04/04/2026
প্রসঙ্গ - অনলাইন মাদরাসা
আধুনিক বিশ্বে অনলাইন প্লাটফর্মে পড়াশোনার ব্যাপক চর্চা থাকলেও আমাদের দেশে সাধারণ পর্যায়ে এটি প্রায় অপরিচিতই বলা যায়। আমরা সাধারণত অনলাইন বলতে ফেসবুক, টিকটক আর গেমস খেলাই বুঝি। তাই অনলাইনের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি অনেকেরই অজানা।
আমি যদি বলি যে, অনলাইনে আপনি বাসায় বসেই হাফেজ হতে পারবেন, মাদরাসার কেতাবাদি অধ্যায়ন করতে পারবেন। আমাদের কাওমি মাদরাসার সিলেবাসে পড়াশোনা করে মাওলানা বনে যেতে পারবেন - তাইলে অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন।
কমন যেই প্রশ্নটা সবার আগে করা হবে, বারো মাদরাসায় থেকেই ইলম অর্জন করা গেলো না; সে আসছে অনলাইনে ইলম শেখাতে! আসুন অনলাইন মাদরাসার ব্যাপারে কিছু বিষয় জেনে নেই। [আমার এই পোস্টে সামগ্রিকভাবে অনলাইন মাদরাসা নিয়ে আলাপ করা হবে; কোনও বিশেষ প্রতিষ্ঠানের প্রমোট করা হবে না।]
শুরুতেই বলে নিতে চাই; ইনটারনেট/অনলাইন মাদরাসা সবার জন্য উপকারী নয়। তাই ব্যাপকভাবে ইলমচর্চার জন্য সাধারণ মাদরাসাগুলোই ভরসা। তবে আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছে এমন যারা পড়াশোনার গতানুগতিক বয়স পার করে ফেলেছেন, অন্য কোনও পেশায় নিয়োজিত থেকেও জ্ঞানচর্চা করতে চাইছেন; বিশেষত
নিরাপদ পরিবেশে ইলম চর্চার সুযোগ বঞ্চিত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটারনেট মাদরাসা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
ধরুন, 'অনলাইন মাদরাসা' (ছদ্ম)নামে একটি মাদরাসার কথাই ধরা যাক। মাদরাসাটিতে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে। দেশে ও বিদেশের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী কোনও না কোনওভাবে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত আছে। এদের মধ্যে কেউ কর্মজীবি, আবার কেউবা মেডিকেল স্টুডেন্ট। কেউবা অনার্স অধ্যায়নরত আবার কেউবা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।
সবার সুবিধার্থে বাদ ফজর ও মাগরিব মিলিয়ে সারাদিনে প্রতিটি শ্রেণীতে ছয়/সাতটি ক্লাস হয়। জুম/টেলিগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেনী অনুসারে গ্রুপে যুক্ত হন। উস্তাদ নির্দিষ্ট সময়ে অডিও কলে যুক্ত হয়ে পাঠদান করে। ক্লাসে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থী সবক শুনছে না গেমস খেলছে তা বোঝার উপায় নেই। তবে যেহেতু একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তার সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন; সে অবশ্যই সময়ের পূর্ন সদ্ব্যাবহার করবে।
এদের আবার বিভিন্ন পার্বিক পরীক্ষাও হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন দেয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থী নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তবে তারা নকল করছে না। কেননা, তারা নিজেদের আগ্রহেই পড়তে এসেছে। তারা জানে যোগ্যতা বিনে এই ফলাফল তাদের কোনও কাজে আসবে না।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের অনেক শিক্ষার্থী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এসব পরীক্ষায় বহু শিক্ষার্থী মেধাতালিকায়ও নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে। একাধিকবার এখানকার শিক্ষার্থী সারাদেশে তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে উত্তীর্ণ হয়েছে। আপাতদৃষ্টে যা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। যার মূলে রয়েছে শিক্ষার্থীর একান্ত আগ্রহ ও শিক্ষকের আন্তরিক প্রয়াস।
[অবশ্য অফলাইনের মতো অনলাইনের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ধোকা ও প্রতারণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তাই পুর্ণ অবগতি ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে সতর্কতা কাম্য।]
মহিউদ্দিন কাসেমী