Sports & Recreation News

Sports & Recreation News

Share

Click all kinds of Sports & Recreation News. Stay with us. Wish for all.

30/08/2026

এক রানের আক্ষেপে এইচপির বিদায়
রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়ার কাছে ১ উইকেটে হার বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্ট : জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) একাদশের। অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়া সিএ একাদশের কাছে মাত্র ১ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে এক উইকেট হাতে রেখেও ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল ভিক্টোরিয়া। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের চতুর্থ বলে চার মেরে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।

ডারউইনের গার্ডেন্স ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ এইচপি। শুরুটা ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। ওপেনার জিশান ইসলাম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ১৬ বলে ২৬ রান করে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন তিনি। তবে জিশানের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামা হাবিবুর রহমান সোহান মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্টোরিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন জিশান। দুজনের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জিশান ২০ বলে ৩০ এবং আরিফুল ১০ বলে ১৯ রান করেন। দুজনের ইনিংসেই ছিল তিনটি করে চার ও একটি করে ছক্কা।

তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন ঘটে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। ফলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১০, আবু হায়দার ১২ ও রিপন মন্ডল ৬ রান করে দলকে কোনোমতে তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যান। ১৭.১ ওভারে ১০১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ভিক্টোরিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন উইল সাদারল্যান্ড। ২৭ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট।

১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় ভিক্টোরিয়া। ওপেনার হ্যারি ডিক্সনকে শূন্য রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল।

এরপর ছোট ছোট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ভিক্টোরিয়া। ১২ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৮১ রান তুলে জয়কে অনেকটাই সহজ করে ফেলেছিল তারা। কিন্তু ১৩তম ওভারে আবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রুবেল। ওই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন তিনি।

এরপর শেষ দিকে জমে ওঠে ম্যাচ। ৮৮ রানে সপ্তম এবং ৯৯ রানে অষ্টম উইকেট হারায় ভিক্টোরিয়া। বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও তখন প্রবল হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তা আরও বাড়ে।

শামীম হোসেনের করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই নবম উইকেট হারায় ভিক্টোরিয়া। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট এবং বাকি পাঁচ বল। তৃতীয় বল পর্যন্ত কোনো রান না আসায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ বলে চার মেরে ভিক্টোরিয়াকে জয় এনে দেন ব্যাটাররা। মাত্র ১ উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে চলে যায় তারা।

ভিক্টোরিয়ার হয়ে ক্যাম্পবেল কিলাওয়ে ২৩ এবং লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড ১৯ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ রুবেল ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। চলতি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রুবেল সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

এ ছাড়া শামীম হোসেন দুটি এবং আবু হায়দার, রিপন মন্ডল ও রাকিবুল হাসান একটি করে উইকেট নেন।
দিনের অন্য সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি। পরে ফাইনালে ভিক্টোরিয়া সিএ একাদশকে ২৫ রানে হারিয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হয় অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি।

দারুণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তে মাত্র এক উইকেটের হারে বাংলাদেশের এইচপি একাদশের বিদায় তাই হয়ে থাকল বড় আক্ষেপের গল্প।

29/08/2026

বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণভাগে নতুন অস্ত্র নেপালের অঞ্জন বিস্তা

স্পোর্টস রিপোর্ট : ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলের বাজারে ফিরেই স্কোয়াড শক্তিশালী করার কাজে ব্যস্ত বসুন্ধরা কিংস। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্যে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে দেশের শীর্ষ ক্লাবটি। এবার আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে নেপাল জাতীয় দলের তারকা ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্তাকে দলে ভিড়িয়েছে ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

সাফ কোটায় কিংসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই নেপালি উইঙ্গার। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে পরিচিত মুখ অঞ্জন। গতি, দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত ক্রস এবং ফিনিশিং দক্ষতার জন্য আলাদা সুনাম রয়েছে তার। দুই প্রান্তে খেলতে পারার পাশাপাশি আক্রমণভাগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও গোলের সুযোগ তৈরি করার সামর্থ্যও রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের।

জাতীয় দল ও ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা অঞ্জনের আগমন বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণভাগে বাড়তি শক্তি যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উইংনির্ভর আক্রমণ এবং দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে তার গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় নতুন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল বসুন্ধরা কিংস। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দল পুনর্গঠনে জোর দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আসন্ন মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি নিজেদের হারানো ছন্দও ফিরে পেতে চায় কিংস।

শুধু অঞ্জন বিস্তাই নন, নেপালের আরও দুই তারকা ফুটবলারকে দলে টেনেছে বসুন্ধরা কিংস। মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রোহিত চাঁদকে চুক্তিবদ্ধ করেছে ক্লাবটি। পাশাপাশি আক্রমণভাগে আরও একটি বিকল্প তৈরি করতে নেপালের আরেক উইঙ্গার মানিশ দাঙ্গিকেও দলে নিয়েছে কিংস।

সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের স্থানীয় বা দেশি কোটায় খেলানোর নতুন নিয়মকে বেশ কার্যকরভাবেই কাজে লাগিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এর ফলে বিদেশি কোটায় অতিরিক্ত চাপ না দিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞ ফুটবলারদের স্কোয়াডে রাখার সুযোগ পেয়েছে ক্লাবটি। নেপালের তিন তারকার আগমন তাই কিংসের দল গঠনের পরিকল্পনাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

অঞ্জন বিস্তার অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কিংসের আক্রমণভাগে। তার গতি ও ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সমন্বয় তৈরি হলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে তৈরি হতে পারে নতুন চাপ। একই সঙ্গে সেট-পিস কিংবা প্রান্ত থেকে আক্রমণ তৈরিতেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বসুন্ধরা কিংস যে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে, নেপালের এই ত্রয়ীর অন্তর্ভুক্তি তারই ইঙ্গিত। রোহিত চাঁদের অভিজ্ঞতা, মানিশ দাঙ্গির গতি আর অঞ্জন বিস্তার আক্রমণাত্মক দক্ষতা—এই তিনজনকে ঘিরে নতুন মৌসুমে আরও শক্তিশালী দল গড়ার স্বপ্ন দেখছে কিংস।

এখন অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের। কাগজে-কলমে শক্তিশালী এই স্কোয়াড মাঠে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা। তবে অঞ্জন বিস্তাকে ঘিরে বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণভাগে যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, তাতে নতুন মৌসুমের শুরুতেই নজর থাকবে এই নেপালি তারকার দিকে।

28/08/2026

জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারতীয় নারী হকি দল

স্পোর্টস রিপোর্ট : বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারতীয় নারী হকি দল। জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে ভারত। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করল ভারতীয় মেয়েরা। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়ার পর এবারই বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় সেরা সাফল্য।

বৃহস্পতিবার আমস্টেলভিনের ওয়াগেনার স্টেডিয়ামে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল নয়, বরং দারুণ গতিময় হকি খেলতে থাকে জার্মানি।

প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পেনাল্টি কর্নারও আদায় করে নেয় তারা। তবে ভারতীয় গোলরক্ষক বিচু দেবী ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জার্মানির কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি।

ভারতও অবশ্য বসে ছিল না। নভনীত কৌর ও অধিনায়ক সলিমা টেটের নেতৃত্বে কয়েকবার জার্মান রক্ষণে আক্রমণ চালায় তারা। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি ভারত। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর যেন অন্য এক ভারতকে দেখা যায়।

আক্রমণের গতি বাড়িয়ে জার্মান রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে তারা। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় ভারতকে এগিয়ে দেন ইশিকা চৌধুরী। জার্মান বক্সে ঢুকে অসাধারণ শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এনে দেন ১-০ ব্যবধানের লিড।

এর মাত্র এক মিনিট পর আবারও জার্মান রক্ষণে আঘাত হানে ভারত। ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন নভনীত কৌর। প্রথম প্রচেষ্টা বাতিল হওয়ার পর পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

শেষ কোয়ার্টারের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নভনীত। গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জোড়া গোলের কৃতিত্বও অর্জন করেন এই ভারতীয় ফরোয়ার্ড।

তিন গোল পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জার্মানি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে লিন ক্রিংস একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমান। শেষ মুহূর্তে আরও একটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে জার্মানি। কিন্তু ভারতীয় রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল করতে পারেনি তারা।

ফলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ভারত। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু পঞ্চম স্থানই নিশ্চিত হয়নি, ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অন্যতম সেরা সাফল্যও অর্জন করেছে ভারতীয় নারী দল।

ম্যাচ শেষে ভারতীয় মিডফিল্ডার নেহা বলেন, বিশ্বকাপে পঞ্চম হওয়া দলের জন্য গর্বের বিষয়। সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে খেলার লক্ষ্য পূরণ না হলেও এই অর্জনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তারা।

বিশ্বকাপের সাফল্য এখন ভারতের সামনে নতুন স্বপ্নের দরজা খুলে দিয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। অলিম্পিকের আগে এই আসরকে নিজেদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নেহা। চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের আরও উন্নত করে এশিয়ান গেমসে ভালো ফল করার লক্ষ্য ভারতীয় নারী দলের।

27/08/2026

বিতর্ক পেছনে ফেলে উজবেকিস্তান মিশনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল

স্পোর্টস রিপোর্ট : উজবেকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের ক্যাম্পে প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ মিশু পালের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ কিংবা কোনো খেলোয়াড় উপস্থিত না থাকায় আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা জানান, প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সসহ পুরো দলই উজবেকিস্তান সফরে যাচ্ছে। তবে দলের মনোযোগ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে কারণেই সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও খেলোয়াড়দের রাখা হয়নি।

কোচকে ছাড়া সংবাদ সম্মেলন আয়োজন নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। কারণ দলের প্রস্তুতি, কৌশল, খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা এবং আসন্ন ম্যাচের পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা প্রধান কোচেরই। কর্মকর্তারাও স্বীকার করেন, এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, ‘উজবেকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট নেই। তাই আমাদের দল একাধিক গ্রুপে যাচ্ছে। কোচ-খেলোয়াড়দের মনোযোগ যেন বিঘ্নিত না হয়, এজন্য কোচ এখানে নেই। এটা আমাদের সাধারণ রীতি নয়, এজন্য ম্যানেজার হিসেবে আমি দুঃখিত।’

দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় কর্মকর্তাদের। তবে সামিদের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট এবং সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর দিকেই তাদের পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে।

প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের ওপরও আস্থা প্রকাশ করেছেন ম্যানেজার। তার মতে, প্রায় দুই মাসের ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অনুশীলন করায় খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। কোচিং স্টাফও খেলোয়াড়দের সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

তবে মাঠের পরীক্ষাটা হবে কঠিন। বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত—তিন দলই শক্তিশালী। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করবে স্বাগতিকরা।

তারপরও প্রতিপক্ষ নিয়ে অতিরিক্ত ভীত নয় বাংলাদেশ। ভারত ও সিরিয়ার ম্যাচ বিশ্লেষণ করে নিজেদের কৌশল ঠিক করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে কোচিং স্টাফের সাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার ঠিক আগে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দলের প্রস্তুতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায় না ফেডারেশন।

আপাতত দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উজবেকিস্তান সফর শেষে পুরো কোচিং স্টাফ ঢাকায় ফিরবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মাঠের লড়াইয়ের আগে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামলে দলকে যতটা সম্ভব ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘ দুই মাসের প্রস্তুতির পর এখন সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দেওয়ার পালা। মাঠের বাইরে আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে দলের সাফল্যের পথ। শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয় কাজে লাগিয়ে উজবেকিস্তান থেকে ইতিবাচক ফল নিয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ।

বিতর্কের আবহ পেছনে ফেলে এখন তাই মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজেদের জবাব দিতে প্রস্তুত অনূর্ধ্ব-২০ দলের ফুটবলাররা। কঠিন বাছাইপর্বে সেই জবাব কতটা শক্তিশালী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

27/08/2026

এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক-ঝড়ে বার্নাব্যুতে রিয়ালের উৎসব

স্পোর্টস রিপোর্ট : সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যেন এমবাপ্পে-ঝড়! ফরাসি তারকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ পেল দাপুটে জয়। রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগার নতুন মৌসুমে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। রিয়ালের হয়ে অন্য গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে সোসিয়েদাদকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা। সপ্তম মিনিটেই ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোলের সুযোগ পান এমবাপ্পে। তবে তাঁর শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। অন্যদিকে মিকেল ওয়ারসাবালও রিয়ালের রক্ষণে হানা দিয়েছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ছিলেন সতর্ক।

অবশেষে ৪০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় রিয়াল। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দ্রুত আক্রমণ তৈরি করেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। তাঁর বাড়ানো পাস পেয়ে প্রথম স্পর্শেই প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল।

তবে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। ৪৪ মিনিটে ওচিয়েংয়ের শট কোর্তোয়া প্রতিহত করলেও ফিরতি বল পেয়ে গোল করেন লুকা সুসিচ। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। রিয়ালের আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে সোসিয়েদাদের রক্ষণ। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। ডান পায়ের নিখুঁত শটে দূরের পোস্টের কোণ খুঁজে নেন তিনি।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও থামেনি রিয়াল। মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান ৩-১ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বক্সের কাছে বেলিংহামের দ্রুত বাড়ানো পাস পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

তবে রাতের সেরা মুহূর্তটি তখনও বাকি। ৮০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বুদ্ধিদীপ্ত পাস পেয়ে সামনে এগিয়ে আসা রেমিরোর ওপর দিয়ে নিখুঁতভাবে বল তুলে দেন এমবাপ্পে। বল জালে জড়াতেই পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক।

উল্লাসে ফেটে পড়ে বার্নাব্যু। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের পুরো আলো নিজের দিকে টেনে নেন ফরাসি তারকা।
শেষদিকে ব্রাহিম দিয়াজ বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় দুর্দান্ত সূচনা করেছে রিয়াল। বিপরীতে টানা দুই ম্যাচে হেরে মৌসুম শুরু করেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ।

নতুন মৌসুমে এমবাপ্পের এমন দুর্দান্ত ফর্ম রিয়ালের জন্য বড় স্বস্তির খবর। গোলের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে লা লিগা ও ইউরোপীয় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারেন ফরাসি এই তারকা।

26/08/2026

১২০ ক্ষুদে খেলোয়াড় নিয়ে মিনি রাগবি ফেস্টিভ্যাল

স্পোর্টস রিপোর্ট : তৃণমূল পর্যায়ে রাগবির প্রসার এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ১২০ ক্ষুদে খেলোয়াড়কে নিয়ে আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘কেজিএন মেডিকেয়ার অনূর্ধ্ব-১০ মিনি রাগবি ফেস্টিভ্যাল (বালক)-২০২৬’। বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং কেজিএন মেডিকেয়ার লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেস্টিভ্যালের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজকরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার উজ জামান, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও সহ-সভাপতি তারেক চৌধুরী, সহ-সভাপতি মৌসুম আলী, টুর্নামেন্ট সম্পাদক মশিউর রহমান সুমন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম ভরসা, সাঈদ আহমেদ ও সদস্য মো. সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।

ফেস্টিভ্যালে ঢাকার ছয়টি স্কুল থেকে দুটি করে দল অংশ নেবে। প্রতিটি দলে থাকবে ১০ জন করে খেলোয়াড়। সব মিলিয়ে অনূর্ধ্ব-১০ বয়সী ১২০ জন ক্ষুদে রাগবি খেলোয়াড় এই আয়োজনে মাঠে নামবে।

প্রথম পর্বে ১২টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। সেমিফাইনালে জয়ী দুই দল খেলবে ফাইনালে। আর পরাজিত দুই দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি তারেক চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে আরও স্কুলকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্কুলে কোচও পাঠানো হয়েছিল।

তারেক চৌধুরী বলেন, “দেশব্যাপী রাগবিকে জনপ্রিয় করতে হলে ছোটদের এই খেলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।” আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে রাগবির প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে দলীয় সংহতি, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুণাবলি গড়ে উঠবে।

এবারের ফেস্টিভ্যালে অংশ নেবে মিতালী বিদ্যাপীঠ, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (শ্যামপুর), মেথডিস্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, জুভেনাইল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং শহীদ নবী হাই স্কুল।

আয়োজকদের মতে, শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের রাগবির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং তৃণমূল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তুলে আনার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এই ফেস্টিভ্যাল। নিয়মিত এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের স্কুল পর্যায়ে রাগবির বিস্তার ঘটবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির পথ আরও সুগম হবে।

26/08/2026

অংশগ্রহণকারী বেড়ে ১৭ হাজার, এশিয়ান গেমসে আবাসন নিয়ে চাপে জাপান

স্পোর্টস রিপোর্ট : এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জাপানের আইচি-নাগোয়া আয়োজক কমিটি। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে প্রায় দুই হাজার বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছে আয়োজকরা। যদিও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমানোর জন্য আয়োজকরা অনুরোধ জানিয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আয়োজক কমিটি।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়া ও বৃহত্তর আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। শুরুতে আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, এবারের আসরে প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওসিএর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবেন প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ এবং ৬ হাজার কর্মকর্তা।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে আবাসন ব্যবস্থায়। এবারের এশিয়ান গেমসে প্রচলিত পদ্ধতিতে আলাদা কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ রাখা হচ্ছে না। খরচ কমানোর লক্ষ্যে আয়োজকরা বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কক্ষ এবং বিভিন্ন হোটেল।

জাপানের কিয়োডো নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় আয়োজক কমিটি ওসিএর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ওসিএর সঙ্গে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চায় না।

আয়োজক কমিটির এক মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দলের নিবন্ধনের অবস্থা সম্পর্কে ওসিএর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও নিয়মিত আলোচনা চলছে।

আবাসন ব্যবস্থার বড় অংশ হিসেবে ইতালির ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা ভাড়া করেছে আয়োজকরা। এতে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ক্রীড়াবিদ থাকার কথা রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ৫৭১টি কেবিন, সাতটি সুইমিং পুল ও আটটি রেস্তোরাঁ। এত বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদকে একই স্থানে রাখার পরিকল্পনা এবারের আসরের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

এদিকে নাগোয়ার গার্ডেন পিয়ার এলাকায় প্রায় ২ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী আবাসন। কাঠের শিপিং কনটেইনারের আদলে তৈরি এসব কক্ষে অংশগ্রহণকারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। বাকি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন হোটেল।

শুধু নাগোয়াতেই নয়, টোকিওর হোটেলেও কিছু অংশগ্রহণকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহণসহ কয়েকটি ইভেন্ট টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ভেন্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে আয়োজকদের।

এদিকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে জাপানে টাইফুনের আশঙ্কা থাকলেও আবাসন ব্যবস্থায় এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদী আয়োজকরা। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ১৭ হাজারে পৌঁছানোয় শেষ মুহূর্তে ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি সফলভাবে আয়োজন করতে ওসিএ ও স্থানীয় আয়োজকদের সমন্বয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

26/08/2026

কৌতুক সম্রাট খান জয়নুল
অল্প আয়ুতে বাংলা চলচ্চিত্রে অমর এক অধ্যায়

মো. মজিবুর রহমান :
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনয়কে স্বতন্ত্র শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা খান জয়নুল। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, সংলাপ রচয়িতা ও কাহিনীকার। স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী, অসাধারণ সংলাপ উপস্থাপন এবং সহজাত রসবোধ দিয়ে তিনি একসময় দর্শকের হাসি-আনন্দের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিলেন। স্বল্পায়ু জীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান। দর্শকের ভালোবাসায় তিনি পেয়েছিলেন সম্মানসূচক উপাধি—‘কৌতুক সম্রাট’।

১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন খান জয়নুল। তাঁর বাবা মরহুম আজাহার উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা মরহুমা মোমেলা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। গোপালগঞ্জে স্কুলে পড়ার সময় একটি মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা। সেই মঞ্চের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে পেশাদার অভিনয়ের পথে এগিয়ে দেয়।

অভিনয়ের টানে একসময় তিনি পাড়ি জমান কলকাতায়। সেখানে ‘মৃণাল কান্তি রায়’ নামে চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেন। দেশভাগের পর ঢাকায় ফিরে এসে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও মনোনিবেশ করেন। এরপর প্রখ্যাত পরিচালক মুস্তাফিজের উর্দু চলচ্চিত্র ‘তালাশ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়।

তবে খান জয়নুলকে দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রের কাহিনী ও সংলাপও রচনা করেছিলেন তিনি নিজেই। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি একজন মেধাবী লেখক হিসেবেও তাঁর প্রতিভার পরিচয় মেলে। চলচ্চিত্রটির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরবর্তী সময়ে ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘নাচের পুতুল’ ও ‘অবুঝ মন’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তাঁর কৌতুক অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল স্বাভাবিকতা। অঙ্গভঙ্গি, সংলাপ বলার ধরন, মুখের অভিব্যক্তি এবং পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতায় তিনি সাধারণ একটি দৃশ্যকেও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারতেন।

খান জয়নুল শুধু কৌতুক অভিনেতা ছিলেন না, বিভিন্ন ধরনের চরিত্রেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘অবুঝ মন’, ‘ঝড়ের পাখী’, ‘সুতরাং’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘মধুমিলন’, ‘স্মৃতি তুমি বেদনা’, ‘সাধু শয়তান’, ‘ডাক পিয়ন’, ‘মাসুদ রানা’, ‘পরিচয়’, ‘সন্ধিক্ষণ’, ‘মানুষের মন’, ‘ময়নামতি’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘সপ্তডিঙ্গা’, ‘আদর্শ ছাপাখানা’, ‘রং বদলায়’, ‘ভুল যখন ভাঙলো’, ‘মাটির মায়া’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘সন্তান’, ‘মিসর কুমারী’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘ইয়ে করি বিয়ে’, ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’, ‘গোপাল ভাঁড়’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘দূর থেকে কাছে’ ও ‘কে তুমি’।

১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর রিজিয়া খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খান জয়নুল। তাঁদের দুই ছেলে—মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর খান ও রাসেল মোহাম্মদ আলমগীর খান। জাহাঙ্গীর খান একজন আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং রাসেল মোহাম্মদ আলমগীর খান বেক্সিমকো গ্রুপের বিভাগীয় আইটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

২০২০ সালের ১৭ আগস্ট তাঁর স্ত্রী রিজিয়া খান ইন্তেকাল করেন। জীবনের শেষদিকে নানা কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন খান জয়নুল। অবশেষে ১৯৭৮ সালের ১৫ জানুয়ারি মাত্র ৪২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু কর্মময় পথচলা ছিল অসাধারণ বৈচিত্র্যময়।

জাতীয় পুরস্কারের স্বীকৃতি না পেলেও দর্শকের হৃদয়ে খান জয়নুলের অবস্থান ছিল অনন্য। তাঁর অভিনয় দেখে দর্শকরাই ভালোবেসে তাঁকে দিয়েছেন ‘কৌতুক সম্রাট’ উপাধি। আর একজন শিল্পীর জন্য দর্শকের এই ভালোবাসাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় অর্জন।

আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো খান জয়নুলকে সরাসরি অভিনয় করতে দেখেনি। কিন্তু তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো এখনও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর সংলাপ, অভিনয়ের ধরন এবং চরিত্র নির্মাণের নিজস্বতা প্রমাণ করে—তিনি কেবল একজন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতিভা।

অল্প বয়সে চলে গেলেও নিজের সৃষ্টিশীলতা ও অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে খান জয়নুল বাংলা চলচ্চিত্রে যে স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা মুছে যাওয়ার নয়। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি হয়তো আজ নেই, কিন্তু তাঁর অভিনয়ের স্মৃতি এখনও দর্শকের মনে অমলিন। কৌতুক সম্রাট খান জয়নুল তাই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এক নাম।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই গুণী শিল্পীর জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন- আমিন।

25/08/2026

সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভাঙল ভারতের, আর্জেন্টিনার কাছে ৩-৫ গোলের হার

স্পোর্টস রিপোর্ট : হকি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল ভারতের। সোমবার নেদারল্যান্ডসের ওয়াগনার স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় পর্বের ডু-অর-ডাই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-৫ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। এই হারের ফলে গ্রুপে চতুর্থ স্থানে থেকে আসর শেষ করতে হচ্ছে ভারতকে। এখন পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হবে তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ৩৯ সেকেন্ডেই বাঁ দিক থেকে ফিল্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াকিন তোস্কানি। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে নিকোলাস দে লা তোরে গোল করলে দ্রুতই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। দশম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশে গোল করে ব্যবধান কমান সুখজিৎ সিং। তবে গোল পেলেও ভারতের খেলায় সেই অর্থে ছন্দ ফেরেনি। আক্রমণভাগের ভুল পাস ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় বারবার সুযোগ নষ্ট করে তারা।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারত একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ভয়ংকর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয় তারা।

৩৩ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন টমাস দোমেন। এরপর ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ফলে শেষ কোয়ার্টারে ভারতকে বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়।
চতুর্থ কোয়ার্টারের ৫০ মিনিটে ভারতের কফিনে যেন শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লুকাস তোস্কানি। রিভার্স স্টিকে দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৫-১।

এরপর অবশ্য হাল ছাড়েনি ভারত। ৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৫-২ করেন সুখজিৎ সিং। দুই মিনিট পর পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে হার্দিক সিং গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৫-৩-এ। কিন্তু হাতে সময় ছিল খুবই কম। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-৫ ব্যবধানে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।

ভারতের হারের অন্যতম কারণ ছিল রক্ষণভাগের একাধিক ভুল এবং পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগাতে না পারা। বিশেষ করে অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায় করতে না পারা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে পিছিয়ে দেয়।

সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হলেও টুর্নামেন্টে ভারতের আরও একটি ম্যাচ বাকি। পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করবে হরমনপ্রীতরা।

25/08/2026

যতদিন বাংলা গান থাকবে, ততদিন বেঁচে থাকবেন প্রবাল চৌধুরী
হেমন্তের ছায়া নয়, নিজের কণ্ঠেই কিংবদন্তি হয়েছিলেন প্রবাল চৌধুরী

মো. মজিবুর রহমান :
বাংলার সুরের আকাশে কিছু কণ্ঠ থাকে, যাদের গান সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবাল চৌধুরী ছিলেন তেমনই এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী।

ভরাট, দরাজ ও আবেগময় কণ্ঠে তিনি বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছেন। ষাটের দশক থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগীতের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। আজ তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাংলা গানের এই কিংবদন্তিকে।

১৯৪৭ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের ১৬ নম্বর দেওয়ানজি পুকুরপাড়ের পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন প্রবাল চৌধুরী। শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠা তাঁর। মা লীলাবতী চৌধুরী ছিলেন তাঁর সংগীতজীবনের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং নিজের নিরলস সাধনায় খুব অল্প বয়সেই সংগীতের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন তিনি।

১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের শুরু। এরপর বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। মিষ্টি অথচ গভীর আবেগময় কণ্ঠ, গায়কীর স্বাতন্ত্র্য এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের ওপর দখল তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।

আশির দশকে সংগীতবোদ্ধারা তাঁর কণ্ঠের গভীরতা ও মাধুর্যের কারণে তাঁকে ভালোবেসে ‘বাংলাদেশের হেমন্ত মুখোপাধ্যায়’ বলে অভিহিত করতেন। কিংবদন্তি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান তিনি যখন গাইতেন, তখন শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনতেন তাঁর কণ্ঠের জাদু। তবে অনুকরণ নয়—নিজস্ব গায়কী দিয়েই শেষ পর্যন্ত তিনি তৈরি করেছিলেন প্রবাল চৌধুরী নামের আলাদা এক সংগীত-পরিচয়।

মুক্তিযুদ্ধেও ছিল তাঁর কণ্ঠের অবদান : শুধু বিনোদনের জগতেই নয়, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও প্রবাল চৌধুরীর কণ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি কাজ করেন। তাঁর কণ্ঠে মোস্তাফিজুর রহমান গামার লেখা ‘ভেবো না গো তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে কবে’ গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল।

স্বাধীনতার পরও সংগীতাঙ্গনে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

অসংখ্য কালজয়ী গানে অমর : প্রবাল চৌধুরীর কণ্ঠে অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। ‘সোনা বউ’ চলচ্চিত্রের ‘আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য, তোমারি প্রেমেরই জন্য’ গানটি তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম স্মারক। এছাড়া ‘লোকে যদি মন্দ কয়, সে তো নহে পরাজয়’, ‘ফুলের বাসর ভাঙলো যখন, স্মৃতি কেন বেদনার বাসর সাজায়’, ‘আরে ও প্রাণের রাজা, তুমি যে আমার’সহ বহু গান তাঁকে শ্রোতাদের কাছে চিরপরিচিত করে রেখেছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বলে জানা যায়। সলো ও ডুয়েট মিলিয়ে তাঁর রয়েছে প্রায় দশটি অ্যালবাম। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সংগীত পরিচালনাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই শিল্পী।

শিল্পী পরিবারেও রেখে গেছেন উত্তরাধিকার : প্রবাল চৌধুরীর পরিবারও ছিল সংগীত ও সংস্কৃতিমনা। তাঁর ভাই-বোনদের মধ্যে কল্যাণী ঘোষ, উমা খান, স্বপন চৌধুরী, দেবী চৌধুরী ও পূর্ণিমা দাশ রয়েছেন। কল্যাণী ঘোষ ও উমা খান সংগীতাঙ্গনে সুপরিচিত।

প্রবাল চৌধুরীর স্ত্রী মীরা চৌধুরীও একজন শিল্পী। তাঁদের দুই ছেলে তাপস চৌধুরী ও রঞ্জন চৌধুরী (মানষ চৌধুরী) সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। বড় ছেলে তাপস চৌধুরী সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। ছোট ছেলে রঞ্জন চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক হলেও সংগীত ও খেলাধুলার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ও সুনাম রয়েছে।

গান থেমেছে, সুর থামেনি : ‘এই জীবন তো একদিন চলতে চলতে থেমে যাবে’—প্রবাল চৌধুরীর গাওয়া এই গানটি যেন তাঁর জীবনেরই এক অমোঘ সত্য হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৯ সালের ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে অসংখ্য শিষ্য, সহকর্মী ও শ্রোতাকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

কিন্তু কিংবদন্তি শিল্পীর চলে যাওয়া মানেই তাঁর শিল্পের সমাপ্তি নয়। বরং সময় যত গড়ায়, তাঁর গান ততই ফিরে আসে নতুন করে। তাঁর কণ্ঠের আবেগ, গায়কীর গভীরতা এবং সুরের মায়া আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

প্রবাল চৌধুরী ছিলেন একটি সময়ের কণ্ঠ, একটি প্রজন্মের আবেগ এবং বাংলা গানের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর গান আছে। আর যতদিন বাংলা গান থাকবে, ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম।

জন্মদিনে কিংবদন্তি শিল্পী প্রবাল চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

আমাদের ছিল একজন প্রবাল চৌধুরী—এমন শিল্পী সত্যিই বারবার জন্মান না তিনি ছিলেন ক্ষণজন্মা।

Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

BSPA, 14-15 (1st Floor), Bangabandhu National Stadium
Dhaka
1000