STORY LOVER

STORY LOVER

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from STORY LOVER, Panchasar.

04/07/2026

আমার মেয়েটা বাসায় খুব হাসিখুশি। কিন্তু স্কুলের ইউনিফর্ম পরানোর পর থেকেই কান্না, বমি বমি ভাব, তারপর বমি। স্কুলে পৌঁছানোর আগে একবার টয়লেট করতেই হবে। না হলে অস্থির হয়ে যায়। ক্লাসে ঢুকে আবার ঠিক থাকে। প্রায় ৬ মাস ধরে একই অবস্থা। এমন অভিজ্ঞতা থাকলে পরামর্শ দেবেন।

03/07/2026

আমার ছেলের বয়স ৪ বছর ৮ মাস। জানুয়ারি থেকে স্কুলে দিয়েছি। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার নাম শুনলেই সকালে বমি শুরু হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই টয়লেটের চাপ আসে। বাসায় থাকলে একদম স্বাভাবিক। ডাক্তার দেখিয়েছি, কোনো শারীরিক সমস্যা পাননি। এখন বুঝতে পারছি হয়তো স্কুল নিয়ে মানসিক চাপ। কারও সন্তানের এমন হয়েছিল? কীভাবে সমাধান করেছেন?

24/06/2026

আসসালামু আলাইকুম।
আজকের এই পোস্টে বড় আপুরা, বিশেষ করে যাদের জীবনে আমার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তারা দয়া করে পরামর্শ দেবেন। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আমি একজন মেয়ে, বয়স ১৯। আলহামদুলিল্লাহ, দেখতে মোটামুটি সুন্দর এবং আজ পর্যন্ত আমার চেহারা বা চরিত্র নিয়ে খারাপ কিছু শুনতে হয়নি। আমার বাবা একজন শিক্ষক। তিনি সব সময় আমাকে খুব যত্নে ও নজরে রেখেছেন। তাঁর প্রতি সম্মানের কারণেই আমি কোনো দিন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াইনি।
কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে একটি ছেলে আমাকে ভালো লাগার কথা জানায়। আমি তাকে সরাসরি না বলে দিই। এরপর থেকেই সে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে শুরু করে। বলে আমি নাকি অনেক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। এমনকি এসব কথা আমার কলেজেও ছড়িয়ে দেয়।
এরপর AI ব্যবহার করে আমার মুখ ব্লার করে অন্য কারও ছবির সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়, যেন সবাই বিশ্বাস করে আমি খারাপ মেয়ে। দুঃখের বিষয়, অনেকেই সেগুলো সত্যি বলে ধরে নিয়েছে।
সবচেয়ে বড় ভয়টা হলো—যদি কোনো দিন আমার বাবাও এসব মিথ্যা কথা বিশ্বাস করেন, তাহলে এত দিন নিজের সম্মান ও চরিত্র ধরে রেখে চলার মূল্য কী থাকবে?
যারা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন বা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে পরামর্শ দিন। কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত থাকা যায় এবং এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায়?
প্লিজ, সাহায্য করবেন।

23/06/2026

বাচ্চার ৪.৮ মাস। জানুয়ারীতে স্কুলে দিয়েছিলাম।কিন্তু স্কুলে আসলেই প্রতিদিন তার বমি,আর স্কুলের জন্য রেডি হয়ে বের হলেই হাগু পেয়ে যায় তারপর দৌড়াদৌড়ি করে স্কুলে এসে কাজ সারতে হয়।স্কুলের দিনগুলোতে কিছু খেলেও বমি করে না খেলেও বমি করে,বাসা থেকে টয়লেট সেরে আসলেও স্কুলের জন্য বের হলে টয়লেটের চাপ আসবে এবং করবে।কিন্তু বাসায় থাকলে এগুলোর কোন সমস্যা ই ওর হয় না।প্রথমি দিকে ভেবেছিলাম আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু ৬ মাস ধরে সেইম।ক্লাসে ও ঠিকমতো থাকে কিন্তু যত সমস্যা ক্লাসে আসা ও ঢোকার সময়।এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?

23/06/2026

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতার বাস্তব চরিত্র 'আসমানী বেগম' তাঁর নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ২০০২ সালে সরকার মন্টুর তোলা ছবি।

জসীমউদ্দীন এর নানা সাহিত্য কর্মে কালজয়ী নানা চরিত্র যেমন রুপাই, সাজু, হাজেরা বিবি, গণি মিয়া এবং আসমানী। এসব চরিত্র পল্লীকবি এঁকেছিলেন বাস্তবের মানুষ দেখেই। ইতোপূর্বে একে একে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন রুপাই, সাজু, গণি মিয়া এবং হাজেরা বিবি।

দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় ভুগে সবশেষে ২০১২ সালে বিদায় নেন পল্লীকবির অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতার বাস্তব চরিত্র আসমানী বেগমও। তবে তাঁরা সকলেই বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া পল্লীকবির সাহিত্য কর্মে।

লেখা: গিরিধর দে
ছবি সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র গ্রুপ

#ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

22/06/2026

শিশুকে কেউ চুমু খেতে চায়, দরজার বাইরে বার করে দিন: শিশুর জীবনের বিনিময়ে ভদ্রতা নয়।

রাজিক হাসান

_________________________

১ জুলাই ২০১৭ সালে ইউ এস এর আইওয়াতে জন্ম হয়েছিল মারিয়ানা সিফ্রিট এর। সুন্দর স্বাস্থ্যবান বাচ্চা ছিল সে। ৭ জুলাই, তার মা বাবার বিয়ের অনুষ্ঠানের মাত্র দু ঘন্টা পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখলেন সে মেনিঞ্জাইটিসএইচ এস ভি-১ এ আক্রান্ত। যা কি না হারপিস মেনিঞ্জাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই ভাইরাস সেক্সুয়াল কন্ট্যাক্টের দ্বারা ট্রান্সমিটেড হতে পারে। মা থেকে সন্তানের মধ্যেও ছড়াতে পারে। কিন্তু মারিয়ানার বাবা মাকে পরীক্ষা করে ফল নেগেটিভ পাওয়া গেল।

সুতরাং ডাক্তাররা অনুমান করলেন তাদের বাড়িতে কোন ব্যক্তি এসেছিল যে ওই রোগের ক্যারিয়ার ছিল এবং মারিয়ানার ঠোঁটে চুম্বন করেছিল।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দু দিনের মধ্যে মারিয়ানাকে ছয়বার ব্লাড ট্রান্সফিউসন করা হয়েছিল। কিন্তু তার কিডনি এবং লিভার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।

১১ জুলাই নিকোল সিফ্রিট ফেসবুকে পোস্ট করলেন তাঁর বাচ্চার ব্রেন হার্ট লাং 'স্টপড ফাংশনিং'।

পরদিন ১২ জুলাই সকালে মারিয়ানার মৃত্যু হয়।

তাই বলি, কেউ যদি আদিখ্যেতা করে আপনার শিশুকে চুমু খেতে চায়, কান ধরে দরজার বাইরে বার করে দিন। শিশুর জীবনের বিনিময়ে কোন ভদ্রতা নয়।

----------------------------------------

22/06/2026

আজ আমার বন্ধুর বিয়ে।পৃথিবীটা যে ভালো মানুষদের জন্যে খুব একটা ভালো না বরং বেশ কঠিন, এ বন্ধুটা তার প্রমাণ। সেজন্যেই ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় এই মেয়েটা একটা ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছিলো যে পৃথিবীর বাকি অল্প সংখ্যক ভালো মানুষদের ওপর থেকেও তার বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছিল।

বন্ধুর জন্ম, বেড়ে ওঠা, স্কুল, কলেজ, বন্ধুরা সব ঢাকায়। ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েটা চান্স পেলো সিলেটের একটা ইউনিভার্সিটিতে। প্রথমে ভাবল কোন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ঢাকায়ই থেকে যাবে। তারপর বাকি সব বন্ধুদের নামিদামি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে দেখে মত বদলালো। চলে গেলো সিলেটে।

মেয়েটা ভারী শান্ত আর চুপচাপ। সহজে নিজের খোলসের বাইরে বেরোতে পারে না। ক্লাস সেরে চুপচাপ হলে চলে যায়। ক্লাসের অনেকগুলো গ্রুপ হয়েছে। কিন্তু কোনটার সাথেই তার তেমন যোগ নেই।

এমন একা থাকার সময়েই তার সাথে অনলাইনে পরিচয় হল দেশের আরেক প্রান্তের আরেক ইউনিভার্সিটিতে পড়া একটা ছেলের। আস্তে আস্তে রোজ কথা, কথা থেকে প্রেম। তখনো কেউ কাউকে সামনাসামনি দেখেনি। কারণ ছেলেটার নানারকম পরীক্ষা, ল্যাব লেগেই থাকে। আমার বন্ধু বারবার প্ল্যান বানায় আর সেটা পিছিয়ে যায়।

এক পহেলা বৈশাখে দুজন ঠিক করে তাদের দেখা হবে ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলায়। মেয়েটা শখ করে শাড়ি কেনে, সাথে ম্যাচিং কানের দুল।সেদিন পরবে বলে লাল টুকটুকে কাঁচের চুড়ি কিনে দিই ওকে টিএসসির এক খালার কাছ থেকে। সাইজ ঠিক করার সময় ওর হাতে যত্ন করে চুড়ি পরিয়ে দিতে দিতে ওর লাজুক মুখের দিকে তাকিয়ে খালা হাসে।

আমার লাজুক বন্ধুটা অনেক শখ করে শাড়ি পরে সেদিন। ক্যাম্পাসে চলে আসে সকাল সকাল। ৯টায় দেখা হবার কথা ওদের। মহা হৈচৈ ক্যাম্পাসে সেদিন। লোকে ভুভুজেলা কিনে বাজাচ্ছে অবিরাম। ছবি তুলছে হলের সামনে, টিএসসিতে, চারুকলার কোণায় কোণায়।

এর মাঝে নতুন শাড়ি পরতে শেখা, নরম সরম একটা মেয়ে অপেক্ষায় আছে গত আট মাস ধরে যাকে ভালোবেসে এসেছে, তার। সময় গড়ায়। দশটা বাজে। ঢাকার রাস্তায় সেদিন জ্যাম খুব। তাই বোধহয় দেরি হচ্ছে, ভাবে বন্ধুটা। ফোন দেয় ছেলেটাকে। ধরতেই কেটে যায় কলটা। বেশ কবার। ধুর ছাই, কি অবস্থা আজ নেটওয়ার্কের!

টেক্সট করে সে ছেলেটাকে। কোন জবাব আসে না ও প্রান্ত থেকে। আশপাশের সবার দল বেঁধে হইচই, প্রেমিক-প্রেমিকাদের হাসিমুখ, ফুল বিক্রেতাদের হাঁকডাক সবকিছুর মাঝে নিজেকে হঠাৎ খুব বেমানান লাগতে লাগলো তার। সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অসংখ্য টেক্সট আর ফোন দিয়েও আর ছেলেটার সাথে যোগাযোগ করতে পারল না আমার বন্ধুটা...

লজ্জায়, অপমানে নুয়ে গিয়ে সে ফোন দিলো আমাকে। কি করবে সে এখন? ছেলেটার আসলেই কোন সমস্যা হয়েছে নাকি ওকে দেখে পছন্দ হয়নি বলে এসে কথা না বলে চলে গেছে? ওর গায়ের রঙটা ময়লা বলে এ শাড়িতে যে ওকে মানাচ্ছে না এ কারণেই বোধহয় ছেলেটা ওকে পছন্দ করেনি। এসে ওকে দেখে চুপচাপ চলে গেছে!

নাহলে কাল রাতেও যে বলল আজ দেখা হবে সে কেমন করে গায়েব হয়ে গেলো? পৃথিবীতে কত রকমের নিষ্ঠুর মানুষ আছে, আমি নিজেও তখনো জানতাম না। আমরা দুজনেই খুব করে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম ছেলেটার কোন বিপদ হয়েছে বলেই সে আসতে পারেনি।

অমন একটা আলো ঝলমলে দিনে, বাংলা নতুন বছরের উদযাপনের আনন্দের মাঝে শ্যামলা গায়ের রঙের মিষ্টি মেয়েটা নিজেকে নিয়ে মরমে মরে গেলো…সারাজীবন ধরে যে বিশ্বাস করে এসেছে সে দেখতে সুন্দর না, সে বিশ্বাস আরো পাকাপোক্ত হল।

ছেলেটা যোগাযোগ করবে, অন্তত জানাবে কেন আসেনি এ অপেক্ষায় অনেকদিন থেকেছে মেয়েটা। বারবার ফোন করেছে। সে নাম্বার থেকে আর কোনদিন কল আসেনি। ফোন করলে কল ফরওয়ার্ড হয়ে গিয়েছে একটা বন্ধ নাম্বারে। অনেকদিন লেগেছে মেয়েটার এ কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে। কিংবা হয়তো কখনই বেরিয়ে আসতে পারেনি। সেকেন্ড ইয়ারের ঘটনা এটা।এরপর পুরো ক্যাম্পাস লাইফে আর কাউকে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি সে।

তারপর একদিন দেশ ছেড়েছে মাস্টার্স করবে বলে। তার যতটা না পড়তে, তার চেয়ে বেশি ছিল দেশে থাকবে না বলে। বিয়ে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনরা মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল তার। মেয়ে দেখা, গায়ের রঙ খারাপ বলে নানারকম অজুহাতে বিয়েতে ছেলেপক্ষের রাজি না হওয়া পার করে একদিন মেয়েটা সাদাদের দেশে চলে গেলো। ও দেশে সাদারা ছাড়া সবার গায়ের রঙ ময়লা। এই ভালো।

খুঁজেপেতে আশপাশে বাংলাদেশী কম এমন এলাকায় বাসা নিল সে। এখানে এসেও দাওয়াতে গিয়ে কেন বিয়ে হচ্ছে না সে গল্পে অংশ নেবার আগ্রহ নেই তার। অমন করে একা জীবন কাটাতে কাটাতে মাস্টার্স শেষ হয় ওর। চমৎকার একটা চাকরিও হয়ে যায়।

নিজের মতো ঘুরে বেড়ায় সে। একাই দেশটা ঘুরে দেখে। সাহস করে ড্রাইভিংটাও শিখে ফেলে ঢাকার রাস্তায় স্টিয়ারিং ধরতে ভয় পাওয়া মেয়েটা।

ঘুরতে গিয়েই একদিন ওর পরিচয় হয় মিশরের এক মহা রুপবান যুবকের সাথে। যুবক আর সে একই ট্রেইলে হাইকিং করতে গিয়েছে। একটা ভিউপয়েন্টে মুগ্ধ হয়ে সূর্যাস্তের ছবি তুলছে সে। অমন সময় দেখল হাসিমুখে এগিয়ে আসা সুন্দর ছেলেটাকে।

কি সুন্দর গায়ের রঙ তার। সাদাদের মতো সাদা না, কিন্তু দেশি ফরসাদের চেয়ে অনেক ফেয়ার। চাপ দাড়ি, মাথা ভর্তি চুলের ছেলেটাকে এগিয়ে আসতে দেখে একটু অপ্রস্তুত বোধ করলো সে। ছেলেটার বলা ‘হাই’ এর জবাব দিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিল। ছেলেটা কয়েকটা ছবি তুলে জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কি ভারতীয়?’ বন্ধু মাথা নাড়ল। কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। হাল ছাড়ল না ছেলেটা। ‘তবে কি শ্রীলংকান?’ বন্ধু জানে গায়ের রঙ ভালো হলে ছেলেটা শ্রীলংকান না ভেবে পাকিস্তানি ভাবতো। সে নিরস গলায় বলে, ‘বাংলাদেশি। তুমি?’

ছেলেটা ঝলমল করে হাসে। জানায় সে মিশরীয়। এদেশে এসেছে বছর পাঁচেক আগে। কথা বলবে না বলবে না করেও আস্তে আস্তে গল্প জমে যায় দুজনের। দুজনেই এসেছে নিজের দেশ ছেড়ে, ঘুরতে ভালবাসে দুজনেই। দুজনের জীবনেই আপাতত কেউ নেই। অল্প করে গল্প এগোয়।

মেয়েটা ভুলেও তার তালা দেয়া হৃদয় খোলে না। কিন্তু বন্ধু হবার সুযোগটা দেয় ছেলেটাকে। পরের বেশ কটা ট্রিপে একসাথে যায় দুজন। ছেলেটা ফটোগ্রাফি ভালবাসে। সাবজেক্ট হিসেবে বন্ধুকে। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে বন্ধুর দেশি ‘ময়লা’ গায়ের রঙের মুখের দিকে।

বলে তোমার মাঝে মিশরীয় এক দেবীর ছায়া দেখি আমি। মুখ বাঁকায় আমার বন্ধু। এসব কথায় আর ভুলবে না সে। ছেলেটা জেনে অবাক হয় যে আমার বন্ধু জানে না সে কতটা সুন্দর। গুগল ঘেঁটে দেবীর ছবি বের করে দেখায়। অবাক হয়ে বন্ধু দেখে ছেলেটা মিথ্যা বলেনি। দেবীদের সব দেশে ফরসা হতে হয়না।

দিনে দিনে অল্প করে বন্ধুর বন্ধ হৃদয়ের দরজার চাবি খুঁজে নেয় যুবক। বন্ধু প্রায়ই তার আশংকার কথা জানায় আমাকে। অপেক্ষায় থাকে কবে যুবক পালিয়ে যাবে তার। নানাভাবে পুশ করে দেখে চলে যায় কিনা। তাকে অবাক করে দিয়ে যুবক থেকে যায়।

বন্ধুর গত জন্মদিনে তাকে সারপ্রাইজড করে প্রপোজ করে বসে যুবক। ভারী রোমান্টিক সে প্রপোজাল। অফিস থেকে বেরনো, ক্লান্ত এলোচুলে ঝুঁটি বাঁধা বন্ধুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে যুবকের হাতের ঝলমলে হীরার আংটিটার দিকে।

তার কিছুতেই বিশ্বাস হয়না তার মতো একটা মেয়েকে এতো সুন্দর, দেখলে হার্টবিট মিস হয়ে যায় রকম হ্যান্ডসাম একটা ছেলে এভাবে বিয়ে করতে চাইছে! এ ছেলেকে তার সাথে দেখলে দেশের কেউ বিশ্বাস করবে না। দেশে এক আত্মীয়া তাকে বলেছিলো ওর যে চেহারা তাতে কোন সুপুরুষ যুবক ওকে বিয়ে করবে না। ওর জন্যে কোন বয়স্ক, বিপত্নীক লোকই জুটবে। সে লোকের চেহারা কেমন, মাথায় চুল আছে কি নেই তা নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো রূপবতী সে না!

সে বন্ধুর আজকে বিয়ে। বিয়েটা যদি এদেশে হতো, আমি যেমন করেই হোক, তার পাশে থাকতাম। তার হবু বরের হাতে তার হাত তুলে দিয়ে বাংলায় বলতাম, ‘ভাই, জিতসেন। আমার বন্ধুটা তার আঙ্গুলে আপনার পরিয়ে দেয়া হীরার চেয়ে কোন অংশে কম না।’

বড়বেলার জীবনে আশপাশে খুব বেশি ফেয়ারিটেল সত্যি হতে দেখি না। কিন্তু আমার বন্ধুটা ঠিক তার জীবনের প্রিন্সকে পেয়ে গেছে। ভাগ্যিস সেই পহেলা বৈশাখে সে ছেলেটা আসেনি। ভাগ্যিস ওদের দেখা হয়নি কোনদিন। ভাগ্যিস আমার বন্ধুটা লোকের কথায় যার তার জন্যে স্যাটেল করে বসেনি।

বন্ধু ভিডিও কলের ওপাশে বউ সাজে। জল ছলছল চোখে বলে, তবে তাই হোক। আমরা খিলখিলিয়ে হাসি...সেই ছোটবেলায় কি কারণে কিছু করার আগে আমরা এটা বলা শুরু করেছিলাম মনেও নেই...ট্রাডিশন রয়ে গেছে!

বউ সাজলে পৃথিবীর সব মেয়েকেই সুন্দর দেখায়... আমার বন্ধুকে দেখে আমি চোখ ফেরাতে পারছি না! সাদা জামদানিতে ওর শ্যামলা গায়ের রং আরো বেশি সুন্দর লাগছে! খুব অল্প কিছু বাস্তবতাই রুপকথার চেয়েও সুন্দর হয়। তারই একটার সাক্ষী হতে পেরে কি যে ভালো লাগছে আমার!

ওর হাসিমুখ দেখে হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটা কবিতা মনে পড়ে আমার।

’শোন মিলি।
দুঃখ তার বিষমাখা তীরে তোকে
বিঁধে বারংবার।
তবুও নিশ্চিত জানি,একদিন হবে তোর
সোনার সংসার ।।
উঠোনে পড়বে এসে একফালি রোদ
তার পাশে শিশু গুটিকয়
তাহাদের ধুলোমাখা হাতে – ধরা দেবে
পৃথিবীর সকল বিস্ময়।’

আমি মনে মনে প্রার্থনা করি মেয়েটার সংসার সুখের হোক, সে সংসারে কোনদিন ভালোবাসার অভাব না হোক ❤️

লেখা- Sincerely, Zana

(শেয়ার করতে পারেন নির্দ্বিধায় কিন্তু আমার লেখা কপি করে নিজের নাম চালিয়ে না দেয়ার অনুরোধ রইলো!)

22/06/2026

টিকটকে শুরু, তারপর একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত — এলাকায় চাঞ্চল্যের শেষ নেই
টিকটকে পরিচয়। সাধারণ কথাবার্তা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। আর সেই বন্ধুত্ব একসময় এমন এক সম্পর্কে রূপ নেয়, যা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
জানা যায়, বিবাহিত ও সন্তানের মা লাবনী দীর্ঘদিন ধরে শিরিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। প্রথমদিকে দুজন নিজেদের শুধু বন্ধু বলেই পরিচয় দিতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে লাবনী নিজের বাড়ি ছেড়ে শিরিনের কাছে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। বিষয়টি পরিবারের নজরে আসার পর স্বজনরা সেখানে পৌঁছান। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুজনই একসঙ্গে থাকার ইচ্ছার কথা জানান।
ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ বলছেন এটি ভালোবাসার সম্পর্ক, আবার কেউ মনে করছেন এটি আবেগের প্রভাব। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়দের উদ্যোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং দুজনকে আলাদা করে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ সমর্থন করছেন, কেউ বিরোধিতা করছেন। তবে একটি টিকটক পরিচয় যে এত দূর গড়াতে পারে, সেটাই এখন অনেকের আলোচনার বিষয়।

22/06/2026

আমার মা। সত্তরের দশকে পিএইচডি করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় Imperial College London থেকে, কঠিন পদার্থবিজ্ঞানের ততোধিক কঠিন শাখা Theoretical Physics-এ।

*
ম্যাট্রিকে গণিতে সেরা নাম্বার পেয়ে স্ট্যান্ড করেছেন, ইন্টারমিডিয়েটে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সেরা ফলাফল করে মেরিট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পিএইচডি করতে গেছেন। সেখানে অত্যন্ত গণিত-ঘন পিএইচডি-প্রস্তুতি পরীক্ষায় বাঘা বাঘা ছাত্রদেরকে পেছনে ফেলে ক্লাস-টপার হয়েছেন। পিএইচডি করেছেন P T Matthews (অতি-পরিচিত কোয়ান্টাম মেকানিক্স পাঠ্য-বইয়ের লেখক) এর তত্ত্বাবধানে। দেশে ফিরে alma mater রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। ভালো শিক্ষক ও তেজস্বী মহিলা হিসেবে তাঁর ছাত্ররা এখনও তাঁকে স্মরণ করে।

*
অতঃপর এক সময় আমি হলাম। কন্যাকে ঘিরে আমার মায়ের জীবনের আবর্তন শুরু হলো। সদা সতর্ক, যত্নশীল মা হিসেবে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়। আমি বড় হতে হতে ছোট্ট একটি বোন হলো আমার। আমরা দুই বোন ছিলাম আম্মার জগৎ।

*
বিয়ের আগে আম্মা কোন রান্নাই জানতেন না। বিয়ের পর একদম নিজে নিজে শেখার শুরু (তখন তো আর ইউটিউব ছিল না!)। গণিতে দীপ্ত মাথার সাথে এবার যুক্ত হলো রান্নার আর্টে সুনিপুণ, স্বশিক্ষিত হাত। অসাধারণ রাঁধুনি, রান্না করেছেন সব নিজস্ব রেসিপিতে, মানুষের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন। নতুন নতুন অজানা কত পদ খাইয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। সেই তিরিশ বছর আগে, জন্মদিনের কেইক নিজে আইসিং করতেন। সারাবছর আমরা বাড়িতে বানানো টমেটোর সস খেয়েছি। সাত থেকে দশ রকমের আচারের বয়াম রোদে দেয়া থাকতো বারান্দা জুড়ে। আর শিখিয়েছেন মানুষকে। যেখানেই থেকেছেন, চারপাশের অনেক নারী তাঁর কাছে বিবিধ রান্নার তালিম নিয়েছেন। টক-ঝাল-মিষ্টি, কোন কিছুই বাদ যায়নি। আম্মা বুঝিয়ে দিতেন খুব যত্ন করে, সমস্ত খুঁটিনাটি টিপসসহ। জাত-শিক্ষক!

*
ম্যাথমেটিক্যাল ব্রেইন সব জায়গায় তার ছাপ রেখেছে। নিত্য-নতুন, নিজস্ব কত ডিযাইনের যে জামা পরেছি দুই বোন! সব আম্মার বানানো। আমার বান্ধবীরা আজও উল্লেখ করে। উলের সেলাই, আক্ষরিকভাবেই শত শত! প্রতি বছর শীতে বসতো আম্মার উল বোনার হাট। আমরা দুই বোন ও তাঁর নাতনিরা তো বটেই, আত্মীয়-প্রতিবেশী-বন্ধু বাদ যায়নি। তাঁর শ্বশুরবাড়ির মানুষ থেকে শুরু করে আমার শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত। নিজস্ব ডিযাইনের প্রত্যেকটা হতো একেকটা মাস্টারপিস। আবার বই থেকে একটা ডিযাইন দেখে তারপর নিজের মাথায় হিসাবনিকাশ করে ভিন্নতা নিয়ে আসতেও বহুবার দেখেছি। আম্মার কাছ থেকে উলের সেলাই বুঝে নিয়েছেন কতজন!

*
নানারকম চুলের স্টাইল করতে জানতেন। আমার বিয়ের খোঁপা আম্মার হাতের।

*
সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল আম্মার একসাথে নানা কাজ সামাল দেয়ার দক্ষতা…. a true multitasking wonder! আমার বোনকে খাওয়াতে খাওয়াতে তাঁকে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের লেকচার তৈরি করতে দেখেছি। আমাদের সাথে টিভি দেখতে দেখতে জটিল উলের সোয়েটার বুনেছেন। রাত দুইটার সময় একশ চমচম বানিয়েছেন, পরেরদিন দাওয়াতের জন্য। আব্বা ও পারিবারিক বন্ধুদের সাথে বসে সমান দাপটে Scrabble খেলেছেন। দুই দানের মাঝে উঠে গিয়ে রান্না দেখে আসতেন।

*
শুক্রবারে জুম্মার নামাজের জন্য আব্বার পাঞ্জাবী ইস্ত্রি করছেন আম্মা, এই দৃশ্য চোখে ভাসে।

*
আমার মা। A complete woman!

লেখকঃ Raihana Shams Islam
Alumni, University of Rajshahi,
University of Cambridge

22/06/2026

প্লিজ আডমিন এপ্রুভ করবেন।

আমি এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। সামনে পরীক্ষা, পড়াশোনাও মোটামুটি ভালোই চলছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে একটা বিষয় আমাকে ভেতর থেকে খুব কষ্ট দিচ্ছে।

রাতে বিছানায় যাই, চোখ বন্ধ করি, কিন্তু ঘুম আসে না। এমন না যে আমি কোনো বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করছি বা পরীক্ষার ভয় পাচ্ছি। সারাদিন স্বাভাবিক থাকি, সবার সাথে হাসি-খুশি কথা বলি। কিন্তু রাত হলেই যেন সবকিছু বদলে যায়।

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যায়, ১০টা থেকে ১২টা, ১২টা থেকে ২টা—কিন্তু ঘুম আর আসে না। অনেক সময় মনে হয় আমি হয়তো ক্লান্ত, কিন্তু আমার মনটাই যেন ঘুমাতে চায় না।

সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখি সবাই ঘুমিয়ে গেছে আর আমি একা জেগে আছি। ফোন দূরে রেখেও চেষ্টা করেছি, তবুও কোনো লাভ হয়নি।

আমি নিজেও বুঝতে পারছি না আমার কী হয়েছে। যদি কেউ এমন সমস্যার মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকেন বা কোনো উপায় জেনে থাকেন, তাহলে একটু পরামর্শ দেবেন। কারণ প্রতিদিন রাত জেগে সকাল দেখাটা সত্যিই অনেক কষ্টের।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Panchasar?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Panchasar