05/07/2026
এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায়, কোয়ার্টারে ফ্রান্স
স্পোর্টস রিপোর্ট : আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য, বল দখলে স্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব—তবু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলেই প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ। তবে গোলরক্ষক গিলের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং জমাট রক্ষণে প্রথমার্ধে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি ফরাসিরা। পুরো প্রথমার্ধে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে কয়েকটি পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। ৬১ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামান কোচ দিদিয়ের দেশম। বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সে দারুণ এক দৌড়ে প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রান্সের জন্য পেনাল্টি আদায় করেন তিনি।
স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি এমবাপ্পে। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়ায় ১৯টি। এতে তিনি লিওনেল মেসির গোলসংখ্যার সমতায় পৌঁছান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসির ২০ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে অবস্থান করছেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের শেষদিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফরাসি রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি তারা। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পে ব্যবধান বাড়ানোর দুটি ভালো সুযোগ পেলেও সেগুলো দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক গিল।
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
04/07/2026
জাতীয় ৫০০ খেলোয়াড় পাবেন ক্রীড়া ভাতা, গড়ে উঠবে ১০ স্পোর্টস ভিলেজ
স্পোর্টস রিপোর্ট : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের খেলাধুলার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ৩০০ জনকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জনকে এ সুবিধার আওতায় এনে মোট ৫০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে।
শনিবার খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সামাজিক ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কার করে নতুন প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের আটটি বিভাগ ও দুটি জেলায় মোট ১০টি আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর ও অন্যান্য ক্রীড়া সুবিধা থাকবে। খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল ইসলাম বাপ্পি, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু। সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, খুলনা-৪ আসনের রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৫টি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ও তেরখাদা উপজেলার মধুগ্রাম ইউনিয়ন মুখোমুখি হয়।
04/07/2026
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্বে শিবা শানু–জয় চৌধুরী
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ, নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের বড় প্রত্যাশা
মো. মজিবুর রহমান : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জয় চৌধুরী।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত শিল্পীদের সরব উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর ছিল পুরো এফডিসি।
শুক্রবার সকাল থেকেই বিএফডিসি প্রাঙ্গণে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে ভোট গণনার কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে শনিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপু আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে এফডিসি প্রাঙ্গণ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা অংশগ্রহণের দিক থেকে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা ও ফাইট ডিরেক্টর আরমান পান ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পান ২৩৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।
এর মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে আসছে শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ।
সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডিএ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। তারা যথাক্রমে ২৬০ ও ২১৬ ভোট পেয়েছেন। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নূতন পেয়েছেন ২০৪ এবং রোজিনা পেয়েছেন ১৫২ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সনি রহমান। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্নু পেয়েছেন ১৮২ ভোট।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ২৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পপি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। এ পদে রাসেল মিয়া পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মারুফ আকিব। একই পদে ইউসুফ খান পেয়েছেন ৭২ এবং মুশফিকুল জামিল পেয়েছেন ১১৮ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা এবং সুশান্ত। নবনির্বাচিত এই কমিটি আগামী দুই বছর শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিএফডিসিতে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল—আরমান–মুক্তি পরিষদ এবং শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। প্রার্থীরা শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময়, গণসংযোগ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালান। ফলে নির্বাচনের আবহ ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, জ্যেষ্ঠ শিল্পী এবং সহকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বের প্রতি শিল্পীদের প্রত্যাশা, সমিতির কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো, শিল্পীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের চলচ্চিত্র শিল্প দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সামনে শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা, সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শিল্পীদের আশা, নতুন কমিটি অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে এবং চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
04/07/2026
কেপ ভার্দের কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস রিপোর্ট : বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ আর গোলের লড়াই শেষে কেপ ভার্দের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই নির্ভীক ফুটবল উপহার দেয় বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে। প্রথম কয়েক মিনিট আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
২৯তম মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজের দারুণ পাস থেকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর ২০তম এবং চলতি আসরে সপ্তম গোল। ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান লারোস দুয়ার্ত। এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৬৩তম মিনিটে মেসির নিশ্চিত গোলের সুযোগ এবং ৭৩তম মিনিটে তাঁর ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। ফলে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৩তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরান সিডনি ক্যাব্রাল।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। ১১১তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেস। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
বাকি সময়ে সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সফল হয়নি কেপ ভার্দে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দলটি বিদায় নিলেও অভিষেক বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। ফলাফল তাদের পক্ষে না গেলেও সাহসী পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার স্পষ্ট ইঙ্গিত রেখে গেল দলটি।
04/07/2026
বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬-২০২৮ এ কারা বিজয়ী দেখে নিতে পারেন।
04/07/2026
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মিশর
স্পোর্টস রিপোর্ট : ৯২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখল মিশর। ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে এবার শুধু অংশগ্রহণেই থেমে থাকেনি আফ্রিকার দেশটি। টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মোহামেদ সালাহর দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। দুই দলই অতিরিক্ত সময়ে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখায় মিশর। মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ—চারজনই নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান।
অন্যদিকে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম শটেই হ্যারি শুটারের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটনের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। মিশরের চারটি সফল শটই জয় নিশ্চিত করে দেওয়ায় পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সালাহরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মিশর। ৫৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রেখে তারা ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে।
অস্ট্রেলিয়া ১৬টি শট নিলেও গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে মাত্র একবার। পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে, ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই নিয়ন্ত্রণ ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিদের হাতে।
১৩ মিনিটে প্রথম আনন্দে ভাসে মিশর। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে ইমান আশুর দুর্দান্ত এক হেডে জাল খুঁজে নেন। সেই গোলেই এগিয়ে যায় মিশর। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে বসেন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় কিংবা অতিরিক্ত সময়—কোনোটিতেই আর গোলের দেখা মেলেনি। ফলে টাইব্রেকারই নির্ধারণ করে দুই দলের ভাগ্য।
চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন অনুপ্রেরণার প্রতীক। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য একের পর এক সুযোগ তৈরি করেন তিনি। টাইব্রেকারে নিজের শটটি ঠান্ডা মাথায় চিপ করে জালে পাঠিয়ে দলের জয় আরও এক ধাপ এগিয়ে দেন। ম্যাচ শেষে গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন লিভারপুল এ তারকা। আনন্দের মুহূর্তে মাথায় পরেন মিশরীয় ফারাওদের ঐতিহ্যবাহী মুকুট, যা ঐতিহাসিক এই জয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
সাতবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপাজয়ী মিশর বিশ্বকাপে খেলছে মাত্র চতুর্থবার। আগের তিন আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। এবার গ্রুপ পর্বে এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে নকআউটে ওঠার পর সেই সাফল্যকে আরও বড় অর্জনে রূপ দিল সালাহরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল তারা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নকআউটে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েও টাইব্রেকারের ব্যর্থতায় স্বপ্নভঙ্গ হলো সকারুজদের। ম্যাচ শেষে হতাশায় ভেঙে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা।
এখন মিশরের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের। ইতিহাস গড়া সালাহদের লক্ষ্য এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
03/07/2026
চিত্র নায়িকা মুনমুনের জন্মদিন আজ
মো. মজিবুর রহমান : মুনমুন প্রায় একশোর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার জন্ম ইরাকের বাগদাদে, বনেদী পরিবারের এই মেয়েটিকে চলচ্চিত্রের মানুষ ও দর্শকরা মুনমুন নামেই চিনেন। প্রাথমিক শিক্ষা বাগদাদেই। শিশুকাল থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। মরুভূমির ধুসর জীবনের অনেক ছবি পেন্সিল স্কেচ বা জলরং দিয়ে এঁকেছেন তিনি।
অভিনয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসায় ছুটে এসেছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পে। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় অনর্গল কথা বলার পাশাপাশি, বলতে ও বুঝতে পারেন আরও বেশ ক'টি ভাষা।
অসাধারন গুনের অধিকারী ছিলেন মুমুন। ছোট পোশাক পরিধানে বাধ্য করার বিরুদ্ধে কথা বলে সেই সময় প্রযোজকদের চক্ষুশূল হয়ে ছিলেন। কিন্তু চলচ্চিত্রে টিকে থাকতে ও সেই সময়ের পরিস্থিতিতে তাকে এইসব মেনে নিতে হয়। তিনি সে সময়ে' চাহিদা সম্পন্ন নায়িকা হয়ে উঠেন।
মুনমুনের সর্বশেষ ছবি ২০১৭ সালে মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত রাগী চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয় করেন।
তার পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে।
মুনমুন ১৯৯৭ সালে কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশামের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে প্রবেশ করেন। তিনি এহতেসামের সহকারী হিসেবে কাজ করতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তার অভিনয়ের দক্ষতা দেখে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দেন। এহতেসাম পরিচালিত মৌমাছি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিষেক হয় তার। কিন্তু চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হওয়ায়, কর্মজীবনের শুরুতেই থেমে যেতে হয় তাকে। এরপর মুনমুনের নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুলের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠলে, তিনি তাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত শক্তির লড়াই চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন মুনমুন। তার অভিনীত মালেক আফসারী পরিচালিত মৃত্যুর মুখে চলচ্চিত্রটি দারুন ব্যবসা সফল হয়।
তিনি শাকিব খানের বিপরীতে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
মুনমুন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র-
নিষিদ্ধ নারী
মৃত্যুর মুখে
রানী কেনো ডাকাত
লংকাকাণ্ড
শত্রু সাবধান
জল্লাদ
রক্তের অধিকার
জানের জান (২০০০) (পরিচালক: মুস্তাফিজুর রহমান বাবু)
কসম বাংলার মাটি (২০০০) (পরিচালক: মনোয়ার হোসেন খোকন)
বিষে ভরা নাগিন (২০০০) (পরিচালক: দেলোয়ার জাহান ঝন্টু)
হিম্মত (২০০১) - শিউলি (পরিচালক: এম. এম. সরকার)
দুই নাগিন (২০০১) (পরিচালক: দেলোয়ার জাহান ঝন্টু)
বিষাক্ত নাগিন (২০০১) (পরিচালক: এম.এম সরকার)
পাগলা বাবা (২০০২) (পরিচালক: আনোয়ার চৌধুরী জীবন)
স্ত্রীর মর্যাদা (২০০২) (পরিচালক: এফ আই মানিক)
গুরুদেব (২০০৩) (পরিচালক: আনোয়ার চৌধুরী জীবন)
খলনায়িকা (২০০৩) (পরিচালক: শাহেদ চৌধুরী)
নাটের গুরু (২০০৪) (পরিচালক: সৈয়দ মোখলেছুর রহমান)
ভন্ড ওঝা (২০০৬) - লুসি (পরিচালক: পি.এ কাজল)
বোবা খুনি
যুদ্ধে যাবো
লাট্টু কসাই(২০১৪) - কেয়া (পরিচালক: পি.এ কাজল)
পদ্মার প্রেম (২০১৯) - কুসুম (পরিচালক: হারুন-উজ-জামান)। আজ এই গুণী অভিনেত্রীর জন্মদিন।
03/07/2026
রামোসের শেষ মুহূর্তের গোলে পর্তুগালের রুদ্ধশ্বাস জয়, ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নভঙ্গ
স্পোর্টস ডেস্ক : টরন্টো স্টেডিয়ামে যেন শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত থামেনি নাটকীয়তা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যোগ করা সময়ে একের পর এক ঘটনায় রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকলেন দর্শকরা। গনসালো রামোসের ৯৪ মিনিটের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি পর্তুগাল। কারণ, ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল পেয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় সেই গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। পর্তুগাল বলের দখল বেশি রাখলেও ক্রোয়েশিয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ছিল অনেক বেশি কার্যকর। প্রথমার্ধে কয়েকটি আক্রমণ শানালেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
বিরতির পর ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। দ্রুত নেওয়া এক থ্রো-ইন থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ইয়োসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ। গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় পর্তুগাল।
৬০ মিনিটে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু সহকারী রেফারির পতাকা ওঠায় অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবে হতাশ না হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে পর্তুগাল।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় দলটি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঠান্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল যোগ হয় পর্তুগিজ মহাতারকার নামের পাশে।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও আক্রমণের ধার কমায়নি তারা। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের দারুণ ক্রস থেকে উঁচুতে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান গনসালো রামোস। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের দশ মিনিট পেরিয়ে ক্রোয়েশিয়া বল জালে পাঠিয়ে সমতাসূচক গোলের উল্লাসে মেতে ওঠে। খেলোয়াড় থেকে সমর্থক—সবাই ধরে নিয়েছিল ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং ক্রোয়েশিয়ার শেষ আশা ভেঙে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। রোনালদোর অভিজ্ঞতা, রাফায়েল লিয়াওয়ের সৃজনশীলতা এবং গনসালো রামোসের শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিল পর্তুগিজরা।