30/07/2026
অলৌকিক বেঁচে ফেরা: বদলগাছীতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ক্যানেলে ফেলে দেওয়া মর্তুজা জীবিত উদ্ধার
বদলগাছী (নওগাঁ):
মৃত্যু যেখানে একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছিল, সেখান থেকেই যেন অলৌকিকভাবে ফিরে এলেন ৪৫ বছর বয়সী মর্তুজা। হাত-পা ও মুখ বাঁধা, তার ওপর কোমরে ঝুলছিল ভারী পাঁচটি ইট—দুর্বৃত্তদের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, কিন্তু স্থানীয় এক যুবকের সচেতনতা এবং এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ভেস্তে গেছে সেই নৃশংস চক্রান্ত।
৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিট। বদলগাছী সদর ইউনিয়নের মাতাজি রোডস্থ নুরজাহান নূরানী হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের ক্যানেল এলাকায় তখন নিঝুম অন্ধকার। ক্যানেলের পাশে অবস্থিত ওয়েল্ডিং দোকানের মালিক রুবেল (পিতা: আবুল কালাম আজাদ, গ্রাম: ব্যাসপুর) দোকান থেকে হঠাৎ এক গোঙানির শব্দ পান। সন্দেহ হলে তিনি টর্চলাইটের আলো ফেলেন ক্যানেলের পানিতে এবং দেখেন এক ব্যক্তি তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
রুবেলের চিৎকার ও হাঁকডাকে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সবাই মিলে দ্রুত মর্তুজাকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে দেখা যায়, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে কোমরে পাঁচটি ইট ঝুলিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারার জন্য ফেলে রেখে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সংবাদে বদলগাছী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে বদলগাছী সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা মর্তুজা (পিতা: মৃত আবুল কাশেম, গ্রাম: হাঁড়িপাড়া) মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে সুস্থ হওয়ার পথে।
ঘটনার খবর পেয়ে বদলগাছী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এই ঘটনা পুরো বদলগাছীজুড়ে এক গভীর আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ:
চাই 'মানুষ রক্ষা কমিটি'
এ ধরনের নৃশংস অপরাধ শুধু একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরই প্রশ্ন তোলে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার মানসিকতাকেও থমকে দেয়। শুধু পুলিশ প্রশাসনের ওপর এককভাবে নির্ভর করে একটি বড় এলাকার প্রতিটি কোণার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন স্থানীয় জনমানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে যা করা জরুরি:
‘মানুষ রক্ষা কমিটি’ গঠন: প্রতিটি মহল্লা, গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে ‘মানুষ রক্ষা কমিটি’ বা ‘জননিরাপত্তা কমিটি’ গড়ে তুলতে হবে।
নিয়মিত রাতের পাহারা ও টহল: অপরাধীরা সাধারণত নির্জন ও অন্ধকার স্থানকে অপরাধের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে। স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে নির্জন সড়ক, ক্যানেল বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাতের বেলায় পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে।
সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া: এলাকার কোথাও কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক চলাফেরা চোখে পড়লে তা দ্রুত কমিটির সদস্য ও নিকটস্থ থানায় অবহিত করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
জরুরি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক: প্রতিটি এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা কমিটির দায়িত্বশীলদের ফোন নম্বর প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখা এবং একটি দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম (যেমন: মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ) তৈরি রাখা।
বদলগাছীর রুবেল যদি সেদিন গোঙানির শব্দ শুনে সচেতনভাবে টর্চ নিয়ে না এগাতেন, তবে হয়তো মর্তুজাকে প্রাণ হারাতে হতো। রুবেলের এই সচেতনতাই প্রমাণ করে—সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতাই পারে অপরাধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ঢাল হতে। আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ এলাকায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'মানুষ রক্ষা কমিটি' গড়ে তুলি এবং একটি নিরাপদ সমাজ নির্মাণ করি।
ফজলে হুদা বাবুল Fazley Houda Babul বদলগাছী স্পোর্টিং ক্লাব আমাদের বদলগাছী বদলগাছী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র Rafiqul Islam Rokon
24/07/2026
02/10/2025
16/08/2025