10/07/2026
নিয়ম জানতে হবে, নিয়ম বুঝতে হবে,এরপর ফুটবল নিয়ে দুই-চার লাইন লিখতে হবে।
একটু মনোযোগ দিয়ে পোস্টটা পড়েন, আর চোখ-কান খোলা রেখে ফুটবলের নিয়মটা বোঝার চেষ্টা করেন। না বুঝে শুধু শুধু লম্ফঝম্প করলে হাসির পাত্র হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না! যদিও একই রাউন্ড থেকে মেইন টিম আর শাখা টিম দুইটাই বিদায় নেওয়ায় তোমাদের অন্তরের যে জ্বালা, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু সেই জ্বালা মেটাতে গিয়ে ফুটবলের আইন কানুন নিজেদের মতো বানিয়ে ফেলবি, তা তো হবে না!
আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচের দুইটা বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে যারা এখনো কান্নাকাটি করতেছেন, তাদের জন্য ফিফার নিয়ম সহ সবকিছুর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
প্রথম ঘটনা,৫৮ মিনিটে মিশরের বাতিল হওয়া গোল (The Legitimate Rule of APP)
মিশর কাউন্টার থেকে গোল করে ২-০ তে এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু (VAR) এসে গোল বাতিল করে।
আসল নিয়ম: গোল হওয়ার ঠিক আগে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ওপর স্পষ্ট পাড়া দিয়ে তাকে ফাউল করে বল কেড়ে নেয়।
ফিফা আইন কী বলে? ফুটবলের আধুনিক নিয়ম অনুযায়ী একে বলা হয় Attacking Phase of Play (APP)। গোল স্কোরিং বিল্ড-আপের যেকোনো পর্যায়ে যদি আক্রমণকারী দল কোনো ফাউল করে বলের দখল নেয়, তবে সেই গোল ১০০% বাতিল হবে।
ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার মনিটরে সেটাই দেখেছেন এবং নিয়ম মেনে গোল বাতিল করে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দিয়েছেন। এখানে বিতর্কের কোনো সুযোগই নেই!
দ্বিতীয় ঘটনা শেষ মুহূর্তে সালাহর ডি-বক্সে পড়ে যাওয়া এবং "পেনাল্টি না পাওয়ার" আসল কারণ
মিশরের সমর্থক আর আমাদের দেশের কিছু পর্তুগিজ সমর্থকরা লাফাচ্ছে যে, বল না থাকলেও আলভারেজ কেন সালাহকে ট্রিপ করলো?
কেন পেনাল্টি হলো না? এবার ফিফার নিয়মটা একটু চোখ খুলে দেখে রাখেন।
১০০% বল ক্লিয়ারেন্স: ভিডিও রিপ্লে স্পষ্ট দেখিয়েছে, সালাহ পড়ে যাওয়ার আগেই আলভারেজ একদম ক্লিন বা বৈধভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং বল সালাহর নাগালের বাইরে পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ, আলভারেজের প্রথম চ্যালেঞ্জটা ছিল সম্পূর্ণ Clean & Valid Tackle।
বলের নিয়ন্ত্রণ (Ball Control) ও ইমপ্যাক্ট: আলভারেজ বল কেড়ে নেওয়ার পর সালাহ যখন ডি-বক্সের দিকে মুভ করেন, তখন বল অলরেডি সালাহর পেছনে, তার নিয়ন্ত্রণে তো দূর—নাগালেও ছিল না। বল হাতছাড়া হওয়ার পর দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে যে শারীরিক সংস্পর্শ বা কন্টাক্ট হয়েছে, সেটা ফুটবলের ভাষায় Incidental Contact (সহজাত শারীরিক কন্টাক্ট)।
ফিফার মূল নিয়ম (No Goal-Scoring Opportunity): ফুটবল আইন অনুযায়ী, ডি-বক্সের ভেতর কোনো কন্টাক্টে পেনাল্টি দিতে হলে দেখতে হয় যে ফাউলের শিকার হওয়া খেলোয়াড়ের বলের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলো কি না বা তার কোনো নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে কি না। যেহেতু বল সালাহর পায়েই ছিলো না এবং বল অলরেডি ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছিল, তাই এই কন্টাক্ট কখনোই পেনাল্টি হওয়ার যোগ্য নয়। বল ছাড়া এমন সাধারণ কন্টাক্টকে রেফারি এবং VAR প্যানেল ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখেছে।
আর বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য একটা বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশ নাকি ইংল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, আমেরিকা বা জাপানের মতো পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে ফিফাকে কিনে নিছে! তোরা কি এখনো আদিম যুগে বসবাস করো? পাথর ঘষে আগুন জ্বালাস আর কাঁচা মাংস খাস নাকি রে ভাই? গাছের পাতা দিয়ে লজ্জা স্থান ঢাকা মানুষও তোমাদের চেয়ে ভালো লজিক দেবে! এত বড় বড় পরাশক্তি রাষ্ট্র থাকতে ফিফা নাকি আর্জেন্টিনার পকেটে! এই ব্রেইনলেস থিওরি তোদের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব।
শেষ কথা ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড় বা কোচ রেফারি নিয়ে কী বল্লো, ওটা দেখে লাভ নেই। ২-০ তে এগিয়ে থাকা ম্যাচ যখন প্রতিপক্ষ মাত্র ১৭ মিনিটের ঝড়ে নিজেদের করে নেয়, তখন ম্যাচ হেরে রেফারির ঘাড়ে দোষ চাপানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। আমাদের দেশের রাইভাল সমর্থকরাও ঠিক একই কাজটা করছে।
যেখানে আজ আমাদের এই ঐতিহাসিক কামব্যাক উদযাপন করার কথা, সেখানে তোদের মতো ফুটবল না বোঝা মানুষদের জন্য আমাদের কাউন্টার পোস্ট রেডি করতে হচ্ছে।
আপনার এলাকার কিংবা ফ্রেন্ড লিস্টের যে লোকটা এখনো এইসব নিয়ে কান্নাকাটি করতাছে তারে এই পোস্টে ম্যানশন করুন। তারপর তাদের রান্না করার ব্যবস্থা করতেছি।
আইন জানুন, ফুটবল বুঝুন, তারপর তর্ক করতে আসুন! 🤫🔥