি, রাস্তার দৃশ্যও বদলাতে শুরু করেছে। ব্যস্ত ঢাকা থেকে ধীরে ধীরে গ্রামের রাস্তা, সবুজ, খোলা আকাশ আর অন্যরকম একটা পরিবেশ।

রাস্তায় weather-টাও বেশ ভালো ছিল। কখনো মেঘলা আকাশ, কখনো বাতাস, আবার কোথাও ভেজা রাস্তা। লম্বা রাইডের জন্য আবহাওয়াটা মোটামুটি perfect ছিল।

Tangail গিয়ে ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি মসজিদ দেখার সুযোগ হলো। এত বছর ধরে একটা স্থাপনা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে—সামনে গিয়ে দেখলে বিষয়টা অন্যরকম অনুভূতি দেয়। কিছুক্ষণ সেখানে সময় কাটিয়ে আবার রওনা হলাম।

এরপর গেলাম মহেরা জমিদার বাড়ি। জায়গাটার পুরোনো স্থাপত্য আর চারপাশের পরিবেশ বেশ ভালো লেগেছে। Cycling-এর সাথে এভাবে ঐতিহাসিক জায়গাগুলো ঘুরে দেখা রাইডটাকে আরও interesting করে দেয়।

আর লম্বা রাইডে খাওয়া-দাওয়া তো থাকবেই। পথে ভালোভাবে খাওয়া হলো, গল্প হলো, হাসাহাসি হলো। আর বিশেষ করে কালিদাসের মিষ্টি—এটা না খেলে Tangail trip-টা যেন একটু অসম্পূর্ণই থেকে যেত। লম্বা রাইডের পর সেই মিষ্টিটা বেশ ভালোই লেগেছে।

এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম আর গোসল। এতক্ষণ riding করার পর একটা fresh shower যে কতটা ভালো লাগতে পারে, সেটা যারা long ride করে তারাই বুঝবে। আবার সবাই fresh হয়ে কিছু ছবি তোলা, আড্ডা দেওয়া—সব মিলিয়ে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে।

সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল, পুরো দিনটা favourite মানুষগুলোর সাথে কাটানো। রাস্তায় ক্লান্তি ছিল, পায়ে চাপ ছিল, কিন্তু একসাথে থাকলে এসব খুব একটা মনে হয় না। একজন একটু পিছিয়ে গেলে অন্যরা অপেক্ষা করছে, কেউ পানি খাচ্ছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে—এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই একটা team ride-কে আলাদা করে।

সারাদিনে অনেক ছবি উঠেছে। কিছু ছবি হয়তো perfect না, কিন্তু প্রতিটা ছবির পেছনে একটা করে মুহূর্ত আছে। কোথাও হাসি, কোথাও ক্লান্তি, কোথাও রাস্তা, কোথাও ইতিহাস, আবার কোথাও শুধু আমরা সবাই একসাথে।

দিনের শেষে আবার Tangail থেকে Dhaka-এর পথে ফেরা।

শরীর তখন ক্লান্ত, কিন্তু মনের মধ্যে ছিল একটা satisfaction—আরেকটা ভালো ride শেষ হলো।

Dhaka–Tangail–Dhaka
133 KM completed.

একটা রাইডে ১৩৩ কিলোমিটার হয়তো শুধু একটা সংখ্যা। কিন্তু সেই ১৩৩ কিলোমিটারের মধ্যে যদি থাকে favourite মানুষ, পুরোনো মসজিদ, মহেরা জমিদার বাড়ি, ভালো weather, গোসল, ভালো খাবার, কালিদাসের মিষ্টি আর অনেকগুলো ছবি—তাহলে সেটা শুধু একটা ride থাকে না।

সেটা হয়ে যায় একটা সুন্দর দিনের গল্প।

NKC Team-এর সাথে এমন আরও অনেক গল্প জমা হোক।

Photos from The Roader's post 26/07/2026

কিছু রাস্তা শুধু গন্তব্যে নিয়ে যায় না, কিছু রাস্তা ফিরিয়ে নিয়ে যায় স্মৃতির কাছে।

২৬ জুলাই ২০২১ Ajmain Fayek Abir বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম মানিকগঞ্জের পথে। কোনো বড় পরিকল্পনা ছিল না, কোনো তাড়াহুড়োও ছিল না। ছিল শুধু দুটো সাইকেল, একই রঙের জার্সি, একই রঙের হেলমেট আর অনেকটা সময়।
যেখানে ভালো লাগত, সেখানেই থেমে যেতাম। কোনো গাছের ছায়ায় বসে গল্প করতাম, কখনো নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতির শব্দ শুনতাম, আবার কখনো কোনো কারণ ছাড়াই শুধু সামনে এগিয়ে যেতাম। তখন মনে হতো, পৃথিবীটা খুব বড় নয়-
আজও মানিকগঞ্জের সেই রাস্তা, গাছপালা আর খোলা আকাশ দেখলে মনে হয়, সময়টা যেন এখনো কোথাও থেমে আছে। মানুষ বদলায়, জীবন বদলায়, ব্যস্ততা বাড়ে—কিন্তু কিছু স্মৃতি ঠিক আগের মতোই রঙিন থেকে যায়।
ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার জন্য নয়; ভ্রমণ এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দেয়, যেগুলো অনেক বছর পরেও মনে পড়লে মুখে অজান্তেই হাসি চলে আসে।
পরিকল্পনা ছাড়াই বেরিয়ে পড়তে পারেন—সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। কারণ একদিন হয়তো ছবিগুলোই থাকবে, কিন্তু সেই মুহূর্তগুলো আর ফিরে আসবে না।
আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের সেই সরল দিনগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ।
আবার যাই চল Ajmain Fayek Abir

Ride Happiness
Nikunja Khilkhet Cyclist "NKC"

10/07/2026
Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka