Sabbir's Talk

Sabbir's Talk

Share

ইহা একটি ভ্যারাইটি স্টোর। বহুবিদ বিষয় নিয়ে গোঁজামিল মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ রইলো।

18/07/2026

ভাবুন তো, ২০০৭ সালের বার্সেলোনা। এক সাধারণ পরিবার, যাদের কেউ চিনত না। সেই পরিবারের কোলে ছিল মাত্র ছয় মাসের একটি শিশু। অন্যদিকে, বার্সেলোনার এক তরুণ ফুটবলার তখন ধীরে ধীরে বিশ্ব ফুটবলের আকাশে উঠতে শুরু করেছে—তার নাম লিওনেল মেসি, বয়স তখন মাত্র ২০।

সেই সময় বার্সেলোনা ও ইউনিসেফ মিলে একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডার তৈরি করছিল। ক্যালেন্ডারের জন্য আয়োজন করা হয় একটি লটারি। ভাগ্যক্রমে নির্বাচিত হয় সেই অজানা পরিবারটি। পুরস্কার হিসেবে তাদের সুযোগ দেওয়া হয় বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোশুট করার।

এরপর যা হয়েছিল, তা যেন সিনেমার গল্প।

ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হলো ফটোশুটে, আর তাকে জুটি করে দেওয়া হলো তরুণ লিওনেল মেসির সঙ্গে। ফটোশুটের এক পর্যায়ে তোলা হয় সেই বিখ্যাত ছবি—একটি ছোট্ট বাচ্চা বাথটাবে, আর পাশে দাঁড়িয়ে হাসছেন মেসি।

ছবিটি তখন কেবল একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের ছবি ছিল। কেউ জানত না শিশুটি কে। তার পরিবারও ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। ছবিটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় সময়ের ভিড়ে।

বছর কেটে যায়।

একদিন বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তোলে এক কিশোর—ল্যামিন ইয়ামাল। তখন পুরনো সেই ছবিটি আবার সামনে আসে। সবাই অবাক হয়ে জানতে পারে, মেসির কোলে থাকা সেই ছয় মাসের শিশুটিই আজকের ল্যামিন ইয়ামাল!

ভাবুন, যেদিন ছবিটি তোলা হয়েছিল— মেসি ছিলেন ভবিষ্যতের কিংবদন্তি, আর ইয়ামাল ছিলেন ভবিষ্যতের এক অজানা শিশু।

আর এখন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা মুখোমুখি দাঁড়াবে।

যে মানুষটি একদিন তাকে বাথটাবে ধরে ছবি তুলেছিলেন, আজ সেই মানুষটির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামবে ল্যামিন ইয়ামাল।

এটাই ফুটবল। এটাই ভাগ্যের লেখা। একটি পুরনো ছবি, একটি অজানা শিশু, আর সময়ের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলোর একটি। 🌟⚽

17/07/2026

কেন এই আর্জেন্টিনা বাকি সবার চেয়ে অনন্য?

ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল যারা ২ বার ১২বছরের স্পেলে ৩বার করে ফাইনাল খেলতেসে। বুঝিয়ে বলতেসি, ১৯৭৮-১৯৯০ সালের স্পেলে মোট ৪বিশ্বকাপের মধ্যে ৩বার ফাইনাল খেলসে, তেমনি ২০১৪-২০২৬ এর স্পেলেও আবার ৩বার ফাইনাল খেলতেসে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ম্যারাডোনায় এককভাবে নিজের দেশকে শিরোপা জিতিয়েছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপটাতে ছিলো পুরোপুরি তার অবদান।এরপর এই টার্মে মেসি করতেসে কাজটা, যদিও সতীর্থদের সাপোর্ট পাচ্ছে সে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ হিস্ট্রিতে আপনি মেসি, ম্যারাডোনা, কেম্পেস, বাতিস্ততা, ডি মারিয়া বাদে আপনি আর তেমন কারো নামে শাউট পাবেন না। এমনকি মেসি,ম্যারাডোনা বাদে আর্জেন্টিনা কখনও একাদশে কখনও কোনো পজিশনে সময়ের বেস্ট খেলোয়াড় নিয়ে খেলে নি। কিন্তু কীভাবে এমন ক্লাচ পারফরম্যান্স এই দলটা থেকে আসে? এর পিছনের কারণ এই দলের বন্ডিং এবং দলের খেলোয়াড়দের ডেডিকেশন।

লাতিনের সবগুলো দেশই গরীব দেশ। লাতিন থেকে উঠে আসা বেশিরভাগ খেলোয়াড়দের জন্মই বস্তিতে কিংবা গরীব ঘরে। যেমন, লিও মেসি,পেলে, ডি মারিয়া, নেইমার,রোনালদিনহু, ভিনি সহ আরও অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে সেই গরীব ঘর থেকে। লাতিনের এই গরীব ঘর থেকে উঠে এসে যে বিশ্বকাপ জয় করা যায় সেটা প্রথম দেখিয়েছে পেলে। তার দেখাদেখি ব্রাজিলের ফ্যাবেলা গুলো থেকে প্রচুর খেলোয়াড় আসতেসে। কারণ বেঁচে থাকার সংগ্রাম ঐ একটাই। আর্জেন্টিনার গ্যারেজ শ্রমিকের ছেলে মেসি, বাবার সাথে কয়লার কাজ করা ডি মারিয়া সবার প্রত্যাবর্তন এই ফুটবল দিয়ে। লাতিনের খেলোয়াড়দের বড় সমস্যা হচ্ছে এরা বড় হয়সে পরিবারের অভাব দেখে। যখনই ইউরোপের আলোর ঝলকানি আর টাকার বস্তা পায়। এরা আর নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারে না। গত ২০ বছরে লাতিনের অর্ধেক খেলোয়াড় নষ্ট হয়সে এই নেশা, নারী, জুয়ার টেবিলে। তাদের অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল তাদের ট্যালেন্টকে কিল করে দিসে।ওর্তেগা, রোনালদিনহু, নেইমার, ইকার্দি, রবিনহু,পাতো,মেলো, আর্থুরের মত প্লেয়াররা তার বিশাল উদাহরণ। লাতিনের এই প্লেয়ারদের নিয়ন্ত্রণ করাটা বোর্ডের জন্য টাফ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯০ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার যখন প্রাইম টাইমটা পার হয় তখন ম্যারাডোনা সে অনিয়ন্ত্রিত লাইফের দিকে আগাতে থাকে। বিশেষ তার ড্রাগ কেলেংকারী সবারই জানা। যদিও অবসরের পর শেষ বয়সে সে প্রচুর পার্টি নিয়ে থাকত তবে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে ডিসিপ্লিনে ছিল না। ফলে আর্জেন্টিনায় তার সময়ে এবং পরের ব্যাচগুলো এই ইফেক্ট পড়তে শুরু করে। আর্জেন্টিনায় তখনও গাবিগোল,ক্রেসপো,জানেত্তি, ভেরন,আইমার,আয়ালা,রিকুয়েলমে, স্যামুয়েলদের মত খেলোয়াড়দের জয়জয়কার ছিল কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সে ফলাফলটা আসত না। কারণ বারবার কোচ পরিবর্তন হত, বোর্ডের দ্বন্দ ছিলো,ইন্জুরিতে ঘায়েল হওয়া, দলের মধ্যে ভারসাম্য ছিল না। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবসময় অস্থিরতা ছিলো, ফ্যানদের প্রেশার ছিলো। বারবার কোচ পরিবর্তন হওয়ায় দলের ট্যাকটিকস বদলাতো, প্ল্যান বদলে যেত যেটা অনেক সময় ক্লিক করত না। ফলে সবসময় ক্রুশাল মোমেন্ট আর্জেন্টিনা দল প্রেশারে খেয় হারিয়ে ফেলত। এমন না যে এই ব্যাড ফেজে আর্জেন্টিনা অনেক বাজে খেলসে। এই সময়ে আর্জেন্টিনা ২বার কোপা রানার্সআপ হয়, ১বার বিশ্বকাপ রানারআপ হয়। শুধু শিরোপাটা ঘরে তুলতে পারে নি। এবং এত সমস্যার ভিতরে ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার কারণ আর্জেন্টাইন প্লেয়ারদের টিম বন্ড।

২০১৪ বিশ্বকাপ খেলে মেসিকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়ে।পুরো প্রজেক্ট ডেভেলপ করা হয় মেসিকে ঘিরে। এর আগের প্রজেক্ট ছিল রিকুয়েলমেকে ঘিরে কিন্তু সে ফেল হয়। তাই পুরো দেশের প্রেশার শিফট হয় মেসির ঘাড়ে। এবং সেই প্রজেক্টটা শিরোপা জেতা বাদে সবই করে। ২০১৪ বিশ্বকাপ দলটাতে মেসি, ডি মারিয়া, হিগুয়েইন, এগুয়েরো, ম্যাচেরানোদের মত নাম ছিল। তবে বাকি নামগুলো ছিল এভারেজ। এটা আর্জেন্টিনার প্রথাগত বিষয়। দলে বড় ক্লাবের খেলোয়াড় তেমন থাকে না। তবে যাদের নেওয়া হয় তারা ডেলিভার করার মতই। এই দলটা টানা ৩টা ফাইনাল খেলে এবং ৩টাতেই হার তাও অবিশ্বাস্যভাবে। বিশ্বকাপে এক্সট্রা টাইমে গোল, কোপায় দুবার পেনাল্টিতে গিয়ে। মানে একটা দলের বোর্ড ইস্যু, রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে পার হওয়ার পর ফাইনালে গিয়ে ভাগ্যের দোষে ট্রফির দেখা নাই। প্রতিটি ফাইনালের শেষ মূহুর্তে প্লেয়াররা প্রেশার নিতে পারত না। নার্ভ হারিয়ে ফেলত। ফলে ১৪,১৫,১৬ তে ফাইনাল হার। তারপর আসে সবচেয়ে বড় বেইজ্জতি টা সাম্পাওলির হাত ধরে। যদিও সে দল গোচানোর সময় পায় কম। আর্জেন্টিনার এই শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে টিম ছিল সেটা। বোর্ড থেকে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারতেসেনা। তখন লিও মেসির নিজের পকেট থেকে সকল স্টাফের বেতন দেয়। বলিভিয়ার উঁচু পাহাড়ে শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলকে বিশ্বকাপে তুলে। মানে কিরকম বাজে খেললে এ দশা হয়। তার উপর তৎকালীন দল সিলেকশনে ছিল আর্জেন্টিনার লীগের কোটা। সাম্পাওলি খুঁজে খুঁজে সব বুড়া আর ক্লু লেস খেলোয়াড়দের নিয়ে দল বানায়। লর্ড মার্কাদো, গোপনাস্ত্র পাবন, মেজা,আর্মানি, চেলসির জনি ভাইয়ের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে।

গ্রুপে আইসল্যান্ড,ক্রোয়েশিয়ার হাতে মারা খাওয়ার পর সেকেন্ড রাউন্ডে ফ্রান্সের হাতে বেইজ্জতি। এরপরই সাম্পাওলিকে স্যাকড করে সাময়িক দায়িত্ব দেয়া হয় নবাগত কোচ স্কালোনিকে। স্কালোনি যখন দায়িত্ব নেয় তখন তার বয়স মাত্র ৩৮বছর। অভিজ্ঞতা বলতে গেলে, অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যানেজার আর সাম্পাওলির এসিস্ট্যান্ট ছিল। আর্জেন্টিনার এই সময়ের ভিত্তিটা তাপিয়া প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর।দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বিশ্বকাপে সে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে নি সবকিছু। তবে পূর্ববর্তী বোর্ডের সকল ইস্যু দ্রুত সমাধান করে আস্তে আস্তে সব গোচাতে শুরু করে। '১৮ বিশ্বকাপের পর তাপিয়া,মেসি,স্কালোনি দলের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনায় বেশি। এবং যাবতীয় সকল কিছু সেখানে উঠে আসে। স্কালোনি প্রথম এসাইনমেন্ট ছিল, ব্রাজিলের সেই কোপা আমেরিকা। স্কালোনি তার ফুটবল দর্শনে আর্জেন্টিনার চিরাচরিত ট্যাংগোর সাথে ইউরোপীয়ান ফুটবল স্পিড টা মিক্স করে। তার কোচিং দর্শনটা মূলত লা ফুয়েন্তার হাতে প্রতিষ্ঠিত। সাম্পাওলির সাথে কাজ করেছেন। ইতালিতে খেলেছেন ফুটবল। কার্লো আনচেলত্তিকে আদর্শ কোচ মানেন, খেলেছেন পেটকোভিচ, রসির মতো কোচের আন্ডারে। এছাড়া ব্রাজিলের সাথে সেমিতে হারার পর। ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন লুইস এনরিকের সাথে, মার্কো রোজের সাথে ৩ ম্যান ব্যাক নিয়ে আলোচনা করেছেন। সতীর্থ স্যামুয়েলকে পাঠিয়েছিলেন পচেত্তিনোর সাথে সাক্ষাৎ করতে। ১৮-১৯ এর লিভারপুলের খেলাকে পছন্দ করতেন, ক্লপের ট্যাকটিক্স ফলো করতেন। স্কালোনি স্ট্যাডি করতে পছন্দ করেন,প্রতি ম্যাচে অপোনেন্ট বুঝে খেলায়। তাই তার স্কোয়াডের প্লেয়াররা কখনও একই টেকনিকে খেলে না।স্কোয়াডে সবসময় ভার্সেটাইল প্লেয়ার পছন্দ করেন তিনি।তার ভিশনের সাথে না মিললে তিনি কোনো প্লেয়ার নেন না। যেমন- দিবালা,বুয়েন্দিয়া, প্রেস্টিয়ান্নি, গিয়ায়,ক্যাপালদোর মত প্লেয়ার জায়গা পায় নি। বালের্দি ইনজুরিতে না পড়লে সেনেসি ও হয়ত জায়গা পেত না।

স্কালোনি সেই কোপার সেমিফাইনালে হারার পর দেখল- আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমস্যা, তারা প্রেশার নিতে পারতেসে না। কারণ বিগ ম্যাচে টানা ব্যর্থতা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্কালোনি খুঁজে বের করলেন এক পদ্ধতি। সে দলকে একত্রে ক্যাম্পিং করা শুরু করল। এবং খেলোয়াড়দের জন্য একক হোটেল রুম ক্যান্সেল করে দিয়ে শেয়ারড রুম দিল। জাতীয় দলের সকল এক্টিভিটি এক জায়গায় করে নিল। এতে প্লেয়ারদের মধ্যে বন্ডিং বাড়বে। একে অপরকে ভালোভাবে বুঝবে।এবং প্রতি ট্রেনিং ক্যাম্পে একজন করে সাবেক খেলোয়াড়দের আনা শুরু করল খেলোয়াড়দের গ্রুমিং করার জন্য। এবং কাজে দেয়া শুরু করে। আর্জেন্টিনার পুরো দলটা স্কালোনি নিজ হাতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের খেলা নিজে দেখে বাছাই করে এনেছে। তাই স্কালোনি জানত কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সব। দলের কোচিং প্যানেলে নিয়ে আসে সাবেক সতীর্থদের।বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচিং প্যানেল সেই সময়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া যারা দিনশেষে ফাইনালে গিয়ে হারত। স্কালোনি, আইমার, স্যামুয়েল, আয়ালা বর্তমান দলের কোচিং স্টাফ। আর রিকুয়েলমে বর্তমান ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভিডিও এনালিস্ট হিসেবে আছে মান্না যার এনালাইসিসের উপর সিলেকশন হয় প্রতিটি প্লেয়ারের। প্রতিটি ট্যাকটিক্সের ডিসিশন আসে।

পুরো প্রজেক্টের সেন্টারে মেসি, সতীর্থ তার ফ্যানবয়। আর কোচিং করানো শুরু করে তাদের সিনিয়ররা। আর্জেন্টিনার এই প্রজেক্টটা ধীরে ধীরে একটা ফ্যামিলিতে রুপান্তর হয়। প্রতিটি খেলোয়াড় মেসির জন্য জান দিতে রাজি হয়ে যায়। আপনি যখনই যাকে জিজ্ঞেস করবেন, সবার মুখে এই একটি লাইনই শুনবেন। কারণ এটাই টিম বন্ডিং। প্রতিটি প্লেয়ার নিজেদের পাশে দাড়িয়েছে। গ্যালারীতে সাবেকরা বসে থাকে। পুরো প্রজেক্টের কারো ইগোর সমস্যা নাই। দলের প্রয়োজনে সব করতে রাজি। এই প্রজেক্টের প্রথম এসাইনমেন্ট ছিল- '২১ সালের কোপা আমেরিকা। মারাকানায় সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল আজও সবার মনে থাকার কথা। তার ঠিক ১বছর পরই ২২ বিশ্বকাপ। প্রথম ম্যাচে সৌদির সাথে হারার পর পুরো সিচুয়েশন পাল্টে যায়। চারদিকে আসতে শুরু করে ট্রল, ব্যান্টার। ঠিক তারপর শুরু হয় আবার। মেসি শুধু এতটুকু বলছিলো- আমরা ফ্যানদের হতাশ করবো না। এবং করে নি। মেক্সিকোর সাথে সে ঐতিহাসিক গোল দিয়ে শুরু, শেষ হয় ফ্রান্স কে হারিয়ে ট্রফি জিতে। এর মাঝে হয়ে যায় কত গল্প। প্রথম একাদশ থেকে লাউতারো, প্যারেদেস ড্রপড হওয়ার পরও তাদের কোনো ইগো ছিল না। কোনো মিডিয়ায় আওয়াজ ছিল না।কোচের কথা শুনেছে। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম খেলতে নেমে আলভারেজ,এনজো, এলিস্টার পুরো বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছে। ৩জনই গোলকরে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। দিবালা ফাইনালে কম সময় পেয়েছে, ডি মারিয়াকে সাব করিয়েছে এখন পর্যন্ত কোনো আওয়াজ নাই। কারণ এটাই দলের প্রতি কমিটমেন্ট।

এবারের দলটা গতবারের চেয়ে দুর্বল। এমনকি বেশিরভাগ খেলোয়াড় ফর্মে নাই। তারপরও টানা ৪টা ম্যাচ বের করেছে শেষ দশ মিনিটে ৯গোল করে। মানে তাদের কাছে প্রেশারকে প্রেশার মনে হয়। প্রতিটি পাস সতীর্থ খুঁজে নিয়েছে। ম্যাক এলিস্টার এত কম হাইট নিয়ে হেডে বল পাচ্ছে, গোল দিচ্ছে সেটা পুরোপুরি একটা টেকনিক্যাল হিসাব। ক্লাবে দুর্দান্ত খেলে এসে মার্টিনেজ, পাজ, প্যালাসিওস, সেনেসি, মুসো বেঞ্চে বসে আছে। কোনো সাড়া শব্দ নেই। যেখানে পর্তুগালের ড্রেসিংরুমে রোনালদো কে পাস দেয়া নিয়ে বিশাল কাহিনী হয়ে আছে। আর আর্জেন্টিনাতে প্রতিটি প্লেয়ার চাই - গোলটা মেসি এসে দিক। অনেক গোল শট মেসিকে দিয়ে করিয়েছে তারা। আর্জেন্টিনাতে মেসি ছাড়া স্কোরার কেউ নাই বলার পরও এই বিশ্বকাপে ৬জন মিলে ১৯টা গোল করেছে তারা। তার মধ্যে ১২গোলে কনট্রিবিউট মেসি নিজের। এটা পুরোপুরি দলের খেলোয়াড়দের তাদের বেস্ট এবং লিজেন্ড খেলোয়াড়ের প্রতি রেস্পেক্ট। আর্জেন্টিনা দলে পরবতী প্রজেক্ট লিডার হওয়ার মত খেলোয়াড় আছে। কিন্তু তারা তাদের ফ্রাজাইল ইগোকে সরিয়ে রেখেছে। এই জিনিসটা ডেভেলপমেন্ট হয়- টিম কালচার এবং বন্ডিং থেকে। আর্জেন্টিনার টিম কালচার আসে মূলত তাদেরই কালচার থেকে। আর সেটা হলো 'আসাদো পার্টি'। আর্জেন্টিনার বিশেষ গরুর মাংসকে স্টেক, বারবিকিউ করে এই পার্টি সেলিব্রেট করে তারা। এই বিশ্বকাপে ও ৫০০কেজি মাংস আনসে তারা। মিয়ামি, ডালাসের বেজক্যাম্পে ট্রেনিংয়ের বদলে তারা ফ্রি মাইন্ডে পার্টি করতেসে, কার্ড খেলতেসে, টাইম সেলিব্রেট করতেসে। আর পরেরদিন বিপক্ষ দলকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে চলে এসেছে।

আর্জেন্টিনার এই দলে টপ ক্লাবে খেলা খেলোয়াড় আসে শুধু আলভারেজ, মলিনা, নিকো, লাউতারো, লিসান্দ্রো, রোমেরো,মুসো। বাকি সবাই মিয়ামি, বোকা, এস্টন, রিভার প্লেট, কোমো,পালমেরেইসের মত দলে খেলা খেলোয়াড়। এদের মধ্যে আবার মেসি,সেনেসি,পাজ,লাউতারো,ইমি বাদে আবার কেউ টপ পারফর্ম করেও নাই। কিন্তু এরপরও এই দলটা শুধুমাত্র দলের প্রতি খেলোয়াড়দের ডেডিকেশন এবং টিম বন্ডিংয়ের উপর চতুর্থ বিশ্বজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। যেখানে বাকিদলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচ হারার পর কিংবা ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে পার্টি করে, গলফ খেলে, ক্যাসিনোতে টাইম পাস করে। সেখানে এই দলটা বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করত। ইংল্যান্ড থেকে সেলসো,এমি,রোমেরোরা সবাই এক ফ্লাইটে করে যেত ক্যাম্পে। দিনের পর দিন ট্রেনিং সেশনে পরে থাকত। বাচ্চা হওয়ার পরও এমি দলের সাথে পরে ছিলো। ইন্জুরি নিয়েও সেলসো দলের সাথে থেকে গিয়েছিল।লিও মেসির এক কলে ডি পল ইউরোপের ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়ে মিয়ামিতে পাড়ি দেয়। খোদ লিও মেসি নিজে ১বছর আগে থেকে এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পুরো দলটা একটা ইউনিটি হয়ে গ্রুপ করে লড়াই করেছে। দেশের লিজেন্ডারি প্লেয়াররা গ্রুমিং করেছে। নানা টিপস এন্ড ট্রিকস শিখিয়েছে। খেলোয়াড়েরা নিজেদের নাম সাইড করে দেশের জন্য খেলেছে বলেই আর্জেন্টিনা গত ৫ বছরে ৪টা শিরোপা জিতেছে। এবং আরেকটা জিততে চলেছে। গত ১৩টা বিশ্বকাপে নিজেেদের খারাপ সময়ের মাঝে ৩৬বছর শিরোপা না জেতার পরও সর্বোচ্চ সংখ্যক ৬বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা একমাত্র দল মেসি,ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। যে দলটা শুধুমাত্র ঠিকে আছে খেলোয়াড়দের ডেডিকেশন, প্যাশন এবং টিম বন্ডিংয়ের উপরে।

আর্জেন্টিনার এই প্রজেক্টের অংশ শুধু খেলোয়াড়, কোচ, প্রেসিডেন্ট না। এই পুরো প্রজেক্টের বিশাল স্টেক আছে অফিস স্টাফদের। বাবুর্চি, থেরাপিস্ট সবাই এই টিমের পার্ট। পুরো দলকে ইনজুরি ফ্রী রাখতে তাদের ডায়েট চার্ট ফলো করানো, ক্লাবে তাদের রোল গুলো খোঁজ নেয়া।প্রতিটি টাচ করা হয়েছে রোলবুক দেখে। যে ৫৫জন থেকে ২৬জন সিলেকশন হয়েছে সেখানে বাকি ২৯জনকে তৈরি করা হচ্ছে পরবর্তী ব্যাচের জন্য। তাই পুরো কোচিং প্যানেলকে ৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি দেয়া হচ্ছে। এই প্রজেক্ট যতদিন চলমান আছে ততদিন আর্জেন্টিনা আরও অর্জন করবে।

সবই জিতা হবে শুধু দিয়েগো আর্মান্ডো ম্যারাডোনার দেখা হলো না এই রুপকথা...

এরপর একদিন সে খারাপ সময়টা আবারও আসবে, সেদিন ও আবার জোরে জোরে বলব..

ভামোস আর্জেন্টিনা 🇦🇷🇦🇷
আদিওস ম্যারাডোনা
Nirvana Leo Messi..🐐

16/07/2026

🚨🗣️Zlatan Ibrahimovic: "England has seen the hand of God. Now they will meet the LEFT FOOT of God." (said before the game)

After the game: Messi's Left and right both FOOTs deliver TWO assists vs England! 🔥

15/07/2026

ম্যারাডোনাকে জানিয়ে দিন, লিও মাথা নত করে নি...

15/07/2026

মেসি,ম্যারাডোনা, ফকল্যান্ড যতদিন আছে। আর্জেন্টিনা ততদিন মাথা উঁচু করে থাকবে..

ভামোস🇦🇷🇦🇷

15/07/2026

আপনি যদি আর্জেন্টিনার ভক্ত না হোন তাইলে জীবনের সেরা ভুল করসেন..

14/07/2026

এই দশকের সবচেয়ে বড় ব্যাটেল হবে আজ।
এমবাপ্পে না লামিন??
শেষ হাসি কার..

যে দলেরই ফ্যান হন না কেন পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়বেন। কারণ এমন ম্যাচ সবসময় দেখা যায় না..

14/07/2026

এই দশকের সবচেয়ে বড় ব্যাটেল হবে আজ।
এমবাপ্পে না লামিন??
শেষ হাসি কার..

যে দলেরই ফ্যান হন না কেন পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়বেন। কারণ এমন ম্যাচ সবসময় দেখা যায় না..
টপ এটাক বনাম টপ মিডফিল্ড

06/07/2026

টেনশন এখন আমার জর্জিনা কে নিয়ে, মাইয়ার বিয়েটা আর হইতেসে না

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Chittagong